আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০১৯ : এই দিবসের থিম ও তাৎপর্য

আজ, ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। প্রতিবছর ১ অক্টোবর পালন করা হয় এইদিনটি। ১৯৯০ সালে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিবছর ১ অক্টোবর এই দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রবীণদের সুরক্ষা এবং অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি বার্ধক্যের বিষয়ে বিশ্বব্যাপী গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৯১ সাল থেকে এই দিবসটি পালন করা শুরু হয়। এ বছর এই দিবসের থিম হচ্ছে 'বয়সের সমতার পথে যাত্রা।'

International Day of Older Persons significance

এই দিবসে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় র‍্যালি, নানান কর্মসূচি, আলোচনা সভা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভারতীয় আইনানুসারে, যেসব ভারতীয় নাগরিকের বয়স ষাট বছর বা তার বেশি তাঁরাই প্রবীণ নাগরিক। দেখা গেছে, বেশিরভাগ প্রবীণ নাগকরিকরাই একা বসবাস করেন। এবং ৯০ শতাংশ প্রবীণ নাগরিককেই বেঁচে থাকার জন্য‌ কাজ করতে হয়।

ভারত সরকারের 'পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রক' প্রকাশিত 'সিচুয়েশন অ্যানালিসিস অফ দ্য এলডারলি ইন ইন্ডিয়া' রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০১ সালে দেশের মোট জনসংখ্যার ৭.১ শতাংশই ছিলেন প্রবীণ নাগরিক।

প্রবীণ ব্য‌ক্তিদের জন্য‌ ভারত সরকার ১৯৯৯ সালে জাতীয় প্রকল্প ঘোষণা করেছে। এই বছরটিকে আন্তজার্তিক প্রবীণ বর্ষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ওই বছর রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী ভারত সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অন্য‌তম লক্ষ্য‌ হল, সংবিধানে প্রদত্ত অধিকারগুলি প্রবীণদের জন্য‌ সুরক্ষিত করা। সংবিধানের ৪১ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রবীণ নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বলা হয়েছে - 'রাষ্ট্র তার উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার মধ্যে থেকে প্রবীণদের ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য পাওয়ার সুনিশ্চিত করতে কার্যকর ব্য‌বস্থা নেবে।' সমতার অধিকারকে সংবিধানে মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়টি কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

সমাজে প্রবীণদের গুরুত্বের কথা মনে, আজকের একক পরিবারে তাঁদের একাকিত্ব দূর করতে আমাদের সকলের উচিত তাঁদের প্রতি সহমর্মী হওয়া এবং তাঁদের সমস্যা বুঝে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো। আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস সেই দায়িত্ববোধের কথা মনে করিয়ে দেয়।

Story first published: Tuesday, October 1, 2019, 11:58 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion