গুগল ডুডল পালন করছে ড.বিক্রম সারাভাইয়ের জন্মশতবার্ষিকী : জেনে নিন তাঁর জীবনের কিছু তথ্য

ভারতের এক অন্যতম বিজ্ঞানী ও গবেষক ও সংস্কারক হিসেবে পরিচিত ড. বিক্রম অম্বালাল সারাভাই। যিনি ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাই, তাঁকে ইসরোর জনকও বলা হয়। এই কিংবদন্তি বিজ্ঞানী ১৯৭১ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিরুবনন্তপুরমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আজ তাঁর ১০০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাঁকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করল গুগল ডুডল।

vikram sarabhai

১৯১৯ সালের ১২ অগাষ্ট আহমেদাবাদের এক বিখ্যাত শিল্পপতি জৈন পরিবারে জন্ম হয় বিক্রম অম্বালাল সারাভাইয়ের। তাঁর বাবার নাম অম্বালাল ও তাঁর মায়ের নাম সরলা দেবী। তিনি গুজরাত কলেজ থেকে ম্যাট্রিক পাশ করার পর ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট জন'স কলেজে ভর্তি হন। ১৯৪০ সালে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

ভারতে ফিরে এসে তিনি ১৯৪৭ সালের ১১ নভেম্বর আমদাবাদে গড়ে তোলেন 'ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি '(PRL)। ১৯৬৬ সালে আহমেদাবাদে কমিউনিটি সায়েন্স সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন যা এখন 'বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার' নামে পরিচিত। ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি ছাড়াও আহমেদাবাদের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট , কমিউনিটি সায়েন্স সেন্টার, দর্পণ অ্যাকাডেমি -সহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন তিনি।

গবেষণা ছাড়াও ড. সারাভাই শিল্প, ব্যবসা ও উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়ে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি ১৯৪৭1947 সালে আহমেদাবাদ টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৬২ সালে আহমেদাবাদে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (IIM) স্থাপনেও তাঁর মুখ্য ভূমিকা ছিল। তিনি আহমেদাবাদের নেহেরু ফাউন্ডেশন ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠা করতেও সাহায্য করেছিলেন। তিনি নোবেলজয়ী সি.ভি রমনের অধীনে মহাজাগতিক রশ্মি নিয়ে গবেষা শুরু করেন।

১৯৬২ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কমিটি ফর স্পেস রিসার্চ পরবর্তী সময়ে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় (ISRO) রূপান্তরিত হয়েছিল। তিনি ভারতীয় উপগ্রহের উৎক্ষেপণের জন্য একটি প্রকল্পও শুরু করেছিলেন । এর ফলে, প্রথম ভারতীয় উপগ্রহ, আর্যভট্টকে রাশিয়ার কসমোড্রোম থেকে ১৯৭৫ সালে কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছিল। ১৯৭৩ সালে বিক্রম সারাভাইয়ের সম্মানে চাঁদে একটি গর্তের নামকরণও করা হয়েছিল।

রাশিয়ান স্পুটনিক যাত্রার পর বিক্রম সারাভাই মহাকাশ কর্মসূচির গুরুত্ব সম্পর্কে ভারত সরকারকে এটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছিলেন। ভারতের পারমাণবিক পদার্থবিদ হোমি ভাবা তাঁর উদ্যোগগুলিকে সমর্থন করেছিলেন এবং ভারতে প্রথম রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র স্থাপনে ড. সারাভাইকে সাহায্য করেছিলেন।

১৯৬৬ সালে নাসার সঙ্গে বিক্রম সারাভাইয়ের (Vikram Sarabhai) কথোপকথনটি ১৯৭১ সালে তাঁর মৃত্যুর পর পর প্রকাশিত হয়। যা ১৯৭৫-৭৬ সালের জুলাইয়ের সময় স্যাটেলাইট ইনস্ট্রাকশনাল টেলিভিশন এক্সপেরিমেন্ট (SITE) চালু করতে সাহায্য করে।

১৯৬২ সালে তিনি শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরষ্কার পেয়েছিলেন। ১৯৬৬ সালে পদ্মভূষণ ও ১৯৭২ সালে মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ খেতাব দেওয়া হয় ড. বিক্রম সারাভাইকে।

আজ গুগল ডুডল মুম্বইয়ের শিল্পী পবন রাজুরকরের শিল্পকর্মের মাধ্যমে বিক্রম সারাভাইকে সম্মান জানিয়েছে।

X
Desktop Bottom Promotion