Holi 2025: কোথাও লাঠমার তো কোথাও ফুলের হোলি, দেশ জুড়ে হোলির নানা নাম ও রীতি সম্পর্কে জানুন

By Bhagysree Sarkar

Holi 2025: ভারতে প্রতিটি উৎসব অত্যন্ত আন্তরিক ও উৎসাহের মধ্যে দিয়ে উদযাপিত হয়। দোল বা হোলি উৎসবও একেবারে দোর-গোড়ায়। রঙের এই উৎসব দেশের প্রতিটি অঞ্চলে অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে পালিত হয়। এই বছর হোলি উৎসব (Holi 2025) পালিত হবে ১৪ই মার্চ। রঙ, আবির, পিচকারি, সাদা পোশাক, সুস্বাদু খাবার, মিষ্টি, ভাঙের সরবত, হই হুল্লোড়, নাচ-গান নিয়ে সারাটা দিন কাটবে। বলা চলে, হোলির দিনটা গোটা দেশের কাছেই একটু বিশেষ।

পূর্ব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণ যেদিকেই চোখ রাখবেন, সেখানেই রঙে রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে দেখবেন। তবে দেশ যখন ভারতবর্ষ (India), তখন বৈচিত্র তো থাকবেই। উত্তর ভারতের হোলির সঙ্গে দক্ষিণ ভারতের হোলির নানা আচার অনুষ্ঠানের (Various Holi rituals in India) মধ্যে রয়েছে বেশ পার্থক্য। একইভাবে পার্থক্য রয়েছে পশ্চিম ভারতের সঙ্গে পূর্ব ভারতের। তাহলে দেশের বিভিন্ন স্থানের হোলির আচার অনুষ্ঠানগুলির সঙ্গে পরিচয় করে নেওয়া যাক-

lathmar holi
  • লাঠমার হোলি - বারসানা গ্রাম, উত্তর প্রদেশ

উত্তর প্রদেশের মথুরা থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রাম। ভগবান কৃষ্ণ জন্মভূমিতে উদযাপন করা হোলি আপনাকে ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি এবং লোককাহিনীতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। হোলি এখানে খুব আকর্ষণীয় উপায়ে উদযাপন করা হয়। বারসানা গ্রামটি দেশের সুপরিচিত তীর্থস্থানগুলির মধ্যে অন্যতম। পুরাণ অনুসারে এটি রাধার জন্মস্থান। এখানে হোলি শুধু রং নয়, লাঠি দিয়েও উদযাপন করা হয়। এই গ্রামের হোলি 'লাঠমার হোলি' নামে পরিচিত। এই দিনে মহিলারা পুরুষদের সঙ্গে হোলি খেলতে লাঠি এবং বেত ব্যবহার করে। পুরুষরা লাঠি এড়াতে ঢাল ব্যবহার করে। এই অনুষ্ঠান দেখতে কাতারে কাতারে মানুষ এখানে ভিড় জমান।

  • ফুলের হোলি - বৃন্দাবন

বৃন্দাবনের মন্দির প্রাঙ্গণে এই বিশেষ হোলি উৎসব উদযাপন হয়। এখানেও খুব সুন্দরভাবে হোলি খেলা হয়। হোলির আগের একাদশীর দিন এই দিনটির উদযাপন হয় বাঁকেবিহারী মন্দিরে। এখানে ফুল দিয়ে হোলি খেলা হয়। কোনও আবির বা রঙ নয়, এমনকি রঙ গোলা জলও থাকে না এখানে। বরং ফুল দিয়েই আবির খেলা হয় বৃন্দাবন মন্দির প্রাঙ্গণে। তাই এর নাম দেওয়া হয়েছে ফুল দিয়ে হোলি।

  • শিমগা - মহারাষ্ট্র

মহারাষ্ট্রের হোলি পরিচিত শিমগা নামে। অনেকে একে রঙ পঞ্চমীও বলে থাকেন। উত্তর ভারতের মতই এখানে রীতি মেনে হোলিকা দহন করা হয়। তবে মহারাষ্ট্রের এই হোলির বিশেষত্ব রঙের ব্য়বহারে। হোলিকা দহনের পর দিন রঙ পঞ্চমীর দিন রঙের খেলা তুঙ্গে ওঠে। হোলির এই দিনটির উদযাপনের জন্য অপেক্ষায় থাকেন সকল মারাঠারা।

  • ফাকুয়া - অসম

ঝাড়খন্ড বিহারের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হোলির উৎসবের নাম ফাকুয়া। তবে বাংলার দোলযাত্রার সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে অসমের আবির উৎসবের। বাংলার মতই দুই দিন ধরে দোল উদযাপন করা হয়। প্রথম দিন হোলিকা দহন উৎসব পালন করা হয়। অর্থাৎ ন্যাড়াপোড়া। এরপর দিন রঙ আর আবির নিয়ে তুমুল খেলা।

  • হোলা মহল্লা - পঞ্জাব

হোলির দিন থেকেই বছর শুরু হয় শিখদের। নববর্ষ উপলক্ষে এই দিনটি বিশেষভাবে হোলি উৎসব উদযাপন হয়। হোলির দিন পঞ্জাবের নিহঙ্গ শিখরা পালন করেন হোল্লা মহল্লা অনুষ্ঠান। দশম শিখ গুরু, গুরু গোবিন্দ সিং এই পরবের সূচনা করেন। এই হোল্লা মহল্লা যোদ্ধাদের হোলি নামেও পরিচিত।এই দিন কুস্তি, মার্শাল আর্ট, তরোয়াল খেলা সহ নানা শক্তি প্রদর্শনী খেলায় অংশ নেন নিহঙ্গ শিখরা। এছাড়াও এদিন অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ সহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন শিখরা। তারপর হয় রঙের পরব হোলি উদযাপন।

  • বসন্তোৎসব - পশ্চিমবঙ্গ

এবার আসা যাক বসন্তোৎসবে। নাম বাংলার হলেও গোটা বাংলার থেকে এই রং খেলার ধরন আলাদা। কারণ এখানে রং বলতে শুধুই আবির। দোলযাত্রা উৎসব শান্তিনিকেতনে বসন্তোৎসব নামে পরিচিত। অতীতে শান্তিনিকেতনের বিদ্যালয়ে বসন্তের আগমন উপলক্ষে একটি ছোটো ঘরোয়া অনুষ্ঠানে নাচগান, আবৃত্তি ও নাট্যাভিনয় করা হত। পরবর্তীকালে এই অনুষ্ঠানটি পরিব্যপ্ত হয়ে শান্তিনিকেতনের অন্যতম জনপ্রিয় উৎসব বসন্তোৎসবের আকার নেয়। উৎসবের উদযাপনে বড় ভূমিকা থাকে প্রকৃতির। রবীন্দ্রনাথের হাত ধরেই এই হোলি খেলার সূচনা হয় বীরভূমের শান্তিনিকেতনে। দোলের দিন সকালে ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল গানটির মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

Story first published: Monday, March 10, 2025, 20:10 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion