আম্ফান, নিসর্গ, আয়লা...জেনে নিন কীভাবে ঘুর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়

সাগর এবং মহাসাগর থেকে ঘূর্ণিঝড় ও তুফানের সৃষ্টি হয়। এর থাবা যেখানেই পড়ে, সেখানেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সম্প্রতি, 'আম্ফান' নামক ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডব শেষ হতে না হতেই 'নিসর্গ' নামক একটি ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ে সমুদ্র উপকূলে। পরপর দুটি ঝড়ের জেরে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।

How Cyclones Get It’s Unique Names?

প্রাকৃতিক নিয়মে ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন একের পর এর আসতেই থাকবে, তবে সৌভাগ্যক্রমে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সাহায্যে, আগে থেকেই মানুষের কাছে বিপদের পূর্বাভাস পৌঁছানোর ফলে কিছুটা হলেও ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয়। প্রতিটি ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণও বেশ আকর্ষণীয়। কিন্তু, ঘুর্ণিঝড়ের নামকরণ কে করে? কীভাবে হয় নামকরণ? আর নাম রাখার পেছনের কারণ কী? আসুন এই সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

নামকরণের শুরু

নামকরণের শুরু

১৯০০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ঘূর্ণিঝড়ের নাম মেয়েদের নামের উপর ভিত্তি করে রাখা হত। ১৯৫৩ সাল থেকে, মায়ামির জাতীয় হ্যারিকেন সেন্টারের উদ্যোগে আটলান্টিক অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুরু হয়। এরপরে জাতিসংঘের একটি ইউনিট ওয়ার্ল্ড মিটিওরোলজিকাল অর্গানাইজেশন (World Meteorological Organization), Tropical Cyclone Committees -এর বৈঠক ডাকে এবং ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের জন্য একটি তালিকা প্রস্তুত করে। ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে জন্ম নেওয়া ঘূর্ণিঝড়গুলির নামকরণ করা হত না, কারণ তারা আশঙ্কা করেছিল যে সংস্কৃতিক ও ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল এই অঞ্চলগুলিতে কোনও বিরোধ দেখা দিতে পারে।

ভারতীয় উপমহাদেশে নামকরণ

ভারতীয় উপমহাদেশে নামকরণ

২০০০ সালে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (World Meteorological Organisation) এবং এসক্যাপ (United Nations Economic and Social Commission for Asia and the Pacific বা ESCAP) এর অধীনস্থ আটটি দেশ - ভারত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, এবং থাইল্যান্ড - সিদ্ধান্ত নেয় যে এই অঞ্চলের সাইক্লোনের নামকরণ করবে তারা। এর দায়িত্ব Regional Specialised Meteorological Centres (RSMC)-কে দেওয়া হয়।

ভারত মহাসাগর, আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ প্রতিটি সদস্য দেশ তাদের নামের তালিকা পাঠানোর পর তা চূড়ান্ত করে একটি WMO/ESCAP প্যানেল, যার পোশাকি নাম প্যানেল অন ট্রপিক্যাল সাইক্লোনস্ (PTC)। ২০১৮ সালে WMO/ESCAP দলে প্রবেশ করে আরও পাঁচটি দেশ - ইরান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইয়েমেন।

সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ছয়টি আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রই (regional specialised meteorological centres বা RSMC) পৃথিবীর যেকোনও মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাইক্লোনের নামকরণ করে, যার মধ্যেই পড়ে IMD (India Meteorological Department), এবং পাঁচটি ট্রপিক্যাল সাইক্লোন সতর্কতা কেন্দ্র (Tropical Cyclone Warning Centres বা TCWC)।

কীভাবে নামকরণ হয়?

কীভাবে নামকরণ হয়?

প্রথমে আটটি দেশ ছিল, যারা মোট ৬৪টি নাম অনুমোদিত করেছিল। এখন ১৩টি দেশ আছে, প্রতিটি দেশ ১৩টি করে নাম দিয়েছে অর্থাৎ এখন ১৬৯টি নাম আছে। এই দেশগুলিকে বর্ণানুক্রমিকভাবে স্থাপন করে তাদের সামনে প্রস্তাবিত ১৩টি নাম রাখা হয়। এরপরে যখনই ঘুর্ণিঝড় এই ১৩টি দেশের যেকোনও জায়গায় আসবে তখন বর্ণানুক্রমিকভাবে যেই দেশের ক্রম আসবে তার সামনে থেকে ঝড়ের জন্য একটি নাম বেছে নেওয়া হয়। 'আম্ফান' পুরোনো লিস্টের একটি শেষ নাম, যেটা থাইল্যান্ড দিয়েছিল। এরপর ছিল বাংলাদেশের পালা, সেইমতো 'নিসর্গ' নামটি বাংলাদেশের দেওয়া।

নামকরণ কেন প্রয়োজন?

নামকরণ কেন প্রয়োজন?

ঝড়ের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত নাম, সাধারণ মানুষের বুঝতে সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও, মিডিয়ার পক্ষে ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কিত তথ্য দিতেও সমস্যা হতে পারে। তাই, একটি ছোটো নাম রাখা হয়, যাতে মানুষ ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কিত তথ্য এবং সতর্কতাগুলি সহজেই বুঝতে পারে।

স্টর্ম এবং সাইক্লোনের মধ্যে পার্থক্য

স্টর্ম এবং সাইক্লোনের মধ্যে পার্থক্য

যখন হাওয়া ৬৩ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে প্রবাহিত হয়, তখন তাকে ট্রপিকাল স্টর্ম বলা হয়। যখন এর গতি প্রতি ঘন্টা ১১৯ কিলোমিটারেরও বেশি হয়, তখন তাকে ট্রপিকাল সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় বলা হয়।

Story first published: Saturday, June 6, 2020, 18:15 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion