সাবধান: আজকের দিনে কিছু খারাপ হতে পারে আপনার! কেন জানেন?

By Nayan
Subscribe to Boldsky

শুক্রবার, সঙ্গে আবার ১৩ তারিখ। এমন কম্বিনেশানকে সারা বিশ্বজুড়ে অশুভ মনে করা হয়। অনেকেই বিশ্বাস করেন আজকের দিনে একটু সাবধান থাকাটা সবারই উচিত। কে বলতে পারে কী হয়ে যায়। ওহো একটা কথা তো জানাই হয়নি করা হয়নি, তা মশাই আপনি ঠিক আছেন তো?

এমন বিশ্বাসের জন্ম হল কোথা থেকে? কেনই বা ১৩ তারিখের সঙ্গে শুক্রবারকে যুক্ত করে থাকেন অনেকে? এর পিছনে রয়েছে অনেক কারণ। কেউ নানা ঐতিহাসিক ঘটনার কারণে আজকের দিনটাকে ভয় করে থাকে, তো আবার কেউ অন্য কোনও কারণে আজকের দিনে নতুন কিছু শুরু করতে চান না। তাই চলুন একটু আলোকপাত করার চেষ্টা করা যাক সামগ্রিক বিষয়টার উপর। বোঝার চেষ্টা করা যাক আজকের মতো দিনে ভয়ে ভয়ে থাকার আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা।

কিভাবে জন্ম হয়েছিল এই ধরণার:

কিভাবে জন্ম হয়েছিল এই ধরণার:

ইতিহাসের পাতা উল্টে জানা যায় এই দিনটিকে ঘিরে ভয়ের আবহ তৈরি হয় ১৯ শতকের কাছাকাছি সময়। কিন্তু কেন? এমনটা মনে করা হয় বিখ্যাত ইতালিয়ান কম্পোজার জিওয়াচিনো রোসিনি ১৩ তারিখ মারা গিয়েছিলেন। আর সেদিন বার ছিল শুক্র। তার বায়োগ্রাফিতে এই বিষয়টির উল্লেখ হওয়ার পর থেকে জিওয়াচিনোর ভক্তরা এই দিনটাকে অশুভ মনে করতেন। সেই শুরু। তারপর কিভাবে এই ধারণা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরল, সে সম্পর্কে কোনও তথ্যের সন্ধান পাওয়া যায়নি এখনও।

বাদ যাননি যিশুও:

বাদ যাননি যিশুও:

একদল ঐতিহাসিক এমনটাও মনে করেন যে যিশুখ্রিষ্টকে যেদিন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল সেদিন ছিল শুক্রবার। আর যিশুর মৃত্যুর আগে শেষবার যে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল, যা ইতিহাসে লাস্ট সাপার নামে পরিচিত, সেখানে ১৩ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন। এই তথ্য সামনে আসার পর থেকে সারা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের খ্রিষ্ঠানরা ১৩ তারিখ শুক্রবার পরলে সেদিনটা আশুভ বলে মনে করেন।

কোনও সত্য আছে কি এই ভয়ের পিছনে:

কোনও সত্য আছে কি এই ভয়ের পিছনে:

শুক্রবার এবং ১৩ তারিখের এই যুগলবন্দীকে "ফ্রিগগ্যাটরিস্কএইডকেফোবিয়া" নামেও ডাকা হয়ে থাকে। অনেকে আবার এমন দিনকে "প্যারাস্কেভিডেকাতরিয়াফোবিয়া" নামেও ডেকে থাকেন। প্রসঙ্গত, সহজ কথায় এই নামের অর্থ হল ১৩ তারিখ যদি শুক্রবার হয়, তাহলে ভয় পাও। কারণ এই দিনটা আশুভ। এমন অনেক আকর্ষণীয় তথ্য যখন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছিল, তখন ভয়ের আবহ তৈরি হতে সময় লাগেনি। এবার নিশ্চয় ধোঁয়াশাটা কাটছে। বুঝতে পারছেন কেন শুক্রবার এবং ১৩ তারিখকে নিয়ে এত ভয়।

গল্প এখনও বাকি...!

গল্প এখনও বাকি...!

১৩ নম্বরটাকে নিয়ে মানুষের ভয়ের শেষ নেই। তাই খেয়াল করে দেখবেন অনেকেই ১৩ তলা বাড়ি বানাতে বা ট্রেন-বাস-প্লেনের ১৩ নম্বর সিটে বসতে চান না। এমনও অনেকে আছেন যারা শুক্রবার, তা ১৩ তারিখ হোক, কী অন্য কোনও ডেট, শুভ কাজ শুরু করেন না। মনে করেন এমনটা করলে ক্ষতির সম্ভাবনা কমবে। কিন্তু একটা কথা মানতেই হবে যে ১৩ তারিখ এবং শুক্রবারকে নিয়ে এই ভয়ের জন্ম কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে। তাই দিনটা বা ডেটটাকে এতটা গুরুত্ব দেওয়ার কোনও প্রয়োজন আছে বলে তো মনে হয় না।

বছরে তিনবার হয় এমন ঘটনা:

বছরে তিনবার হয় এমন ঘটনা:

লক্ষ করে দেখা গেছে ১৩ তারিখ শুক্রবার পরেছে এমনটা বছরে তিনবারের বেশি কখনও হয় না। তাই যারা এই অন্ধবিশ্বাসে বিশ্বাস রাখেন, তারা নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন যে ৩৬৫ দিনের মধ্যে মাত্র তিন দিন আপনাদের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দোষী আসলে অন্য কেউ:

দোষী আসলে অন্য কেউ:

যে যে মাস শুরু হয় রবিবার দিয়ে, সেইসব মাসে শুক্রবার ১৩ তারিখ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই বন্ধুরা ভয় না পেয়ে এই ঘটনার আসল সত্যিটা জানার চেষ্টা করুন। তাহলেই দেখবেন অন্ধবিশ্বাসের মেঘ কেটে যাবে।

ভয়ের কি তাহলে কোনও কারণ নেই?

ভয়ের কি তাহলে কোনও কারণ নেই?

একেবারেই না! কারণ যিশু নিজের মৃত্যুদিন ঠিক করে মারা যাননি। একই যুক্তি খাটে জিওয়াচিনোর ক্ষেত্রেও। কারণ তিনিও জানতেন না যে, তিনি যে তারিখে মারা যাচ্ছেন সেটা ১৩ তারিখ, আর দিনটা শুক্রবার। তাই ভয়ের কোনও কারণ নেই। দেখবেন আজকের দিনটাও আপনার খুব ভাল কাটবে। খুশি মনে কাটবে!

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    English summary

    শুক্রবার, সঙ্গে আবার ১৩ তারিখ। এমন কম্বিনেশানকে সারা বিশ্বজুড়ে অশুভ মনে করা হয়। অনেকেই বিশ্বাস করেন আজকের দিনে একটু সাবধান থাকাটা সবারই উচিত। কে বলতে পারে কী হয়ে যায়। ওহো একটা কথা তো জানাই হয়নি করা হয়নি, তা মশাই আপনি ঠিক আছেন তো?

    If you are superstitious, today is the day you dread the most. It’s Friday the 13th. The day many believe to be the unluckiest ever. People who fear the day and the number think twice before doing anything and everything — be it travelling, meeting people, dining at a friends’ and what not.
    Story first published: Friday, October 13, 2017, 15:12 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more