সাবিত্রীবাঈ ফুলে : ১৮৯ তম জন্মবার্ষিকীতে জেনে নিন তাঁর সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

ভারতের একজন সমাজ সংস্কারক এবং নারী শিক্ষায় অবদানের জন্য অন্যতম মহিলা হলেন সাবিত্রীবাঈ ফুলে। পাশাপাশি, তিনি ছিলেন একজন শিক্ষিকা ও কবি। ব্রিটিশ শাসনামলে নারী অধিকার নিয়ে তিনি প্রচুর কাজ করেছেন। আজ, ৩ জানুয়ারি তাঁর ১৮৯ তম জন্মবার্ষিকী। সাবিত্রীবাঈ ফুলে এবং তাঁর স্বামী জ্যোতিরাও ফুলে ১৮৪৮ সালে মহারাষ্ট্রের পুণেতে নারীদের জন্য ভারতের প্রথম স্কুল চালু করেছিলেন।

আসুন উনিশ শতকের এই সমাজ সংস্কারক সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেওয়া যাক -

প্রাথমিক জীবন

সাবিত্রীবাঈ ফুলে ১৮৩১ সালের ৩ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলার নাইগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর জন্মস্থানটি পুণে থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে ছিল। লক্ষ্মী ও খান্দোজি নেভেশে পাটেলের জ্যেষ্ঠ কন্যা ছিলেন তিনি। মাত্র নয় বছর বয়সে তিনি ১৩ বছর বয়সী জ্যোতিরাও ফুলে-কে বিবাহ করেন। তাঁদের নিজস্ব কোনও সন্তান ছিল না। তবে, তাঁরা এক ব্রাহ্মণ বিধবার পুত্র যশবন্তরাওকে দত্তক নিয়েছিলেন।

বিবাহের সময় সাবিত্রীবাঈ ফুলে শিক্ষিত ছিলেন না। কারণ সেই সময়ে, নিম্ন বর্ণের মানুষদের পড়াশোনা করার অনুমতি ছিল না। তাঁর স্বামী, জ্যোতিরাও ফুলে তাঁকে শিক্ষিত করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন এবং তাই তিনি নিজের বাড়িতেই স্ত্রীকে পড়াতে শুরু করলেন। তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে, তাঁর স্ত্রী অন্যান্য মহিলাদেরকেও শিক্ষিত করতে সক্ষম হবেন। তাই, পড়াশুনার পাশাপাশি তাঁর স্বামী তাঁকে শিক্ষিকা হওয়ারও প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন।

পড়াশুনা এবং শিক্ষিকার প্রশিক্ষণ শেষ করার পরে, সাবিত্রীবাঈ অল্প বয়সী মেয়েদের পড়াতে শুরু করলেন। পাশাপাশি, তিনি সমাজ সংস্কারের কাজেও হাত লাগিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন : নতুন বছরে নিজের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে তুলুন, নিন এই রেজোলিউশনগুলি

কর্মজীবন

সাবিত্রীবাঈ অনেকগুলি কবিতাও রচনা করেছিলেন যা, সাধারণত মহিলাদের শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে। সমাজ সংস্কারক হিসেবে, সাবিত্রীবাঈ ফুলে বিধবা ও অসহায় নারীদের জন্য একটি কেয়ার সেন্টার স্থাপন করেছিলেন। তিনি গোত্র ও লিঙ্গ ভিত্তিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছিলেন। তিনি সতীদাহ প্রথা, বাল্য বিবাহ এবং অন্যান্য সামাজিক কুফলগুলির বিরুদ্ধেও প্রচার চালিয়েছিলেন।

স্বামীর সঙ্গে তিনি মেয়েদের জন্য ১৮ টি স্কুল চালু করেছিলেন, যেখানে সমস্ত বর্ণ, শ্রেণি ও ধর্মের শিশুদের শিক্ষা প্রদান করা হত এবং ভারতের প্রথম মহিলা শিক্ষিকা ছিলেন তিনি। এছাড়াও, মহিলাদের মধ্যে সচেতনতা জাগাতে এবং তাদের অধিকারের জন্য তিনি মহিলা সেবা মন্ডল চালু করেছিলেন।

মৃত্যু

সাবিত্রীবাঈ সমাজে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির জন্যও কাজ করেছিলেন। ১৮৯৭ সালে পুণের উপকণ্ঠে বিউবনিক প্লেগে আক্রান্তদের চিকিৎসা করার জন্য সাবিত্রীবাঈ এবং তাঁর দত্তক পুত্র যশবন্ত একটি ক্লিনিক চালু করেছিলেন। এখানেই রোগীদের সেবা করার সময় তিনি বিউবনিক প্লেগে আক্রান্ত হন এবং ১৮৯৭ সালের ১০ মার্চ মারা যান।

আরও পড়ুন : জানুয়ারি মাসে জন্মগ্রহণকারীরা কেমন হন? পড়ুন তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য

১৯৮৩ সালে তাঁর স্মৃতিতে একটি স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হয়েছিল। এরপর, ১৯৯৮ সালের ১০ মার্চ, ভারতীয় ডাক বিভাগ সাবিত্রীবাঈ ফুলে-এর সম্মানে একটি ডাকটিকিট প্রকাশ করে। তাঁর সম্মানে, ২০১৪ সালে পুণে বিশ্ববিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয় সাবিত্রীবাঈ ফুলে বিশ্ববিদ্যালয়।

X
Desktop Bottom Promotion