জন্মাষ্টমী দিন ভগবান কৃষ্ণের মন জয় করতে বিভিন্ন রাশির জাতকদের কী কী নিয়ম মেনে পুজো করতে হবে?

জন্মাষ্টমীর দিন বাড়িতে বিশেষ পুজোর আয়োজন করলে দেব এতটাই প্রসন্ন হন যে ভক্তের মনের সব ইচ্ছা পূরণ হতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে মেলে আরও নানা ফল। যেমন ধরুন...

আর এক দিন পরেই জন্মাষ্টমী। এদিনই ভগবান কৃষ্ণ, পাপের অত্যাচার থেকে আমাদের মুক্তি দিতে ধরাধামে এসেছিলেন। তাই তো এই বিশেষ দিনে সারা দেশ জুড়ে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়ে থাকে। ফুল-মালায় সেজে ওঠেন দেব, আর মন্ত্র ধ্বনিতে জাগরিত হয় সারা বিশ্ব। শুধু কি তাই, এদিন সপ্রাণে ভক্তদের মাঝে বিরাজ করেন সর্বশক্তিমান। তাই তো জন্মাষ্টমীর দিন বাড়িতে বিশেষ পুজোর আয়োজন করলে দেব এতটাই প্রসন্ন হন যে ভক্তের মনের সব ইচ্ছা পূরণ হতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে মেলে আরও নানা ফল। যেমন ধরুন...

১. মানসিক অশান্তি দূর হয়:

১. মানসিক অশান্তি দূর হয়:

আজকের দিনে প্রায় সবারই জীবন নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। ফলে মনের শান্তি যেন আজ দূরের কোনও বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভাল থাকার পথ দেখাতে পারেন একমাত্র শ্রী কৃষ্ণ। আসলে এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে জন্মাষ্টমীর দিন দেবের আরাধনা করলে মন শান্ত হয়, সেই সঙ্গে শরীর এবং মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে যে কোনও ধরনের সমস্যার সমাধান বার করতে একেবারেই সময় লাগে না। আর যদি একবার আমরা আমাদের আশেপাশের সব সমস্যাকে কমিয়ে ফেলতে পারি, তাহলে জীবনে সুখ ছাড়া আর কিই বা থাকে বলুন!

২. বৈবাহিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটে:

২. বৈবাহিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটে:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে এদিন এক মনে "নমো ভগবতে শ্রী গবিন্দায় নমহঃ", এই মন্ত্রটি ১০৮ বার জপ করার মধ্য়ে দিয়ে দেবের অরাধনা করলে মনের মতো জীবনসঙ্গী পাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়, সেই সঙ্গে বৈবাহিক জীবনে কোনও ধরনের সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

৩. অনেক অনেক টাকার মালিক হয়ে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হয়:

৩. অনেক অনেক টাকার মালিক হয়ে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হয়:

এমন স্বপ্ন যদি দেখে থাকেন, তাহলে জন্মাষ্টমীর দিন যত্ন সহকারে বাল গোপালের আরাধনা করুন, যার হাতে লাডডু রয়েছে। আসলে এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে এই বিশেষ দিনে বাল গোপালের এমন মূর্তির স্থাপন করে যদি পুজো করা যায়, তহলে দারুন উপকার মেলে। প্রসঙ্গত, পুজো করার সময় "ওম সাম কে ক্লিম কৃষ্ণায়া নমহ!", এই মন্ত্রটি পাঠ ভুলবেন না যেন। কারণ এমনটা তরলে ফল পাবেন আরও দ্রুতো।

৪. শরীর রোগমুক্ত হয়:

৪. শরীর রোগমুক্ত হয়:

আজকের দিনে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই একজন করে সদস্য হয় ডায়াবেটিস, নয়তো উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, নয়তো হার্টের রোগের শিকার। সেই সঙ্গে মানসিক চাপের কারণে নানা রোগের খপ্পরে পরার ঘটনা তো আখছারই ঘঠছে। এমন পরিস্থিতিতে সুস্থভাবে বাঁচতে শ্রী কৃষ্ণ মাখন খাচ্ছেন এমন ছবি বা মূর্তি প্রতিষ্টিত করে বিশেষ পুজোর আয়োজন করুন, দেখবেন রোগমুক্ত, সুস্থ শরীরের অধিকারী হয়ে উঠতে সময় লাগবে না। প্রসঙ্গত, দেবের পুজো করার সময় "ওম হাম হোম হাম কৃষ্ণায়া নমহ", এই মন্ত্রটি জপ করলে দ্রুত উপকার মিলবে।

৫. সুখের সন্ধান মেলে:

৫. সুখের সন্ধান মেলে:

জন্মাষ্টমীর দিন শ্রী কৃষ্ণ বাঁশি বাজাচ্ছেন, এমন ছবি বা মূর্তির পুজো করুন। সেই সঙ্গে পাঠ করুন "ওম শ্রী কৃষ্ণ ক্লিম নামাহ" মন্ত্রটি। দেখবেন সুফল মিলবে চোখের পলকে। আসলে এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে নিয়মিত এইসব নিয়মগুলি মেনে যদি গোপালের পুজো করা যায়, তহালে সুখের ঝাঁপি তো ভরে ওঠেই। সেই সঙ্গে সফলতাও রোজের সঙ্গী হয়ে ওঠে।

৬. টাকা-পয়সা সংক্রান্ত সব সমস্যা মিটে যায়:

৬. টাকা-পয়সা সংক্রান্ত সব সমস্যা মিটে যায়:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে এই বিশেষ দিনে দেবের আরাধনা করা যায়, তাহলে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যা মিটে যেতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে ধার-দেনার জাল থেকেও মুক্তি মেলে।

এখন প্রশ্ন হল, এইসব উপকার পেতে রাশি অনুসারে কী কী নিয়ম মেনে করতে হবে দেবের পুজো?

১. মেষরাশি:

১. মেষরাশি:

বিশেষজ্ঞদের মতে এই রাশির জাতক-জাতিকারা যদি এদিন দেবের অরাধনা করার পাশাপাশি গরুকে মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়ান, তাহলে দেব বেজায় প্রসন্ন হন। ফলে নানাবিধ উপকার মিলতে সময় লাগে না।

২. বৃষরাশি:

২. বৃষরাশি:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে এই রাশির অধিকারীরা যদি দুধ দিয়ে বানানো কোনও পদ এবং রসগোল্লা দেবকে নিবেদন করে বিশেষ পুজোর আয়োজন করেন, তাহলে বেজায় সুফল মলে। আর যদি পুজো করার সময় "ওম বাসুদেবায় নমহঃ", এই মন্ত্রটি জপ করা যায়, তাহলে তো কথাই নেই!

৩. মিথুনরাশি:

৩. মিথুনরাশি:

"ওম গোবিন্দায় নমহ", এই মন্ত্রটি জপ করার মধ্যে দিয়ে দেবের অরাধনা করতে হবে এবং শ্রী কৃষ্ণকে নিবেদন করতে হবে মিছরি দিয়ে বানানো ভোগ। সেই সঙ্গে যদি গরুকে ঘাস বা পালং শাক খাওয়াতে পারেন, তাহলে আরও বেশি মাত্রায় উপকার মেলার সম্ভাবনা থাকে।

৪. কর্কটরাশি:

৪. কর্কটরাশি:

বিশেষজ্ঞদের মতে এই রাশির জাতক-জাতিকারা জন্মাষ্টমীর দিন যদি অল্প পরিমাণ আটায় মধ্যে মিছরি মিশিয়ে দেবকে নিবেদন করেন, তাহলে সর্বশক্তিমান বেজায় প্রসন্ন হন। ফলে জীবন আনন্দে ভরে উঠতে সময় লাগে না।

৫. সিংহরাশি:

৫. সিংহরাশি:

জন্মাষ্টমীর দিন কি বিশেষ পুজোর আয়োজন করার কথা ভাবছেন? তাহলে বন্ধু, ভগবান কৃষ্ণকে পোলাও, তার সঙ্গে গুড় এবং ফল নিবেদন করতে ভুলবেন না যেন! সেই সঙ্গে এক মনে জপ করতে হবে কৃষ্ণ মন্ত্র। তাহলেই দেখবেন কেল্লাফতে!

৬. কন্যারাশি:

৬. কন্যারাশি:

ভগবান কৃষ্ণের আশীর্বাদ থেকে যদি বঞ্চিত হতে না চান, তাহলে এই বিশেষ দিনে কেসর দুধ নিবেদন করতে ভুলবেন না যেন! সেই সঙ্গে যদি মিছরির ভোগ চড়াতে পারেন, তাহলে তো কাথাই নেই!

৭. তুলারাশি:

৭. তুলারাশি:

জন্মাষ্টমির দিন তুলারাশির জাতক-জাতিকাদের যদি শ্রী কৃষ্ণের মন জয় করতে হয়, তাহলে পাঁচ ধরনের ফল নিবেদন করতে হবে, সেই সঙ্গে গরুকে ভাত খাওয়ালে দেখবেন দেব এতটাই প্রসন্ন হবেন যে জীবনের ছবিটা বদলে যেতে সময় লাগবে না।

৮. বৃশ্চিকরাশি:

৮. বৃশ্চিকরাশি:

ভগবান কৃষ্ণের মন জয় করতে এদিন আপনাদের গরুকে আটার রুটি খাওয়াতে হবে, সেই সঙ্গে পোলাও ভোগ চড়ালে দেখবেন সর্বশক্তিমানের আশীর্বাদে আপনার মনের সব ইচ্ছা পূরণ হবে চোখের পলকে।

৯. ধনুরাশি:

৯. ধনুরাশি:

"ওম শ্রী দেব কৃষ্ণায় নমহ", এই মন্ত্রটি জপ করার মধ্যে দিয়ে দেবের অরাধনা করার পাশাপাশি ধনুরাশির জাতক-জাতিকারা যদি শ্রী কৃষ্ণকে সুজির ভোগ চড়াতে পারেন, তাহলে দারুন সব ফল পেতে সময় লাগে না।

১০. মকররাশি:

১০. মকররাশি:

জন্মাষ্টমীর দিন দেবের পুজোর আয়োজন করলে বাসুদেবকে চানা ডালের ভোগ নিবেদন করতে হবে। সেই সঙ্গে দেবের মন জয় করতে "ওম নারায়ন সুরাসিন্ধে নমহ", এই মন্ত্রটি জপ করতে ভুলবেন না যেন!

১১. কুম্ভরাশি:

১১. কুম্ভরাশি:

"ওম লিলা ধরায় নমহ", এই মন্ত্রটি এক মনে ১০৮ বার জপ করার পাশাপাশি শ্রী কৃষ্ণকে লুচি এবং সুজির ভোগ চড়ান, তাহলেই দেখবেন দেবের আশীর্বাদে মনের সব ইচ্ছা পূরণ হতে সময় লাগবে না।

১২. মীনরাশি:

১২. মীনরাশি:

জন্মাষ্টমীর দিন যদি বিশেষ পুজোর আয়োজন করার কথা ভেবে থাকেন, তাহলে এদিন দেবের মূর্তি বা ছবির সামনে হলুদ কাপড়, কলা, জিলিপি এবং লাড্ডু রেখে পুজো করতে ভুলবেন না যেন! সেই সঙ্গে ছোট বাচ্চাদের বাঁশি উপহার হিসেবেও দিতে হবে। এমনটা করলে দেখবেন মন চাঙ্গা হয়ে উঠেছে, সেই সঙ্গে ভগবানের আশীর্বাদে কর্মক্ষেত্র থেকে সামাজিক জীবন, সবক্ষেত্রেই সম্মান বৃদ্ধি পাবে চোখে পরার মতো।

X
Desktop Bottom Promotion