ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সুনকের হাতে ব্রিটেনের রাশ! জেনে নিন তাঁর সম্পর্কে নানা তথ্য

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসতে চলেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সুনক। সে দেশের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন ৪২ বছরের ঋষি। তিনিই হবেন প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত, যিনি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর মসনদে বসবেন। আগামী ২৮ অক্টোবর, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিতে চলেছেন ঋষি। কে এই ঋষি সুনক? আসুন জেনে নেওয়া যাকে তাঁর সম্বন্ধে নানা তথ্য।

facts about Rishi Sunak

ঋষি সুনক সম্পর্কে তথ্য

১) ১৯৮০ সালের ১২ মে ইংল্যান্ডের সাউথাম্পটন এলাকায় এক ভারতীয় পরিবারে জন্মেছিলেন ঋষি সুনক। বাবা ছিলেন চিকিৎসক। মায়ের ওষুধের ব্যবসা। ঋষির পূর্বপুরুষেরা ছিলেন ব্রিটিশ-শাসিত ভারতের পঞ্জাব প্রদেশের বাসিন্দা। স্বচ্ছন্দ জীবিকার খোঁজে তাঁরা পূর্ব আফ্রিকায় পাড়ি দেন। কিন্তু পরে তাঁরা চলে আসেন ব্রিটেনে।

২) হ্যাম্পশায়ার ও উইনচেস্টার কলেজে স্কুল জীবন শেষ করেন। অক্সফোর্ডের লিঙ্কন কলেজ থেকে ২০০১ সালে স্নাতক হন তিনি। দর্শন, রাজনীতি এবং অর্থনীতি বিষয়ে কলেজ জীবন শেষ করেন। এর পর, ২০০৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ পড়েন।

৩) স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতেই স্ত্রী অক্ষতা মূর্তির সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম আইটি সংস্থা ইনফোসিসের প্রতিষ্ঠাতা এন আর নারায়ণ মূর্তির কন্যা হলেন অক্ষতা মূর্তি। ২০০৯ সালে বেঙ্গালুরুতে অক্ষতার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ঋষি।

৪) স্ত্রী অক্ষতা, দুই কন্যা কৃষ্ণা ও অনুষ্কা এবং পোষ্য নোভাকে নিয়েই সুখের সংসার ঋষির। এখন ব্রিটেনের বিত্তবানদের মধ্যে অন্যতম ঋষি। সুনক দম্পতির মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৭৩০ মিলিয়ন পাউন্ড, ভারতীয় মুদ্রায় যা ৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকারও বেশি।

৫) ২০১৪ সালে রাজনীতিতে পা রাখেন ঋষি। সে বছর অক্টোবরে রিচমন্ড থেকে কনজারভেটিভ পার্টির হয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন।

৬) ২০১৫ সালে MP নির্বাচিত হওয়ার পর, সাংসদ হিসেবে ভগবত গীতা ছুঁয়ে শপথ নিয়ে ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি।

৭) বরিস জনসনের সরকারের সময় তাঁর গুরুত্ব আরও বাড়ে। অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান ঋষি। বরিসের হয়ে, 'ইরোপিয়ান ইউনিয়ন' থেকে বেরিয়ে আসা অর্থাৎ, 'ব্রেক্সিটে'র পক্ষে প্রচারও করেছিলেন ঋষি সুনক।

৮) কোভিড-১৯ মহামারির সময় ব্রিটেনের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করার জন্য তিনি যে নীতি গ্রহণ করেছিলেন, তা উচ্চ প্রশংসিত হয়েছিল। ২০২০ সালে করোনা মহামারীর সময় যখন আর্থিক মন্দা তৈরি হয়েছিল, তখন কর্মচারীদের সাহায্য করার জন্য কয়েক বিলিয়ন পাউন্ডের একটি প্যাকেজ তৈরি করেছিলেন ঋষি।

৯) ঋষি আবার বিভিন্ন সময়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন। যে সব ব্যক্তি ব্রিটেনের বাইরের বাসিন্দা কিন্তু পেশা সূত্রে ব্রিটেনে রয়েছেন, তাঁদেরকে সে দেশের সরকারকে একটি বিশেষ কর দিতে হয়। সেই কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল ঋষি-ঘরনি অক্ষতার বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, অক্ষতার সম্পত্তির পরিমাণ, রানি এলিজাবেথের চেয়েও নাকি বেশি।

X
Desktop Bottom Promotion