সাবধান: সোনার গয়না পরার সময় এই বিষয়গুলি মাথায় না রাখলে কিন্তু মারাত্মক বিপদ হতে পারে!

Subscribe to Boldsky

ভারতীয়দের মধ্যে বিভিন্ন ধাতু দিয়ে তৈরি গয়না পরার রেওয়াজ সেই হাজার বছর ধরে চলে আসছে। বিশেষত সোনার গয়নার জনপ্রিয়তা তো আকাশ ছোঁয়া। কিন্তু ভয়ের বিষয় হল অনেকেই সোনার গয়না পরার সময় কী কী নিয়ম মেনে চলা উচিত, সে সম্পর্কে খোঁজ রাখেন না। ফলে নানাবিধ বিপদ ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা যায় বেড়ে।

আসলে জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞদের মতে প্রায় প্রতিটি ধাতুই নানাভাবে আমাদের শরীর এবং মস্তিষ্কের উপর প্রভাব ফেলে থাকে। সেই প্রভাবে কখনও ভাল হয়, তো অনেক সময় অপকার হতেও সময় লাগে না। তবে সোনার গয়না পরলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নানা উপকারই পাওয়া যায়। কারণ সোনা হল এমন একটি ধাতু যা শরীরের উপর সুপ্রভাব ফেলে থাকে। ফলে একাধিক রোগ-ব্যাধি যেমন দূরে পালায়, তেমনি আরও নানা সব উপকার পাওয়া যায়, যে সম্পর্কে এই প্রবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তবে তার আগে এই লেখায় বেশ কতগুলি নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, সেগুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। কারণ এই নিয়মগুলি না মেনে যদি সোনার গয়না পরেন, তাহলে উপকার তো হয়ই না, উল্টে খারাপ শক্তির প্রভাব বেড়ে যাওয়ার কারণে নানাবিধ ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যায় বেড়ে।

প্রসঙ্গত, সোনার গয়না পরার সময় যে যে বিষয়গুলি মাথায় রাখা একান্ত প্রয়োজন, সেগুলি হল...

১. ভাবী মা এবং সোনার গয়না:

১. ভাবী মা এবং সোনার গয়না:

বিশেষজ্ঞদের মতে প্রেগন্যান্ট মহিলাদের ভুলেও মাত্রাতিরিক্ত হারে সোনার গয়না পরা উচিত নয়। কারণ এই ধাতুটি শরীরের সংস্পর্শে আসা মাত্র শরীরর অন্দরের তাপমাত্রাকে বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে শরীররে সচলতাও বৃদ্ধি পায়, যা এই সময় যে কানও ধরনের বিপদকে ডেকে আনতে পারে। তাই তো প্রসবের আগে একটা সোনার চেন বা দুল পরা যেতেই পারে। কিন্তু ভারি ভারি সোনার গয়না পরা মোটেও চলবে না কিন্তু!

২. সোনার গয়না রাখার নিয়ম:

২. সোনার গয়না রাখার নিয়ম:

বাড়িতে কীভাবে সোনার গয়না রাখেন? কোনও বক্সে নিশ্চয়? বন্ধু এবার থেকে সেই বক্সে লাল, হলুদ অথবা কমলা রঙের কাপড় রেখে তারপর গয়নাগুলি রাখুন। আসলে এমনটা বিশ্বাস করা হয় য়ে এই নিয়মটি মেনে গয়না রাখলে পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগে। সেই সঙ্গে মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদে অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটতেও সময় লাগে না।

৩. কোমরে ভুল করেও না:

৩. কোমরে ভুল করেও না:

খেয়াল করে দেখবেন অনেক মেয়েরাই কোমরে সোনার বিছে পরে থাকেন। তাতে সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় ঠিকই। কিন্ত এমনটা করাতে শরীরের এই অংশে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে নানাবিধ পেটের রোগ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা যায় বেড়ে। তাই তো বলি বন্ধু, সারাক্ষণ কোমরে সোনার গয়না পরে থাকার ভুল কাজটি করবেন না যেন!

৪. বৈবাহিক জীবনকে অনন্দে ভরিয়ে তুলতে:

৪. বৈবাহিক জীবনকে অনন্দে ভরিয়ে তুলতে:

বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে তর্জনীতে সোনার আংটি এবং গলায় সোনার চেন পরলে গৃহস্থের অন্দরে পজেটিভ শক্তির মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কের উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে পরিবারে কোনও ধরনের কলহ বা মনোমালিন্য মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

৫. গিফ্ট হিসেবে সোনার গয়না:

৫. গিফ্ট হিসেবে সোনার গয়না:

সোনার রুলিং প্ল্যানেট হল বৃহস্পতি এবং সূর্য। তাই তো জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞদের মতে সোনার গয়না বা কয়েন গিফ্ট হিসেবে শিক্ষক, গুরু, বাবা-মা অথবা ব্রাহ্মণদের যেমন দিতে পারেন, তেমনি নিতেও পারেন। কিন্তু ভুলেও সোনার কিছু আপনার প্রতিপক্ষের হাত থেকে নেবেন না যেন! কারণ আপনার যারা ক্ষতি চায়, তাদের হাত থেকে সোনার কোনও কিছু উপহার হিসেবে নিলে এই দুই গ্রহ-নক্ষত্র বিগড়ে যায়। ফলে নানাবিধ বিপদ ঘটার আশঙ্কা যায় বেড়ে।

৬. লোহার ব্যবসার সঙ্গে যারা যুক্ত আছেন:

৬. লোহার ব্যবসার সঙ্গে যারা যুক্ত আছেন:

লোহার সামগ্রী সম্পর্কিত ব্যবসা যারা করেন অথবা যাদের কর্মক্ষেত্রে লোহাকে কাজে লাগাতে হয়, তারা যদি নিজের ভাল চান, তাহলে ভুলেও সোনার গয়না পরবেন না যেন! কারণ লোহার রুলিং প্ল্যানেট হল শনি, যার প্রতিপক্ষ হল সূর্য এবং বৃহস্পতি। আর যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে সোনার উপর এই গ্রহ এবং নক্ষত্রটির প্রভাব বেশি থাকে। তাই তো এদের সোনার গয়না পরতে মানা করা হয়। কারণ এমনটা করলে শনি দেব এতটাই রুষ্ট হন যে কর্মক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

৭. ভুলেও সোনার নূপুর পরবেন না যেন!

৭. ভুলেও সোনার নূপুর পরবেন না যেন!

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে সোনা কখনই পায়ে ছোঁয়ানো উচিত নয়, তাই তো সোনার আংটি বা নূপুর পায়ে পরলে সূর্য এবং বৃহস্পতি দেব বেজায় রুষ্ট হন, যার প্রভাবে শরীর ভাঙতে শুরু করে, সেই সঙ্গে বৈবাহিক জীবনে নানাবিধ সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।

এখন প্রশ্ন হল এই নিয়মগুলি মেনে যদি কেউ সোনার গয়না পরেন, তাহলে কী কী উপকার মিলতে পারে?

১. খারাপ শক্তির প্রভাব কমতে থাকে:

১. খারাপ শক্তির প্রভাব কমতে থাকে:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে সোনার গয়না পরলে শরীরে উপস্থিত খারাপ শক্তি দূরে পালাতে শুরু করে। ফলে শরীরের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে। সেই সঙ্গে আধ্যাত্মিক শক্তির যেমন বিকাশ ঘটে, তেমনি অশুভ শক্তিও ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না, যে কারণ পরিবারে কোনও ধরনের আশান্তি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার সম্ভাবনাও কমতে থাকে।

২. বড়লোক হয়ে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হয়:

২. বড়লোক হয়ে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হয়:

শুনতে আজব লাগলেও এই ধরণার মধ্যে কোনও ভুল নেই যে সোনার গয়না, বিশেষত সোনার আংটি এবং দুল পরলে অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটার সম্ভাবনা যায় বেড়ে। আসলে সোনা, শরীরে সংস্পর্শে আসা মাত্র বৃহস্পতি গ্রহের প্রভাব বাড়তে শুরু করে। ফলে একদিকে যেমন কর্মক্ষেত্রে চরম সফলতা লাভের সম্ভাবনা বেড়ে যায়, তেমনি অনেক অনেক টাকার মালিক হয়ে উঠতেও সময় লাগে না। তাই তো বলি বন্ধু, বৃহষ্পতি গ্রহকে সন্তুষ্ট করার মধ্যে দিয়ে যদি জীবনের ছবিটা বদলে দিতে চান, তাহলে সোনার দুল পরতে ভুলবেন না যেন! আর যদি কানের উপরের অংশে দুল পরতে পারেন, তাহলে তো কোনও কথাই নেই! কারণ সেক্ষেত্রে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

৩. অফুরন্ত সুখ-শান্তির সন্ধান মেলে:

৩. অফুরন্ত সুখ-শান্তির সন্ধান মেলে:

নানাবিধ ধাতুর প্রভাব শরীরের উপর কেমনভাবে পরে, সে বিষয় যারা গবেষণা করেন, তাদের মতে সোনার গয়না পরলে আমাদের চারিপাশে পজেটিভ শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে গৃহস্থে যেমন সুখ-শান্তির ছোঁয়া লাগে, তেমনি এমন স্ট্রেসফুল পরিবেশেও মানসিক শান্তি বজায় থাকে। ফলে জীবন আনন্দে ভরে উঠতে সময় লাগে না।

৪. সর্দি-কাশির প্রকোপ কমে:

৪. সর্দি-কাশির প্রকোপ কমে:

একেবারে ঠিক শুনেছেন বন্ধু! জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে কড়ে আঙুলে সোনার আংটি পরলে একদিকে যেমন ঠান্ডা লাগা এবং সর্দি-কাশির মতো সমস্যা কমে যায়, তেমনি শ্বাস কষ্টের মতো রোগের প্রকোপ কমতেও সময় লাগে না। আর যদি মধ্যমা বা মিডিল ফিঙ্গারে আংটি পরেন, তাহলে কর্মক্ষেত্রে থেকে সামাজিক জীবন, সবেতেই সম্মান বৃদ্ধির সম্ভাবনা যায় বেড়ে। সেই সঙ্গে মনোযোগ ক্ষমতারও উন্নতি ঘটে।

৫. কু-দৃষ্টির প্রভাব থেকে মুক্তি মেলে:

৫. কু-দৃষ্টির প্রভাব থেকে মুক্তি মেলে:

আজকের প্রতিযোগীতায় জীবনে সবাই যেখানে সামনের জনকে মেরে আগে এগিয়ে চেষ্টায় লেগে রয়েছে, সেখানে ইর্ষান্বিত হয়ে কেউ যে আপনার ক্ষতি করার চেষ্টায় লেগে নেই অথবা কালো যাদু বা তুকতাক করে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে না, সে বিষয়ে কি আপনি নিশ্চিত! তাই তো বলি বন্ধু কালো যাদুর প্রভাবে যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, তা সুনিশ্চিত করতে সোনার গয়না পরা মাস্ট! প্রসঙ্গত, এমনটাও বিশ্বাস করা হয় যে সোনার গয়না পরলে আমাদের শরীরের অন্দরে থাকা চক্রগুলিকে অ্যাকটিভ করে দেয়। ফলে শরীরের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে সময় লাগে না।

৬. সব ধরনের সমস্যার খপ্পর থেকে মুক্তি মেলে:

৬. সব ধরনের সমস্যার খপ্পর থেকে মুক্তি মেলে:

বিশেষজ্ঞদের মতে অনামিকা বা রিং ফিঙ্গারে সোনার আংটি পরলে জীবন পথে চলতে চলতে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা যে কোনও সমস্যার হাত থেকে মুক্তি মেলে। সেই সঙ্গে কোনও ধরনের বিপদ ঘটার সম্ভাবনাও যায় কমে।

৭. স্ট্রেস কমে:

৭. স্ট্রেস কমে:

বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে সোনার গয়না পরা মাত্র শরীর এবং মস্তিষ্কের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে তার প্রভাবে স্ট্রেস এবং অ্যাংজাইটি লেভেল কমে যেতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে মানসিক অবসাদও নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে আমাদের দেশে স্ট্রেস, অ্যাংজাইটি এবং মানসিক অবসাদের শিকার হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে এমন মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। তাই তো বলি বন্ধু আপনি যদি খুব স্ট্রেসফুল জীবন অতিবাহিত করে থাকেন, তাহলে সোনার গয়না পরতে ভুলবেন না যেন!

৮. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

৮. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

সোনার গয়না পরা মাত্র দেহের অন্দরে উপস্থিত সাতটি চক্র নিজ কাজ করতে শুরু করে দেয়। সেই সঙ্গে শরীরের প্রতিটি কোনায় অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের প্রভাব বেড়ে যায়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার এতটাই উন্নতি ঘটে যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও যায় কমে।

৯. নানাবিধ ত্বকের রোগ কমতে সময় লাগে না:

৯. নানাবিধ ত্বকের রোগ কমতে সময় লাগে না:

সোনার দুল বা হার পরলে কোনও ধরনের ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যেমন কমে যায়, তেমনি যে কোনও ধরনের স্কিন ডিজিজের প্রকোপ কমতেও সময় লাগে না। শুধু তাই নয়, সোনার গয়না ত্বকের সংক্রমণের মতো রোগকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: বিশ্ব
    English summary

    Here is The 7 Things To Be Careful When Wearing Gold Or Keeping It At Home

    Indians love to possess and wear jewellery- and gold is their most favourite metal. It is also the most favourite form of investment in many households. However, there are certain things that you should be cautious about while keeping or storing gold at home or flaunting it on your body.
    Story first published: Tuesday, August 21, 2018, 13:03 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more