আপনি কি মাঙ্গলিক? তাহলে কিন্তু সাবধান!

জ্যোতিষশাস্ত্রে যদি বিশ্বাস থাকে তাহলে মঙ্গল দোষ সম্পর্কে তো শুনেই থাকবেন। কিন্তু কী এই মঙ্গল দোষ এবং যাদের এই দোষ থাকে তাদের জীবনে কী কী বাঁধা আসতে পারা সে সম্পর্কে জানা আছে কি?

By Nayan

জ্যোতিষশাস্ত্রে যদি বিশ্বাস থাকে তাহলে মঙ্গল দোষ সম্পর্কে তো শুনেই থাকবেন। কিন্তু কী এই মঙ্গল দোষ এবং যাদের এই দোষ থাকে তাদের জীবনে কী কী বাঁধা আসতে পারা সে সম্পর্কে জানা আছে কি?

শাস্ত্র মতে যে ব্যক্তির কুষ্টিতে মঙ্গলের অবস্থান ঠিক থাকে না তাদের কেই মূলত মাঙ্গলিক বলা হয়ে থাকে। এখন প্রশ্ন হল বুঝবেন কীভাবে যে আপনি মাঙ্গলিক কিনা? এক্ষেত্রে একজন দক্ষ জ্যোতিষীর সাহায্য নিতে হবে। তিনি জন্মের সময় এবং দিন দেখে বলে দেবেন আপনার কুষ্টিতে মঙ্গলের অবস্থান কোন ঘরে। যদি দেখেন মঙ্গল রযেছে প্রথম, চতুর্থ, সপ্তম, অষ্ঠম অথবা বারোতম ঘরে, তাহলে জানবেন আপনি মঙ্গল দোষের শিকার। প্রসঙ্গত, যাদের সপ্তম ঘরে মঙ্গল এবং শনি, উভয়ই অবস্থান করে, তাদের তো বেশি চিন্তার বিষয়।

এখন প্রশ্ন হল যারা মঙ্গল দোষের শিকার, তাদের কী কী ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে?

১. প্রথম ঘরে থাকলে:

১. প্রথম ঘরে থাকলে:

যাদের কুষ্টির প্রথম ঘরে মঙ্গলের অবস্থান, তাদের বৈবাহিক জীবন একেবারে ভাল যায় না। এমনকী বিবাহ বিচ্ছেদেরও আশঙ্কা থাকে। এখানেই শেষ নয়, এই বিষয়ে লেখা একাধিক প্রাচীন পুঁথি অনুসারে মঙ্গল প্রথম ঘরে থাকার অর্থ হল মানসিক চাপ এবং ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়া। তাই তো এই বিষয়গুলি মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করুন। না হলে কিন্তু বেজায় বিপদ!

২. দ্বিতীয় ঘরে থাকলে:

২. দ্বিতীয় ঘরে থাকলে:

এক্ষেত্রে পরিবারিক এবং কর্মজীবনে নানা বাঁধার সম্মুখিন হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। ফলে শান্তি দূরে পালায়। সেই সঙ্গে জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠতেও সময় লাগে না।

৩. চতুর্থ ঘরে থাকলে:

৩. চতুর্থ ঘরে থাকলে:

বিশেষজ্ঞদের মতে কারও জন্ম কুষ্টির চতুর্থ ঘরে যদি মঙ্গলের অবস্থান হয়, তাহলে তার কর্মজীবনের উপর খারাপ প্রভাব পরে। ফলে কোনও একটি কাজে টিকে থাকার সম্ভাবনা কমে। সেই সঙ্গে চাকরি জীবনে নানা বাঁধার সম্মুখিন হতে হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রফেশনাল গ্রোথ ধিমে গতিতে হতে থাকে।

৪. সপ্তম ঘরে থাকলে:

৪. সপ্তম ঘরে থাকলে:

এই ঘরে থাকা মানে বেজায় বিপদ কিন্তু! কারণ শাস্ত্র মতে সপ্তম ঘরে মঙ্গল থাকার অর্থ হল জাতক কথায় কথায় মাথা গরম করে ফেলবেন। আর রাগ যে বেজায় সুখি জীবনের পরিপন্থি, তা নিশ্চয় আর বলে দিতে হবে না! প্রসঙ্গত, এমন মানুষেরা খুব ডমিনেটিং স্বভাবেরও হয়ে থাকেন। অন্যের মত শোনা তো দূর, তাদের কথার যে কোনও গুরুত্ব রয়েছে, তা মেনে নিতেও এরা অপারক। এই কারণেই তো এদের সঙ্গে কারওই সম্পর্ক ভাল থাকে না। তাই ঘরে-বাইরে এরা বড়ই একা হয়ে পরে।

৫. অষ্ঠম ঘর:

৫. অষ্ঠম ঘর:

যাদের কুষ্টিতে মঙ্গলের অবস্থান আট নম্বর ঘরে থাকে, তারা বড়ই অলস হন। কোনও কাজই এরা মন দিয়ে করতে চান না। ফলে সফলতা এদের থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করেন। তবে এখানেই শেষ নয়, এমন জাতক-জাতিকাদের সঙ্গে বাবা-মার সম্পর্কও ভাল থাকে না। ফলে পারিবারিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে প্রবল।

৬. ১২তম ঘর:

৬. ১২তম ঘর:

এমনটা হল নানা কারণে প্রতিপক্ষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে নানা ধরনের অর্থনৈতিক বাঁধার সম্মুখিন হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। আর এমনটা হলে স্বাভাবিকভাবেই সুখ-শান্তি দূরে পালায়। এখানেই শেষ নয়, কুষ্টির ১২তম ঘরে মঙ্গলের অবস্থান হলে বৈবাহিত জীবনেও নানা সমস্যার লম্মুখিন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই কারণেই তো মাঙ্গলিকদের বিয়ের আগে অশ্বত্থ গাছ বা কলা গাছের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। যেমনটা ঐশ্বর্য রায়ের ক্ষেত্রে করা হয়েছিল। আসলে এমনটা করলে মঙ্গল দোষের প্রভাব কেটে যেতে সময় লাগে না। ফলে খারাপ কিছু ঘটার আশঙ্কা কমে। প্রসঙ্গত, কিছু ক্ষেত্রে বেশি কিছু স্টোন নিলেও পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়। তাই প্রয়োজন মনে করলে একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে দেখতে পারেন কিন্তু!

Story first published: Saturday, February 24, 2018, 15:32 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion