ভারতের প্রথম মহিলা চিকিৎসকের জন্মবার্ষিকী উদযাপন করল গুগল ডুডল

ভারতের এক অন্যতম মহিলা চিকিৎসক এবং সমাজ সংস্কারক হিসেবে পরিচিত ডা. মুথুলক্ষ্মী রেড্ডি। আজ তাঁর ১৩৩ তম জন্মবার্ষিকী। এই উপলক্ষ্যে বিভিন্ন জায়গায় তাঁর জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে, পাশাপাশি তাঁর জন্মবার্ষিকী উদযাপন করছে গুগল ডুডলও। তিনি শুধুমাত্র সমাজ সংস্কারক ও চিকিৎসকই ছিলেন না, পাশাপাশি তিনি একজন শিক্ষাবিদ ও আইনপ্রণেতাও ছিলেন। তিনি ছিলেন ভারতের প্রথম মহিলা বিধায়ক। ১৯২৭ সালে তাঁকে মাদ্রাজ বিধান পরিষদে মনোনীত করা হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি সমাজ সংস্কার ও নারীর উপযুক্ত অধিকার আদায়ের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে গিয়েছেন।

hospital day

তিনি ভারতের প্রথম মহিলা ডাক্তার ছিলেন, এবং প্রথম মহিলা শল্যচিকিৎসক ছিলেন মাদ্রাজের সরকারি প্রসূতি হাসপাতালের। ডা. রেড্ডি তাঁর জীবন জনস্বাস্থ্যের জন্য উত্সর্গ করেছিলেন। আজ তাঁর জন্মবার্ষিকীতে তাঁর স্মরনার্থে পালন করা হচ্ছে 'হাসপাতাল দিবস'।

তিনি ১৮৮৬8686 সালের ৩০ জুলাই তামিলনাড়ুর পুদুকোত্তাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯০৭ সালে মাদ্রাজ (চেন্নাই) মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও লেখাপড়া চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ১৯১২ সালে তিনি ডাক্তারি পাস করেন, এবং ভারতের প্রথম মহিলা চিকিৎসকদের মধ্যে একজন হন। এরপর. তিনি সরকারি মাতৃত্ব ও চক্ষুসংক্রান্ত হাসপাতালের প্রথম নারী সার্জন হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯১৪ সালে ডা. সুন্দর রেড্ডীর সাথে তাঁর বিবাহ সুসম্পন্ন হয়। ১৯৬৮ সালের ২২ জুলাই ৮১ বছর বয়সে তিনি দেহত্যাগ করেন।

ছাত্রাবস্থায় তিনি সরোজিনী নাইডুর সাথে দেখা করেন এবং মহিলাদের সভায় যোগ দিতে শুরু করেন। তাঁর জীবনে যে দু'জন ব্যাক্তি প্রভাব ফেলেছিল তাঁরা হলেন মহাত্মা গান্ধি এবং অ্যানি বেসান্ত। তিনি লবণ সত্যগ্রহ সমর্থন করার জন্য কাউন্সিল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

তাঁর সমাজ সংস্কারমূলক কাজ :

ভারতবর্ষের প্রথম নারী বিধায়ক ছিলেন ডা. মুথুলক্ষ্মী রেড্ডি। বিধায়ক থাকাকালীন তিনি নারীদের জন্য অনেক অবদান রেখে গেছেন। মাদ্রাজ বিধান পরিষদের বিধায়ক হওয়ার আগে তিনি চিকিৎসা করা ছেড়ে দেন। নারীদের বিবাহের জন্য ন্যূনতম বয়স বাড়াতে সাহায্য করেন। এছাড়া, তিনি নারী ও শিশু পাচার বিরোধী একটি বিল আইনসভায় পেশ করেন। বিলটি গৃহীত হওয়ার পর তিনি পরিত্যক্ত নারীদের পুনর্বাসনের বিশেষ ব্যবস্থা করেছিলেন। তাদের বিনামূল্যে থাকা, খাওয়ার জন্য "অভয় হোম' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। ১৯১৮ সালে তিনি উইমেন ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। এছাড়াও, ১৯৫৪ সালে তিনি ক্যান্সার ইন্সটিটিউট চালু করেছিলেন। নারীদের চার দেওয়ালের বাইরে বের করে বাইরের জগতে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অন্যতম। তিনি লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধেও লড়াই করেছিলেন।

পুরস্কার ও গ্রন্থ :

১৯৫৬ সালে ভারত সরকার কতৃর্ক তিনি 'পদ্মভূষণ' পুরস্কারে ভূষিত হন। আইন প্রণেতা থাকাকালীন তাঁর অভিজ্ঞতা বর্ণিত হয়েছে তাঁর রচিত 'মাই এক্সপেরিয়েন্স অ্যাজ আ লেজিসলেটর ' বই-তে।

X
Desktop Bottom Promotion