আমাদের কী খেতে ভাল লাগবে, আর কী খেতে নয়, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে রাশির উপর!

মানুষের খাবারের প্রতি ভাল লাগা-মন্দ লাগা, অনেকাংশেই নির্ভর করে তার রাশির উপর। রাশি ভেদে নাকি খাবারের প্রতি পছন্দ-অপছন্দও বদলে যায়।

আমরা সবাই মানুষ। কিন্তু আমাদের খাদ্যাভ্যাসে কি কোনও মিল আছে? একেবারেই নেই! লক্ষ করলে দেখা যাবে কেউ বিরিয়ানি খেতে ভালবাসে, তো কেউ চাইনিজ ফুড। আবার অনেকে ঝাল-মশাল ছাড়া সেদ্ধ খাবার খেতে বেশি পছন্দ করেন। মানুষ ভেদে খাবারের পছন্দ কেন বদলে যায়, তা কখনও ভেবে দেখেছেন। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎই হাতে লেগে গিয়েছিল এক আদি কালের বই। তাতে লেখা ছিল, মানুষের খাবারের প্রতি এই ভাল লাগা-মন্দ লাগা, অনেকাংশেই নির্ভর করে তার রাশির উপর। রাশি ভেদে নাকি খাবারের প্রতি পছন্দ-অপছন্দও বদলে যায়।

সত্যিই কী এমনটা হয়? চলুন তো খোঁজ লাগানো এই বিষযে।

১. মেষরাশি:

১. মেষরাশি:

এই রাশির জাতক-জাতিকারা খুব চঞ্চল মনস্ক হন। তাই তো সহজে তৈরি হয়ে যায় এমন খাবার খেতে এরা বেশি পছন্দ করেন। কব্জি ডুবিয়ে, পাত পেরে খাওয়ার অভ্যাস একেবারেই নেই এই রাশির অধিকারিদের। তবে ঝাল খাবার খেতে এরা খুব পছন্দ করেন। প্রসঙ্গত, বিশেষজ্ঞদের মতে বিভিন্ন রোগকে দূরে রাখতে এদের ধীরে ধীরে খাবার খাওয়া উচিত। সেই সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর দেওয়াটা জরুরি।

২. বৃষরাশি:

২. বৃষরাশি:

এরা চটজলদি খেতে একেবারেই পছন্দ করেন না। বরং সময় নিয়ে, উপভোগ করতে রসনা তৃপ্তি করতে এরা বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। শুধু তাই নয়, ভোজন রসিক বলে পরিচিত এই রাশির জাতক-জাতিকারা মিষ্টি এবং মশলদার খাবার খেতে খুব ভালবাসেন। সেই কারণেই তো মোটা মানুষদের তালিকায় এরা সবথেকে উপরের দিকে থাকেন। সর্বোপরি, পাত পেরে খেতে এরা খুব ভালবাসেন আর খাওয়ার সময় কেউ ডিসটার্ব করুক, তা একেবারেই মেনে নিতে পারেন না।

৩. মিথুনরাশি:

৩. মিথুনরাশি:

পেট ভরানোটাই মূল লক্ষ, কী পেটে যাচ্ছে তা নয়- এই নীতিতেই বেশি বিশ্বাস করেন মিথুনরাশির জাতক-জাতিকারা। তবে খাবার সময় ভাল মানুষের সঙ্গে পেতে এরা মুখিয়ে থাকেন। এমন মানুষকে পেলে এদের কাছে আড্ডাটাই তখন প্রধান হয়ে দাঁড়ায়, খাবারের বিষয়টি চলে যায় একেবারে লাস্ট বেঞ্চে। সে অর্থে খাদ্য রসিক না হলেও প্রতিদিন আলাদা আলাদা রকমের খাবার খেতে এরা খুব পছন্দ করেন।

৪. কর্কট:

৪. কর্কট:

রান্না করতে যেমন ভালবাসেন, তেমনি খেতেও এদের জুড়ি মেলা ভার। একথায় খাদ্য রসিক হিসেবে এদের বেশ সুনাম রয়েছে। বাজারে গিয়ে সবথেকে দামি জিনিসটি কিনে এনে রসিয়ে রান্না করে তা পরিবেশন করতে এদের খুব ভাল লাগে। এক কথায় বলা যেতে পারে, কর্কট রাশির জাতক-জাতিকারা যেমন খেতে ভালবাসেন, তেমনি খাওয়াতেও সমানভাবে ভালবাসেন।

৫. সিংহরাশি:

৫. সিংহরাশি:

খেতে ভালবাসেন কিন্তু রান্না করতে একেবারে পছন্দ করেন না। তাই তো ভাল রেস্টরেন্টে এদের যাতায়াত লেগেই থাকে। বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে চুটিয়ে খানাপিনা করতে এদের জুড়ি মেলা ভার। তবে সমস্যাটা অন্য জায়গায়। নানা স্বাদের ডিশ টেস্ট করতে এরা সদা প্রস্তুত থাকলেও পুষ্টির ঘাটতিজনিত সমস্যায় এরা খুব ভুগে থাকেন। তাই তো সিংহরাশির জাতক-জাতিকাদের বেশি বেশি করে সবজি এবং ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৬. কন্যারাশি:

৬. কন্যারাশি:

এরা খাবারের বিষয়ে বেশ "চুজি" হন। কারণ এই রাশির জাতক-জাতিকাদের কাছে শরীরের থেকে আগে কিছু নেই। শরীর ঠিক রাখতে যে কোনও পর্যায়ে গিয়ে ডায়েট করতেও এরা প্রস্তুত থাকেন। তবে রান্নায় এরা বেশ পটিয়শী হন। স্বাস্থ্যকর খাবার যে কোনও মূল্যে কিনতে এরা রাজি থাকেন। তবে কন্যারাশির জাতক-জাতিকাদের হজম ক্ষমতা খুব একটা ভাল হয় না। তাই তো সহজে হজম হয়, এমন খাবার খাওয়াই এদের উচিত।

৭. তুলারাশি:

৭. তুলারাশি:

এরা মূলত মিষ্টি খেতে খুব ভালবাসেন। আর খাবারের ক্ষেত্রে সব পদই অল্প অল্প করে চেখে দেখতে এরা পছন্দ করেন। কিন্তু যখনই এদের সামনে ডেজার্ট পরিবেশন করা হয়, তখনই এদের আসল মূর্তিটা বেরিয়ে আসে। পরিবার-পরিজন এবং বন্ধু-বান্ধবদের সাঙ্গে "মানপাসান্দ" খাবার খেতে এরা ভালবাসেন।

৮. বৃশ্চিকরাশি:

৮. বৃশ্চিকরাশি:

রাত ৩ টে হোক কী বেলা ১২ টা, যে কোনও সময় ঝাল-মশলা দেওয়া খাবার খেতে এরা প্রস্তুত থাকেন। তবে মশলাদার খাবারের প্রতি এদের এই ভালবাসার কারণে মাঝে মধ্যে অসুস্থও হয়ে পরেন। কেন হবেন নাই বা বলুন! এত ঝাল খেলে কী আর শরীর সুস্থ থাকে। তাই তো বৃশ্চিকরাশির অধিকারিদের স্পাইসি খাবার খাওয়ার পাশাপাশি বেশি করে জল খেতে হবে। যাতে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে এবং শরীর সুস্থ থাকে।

৯. ধনুরাশি:

৯. ধনুরাশি:

নিত্য-নতুন স্বাদের পাখোয়ান চেখে দেখতে এরা ভালবাসেন। তবে পছন্দের ডিশের কথা যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, তাহলে এরা ঝাল ঝাল খাবার খেতেই মূলত ভালবাসেন। তবে এদের বদ অভ্যাস হল পছন্দের খাবার সামনে পেলে পেটপুরে খেয়ে নেন। আর তার পরে হালুম-হুলুম ঢেকুর তুলতে তুলতে কয়েক ঘন্টা কাটিয়ে দেন, যা শরীরের পক্ষে একেবারেই ভাল নয়। প্রসঙ্গত, কব্জি ডুবিয়ে খেতে যেমন এরা ভালবাসেন তেমন মাত্রা ছাড়া মদ্যপান করতেও পিছপা হন না। সেই কারণেই দেখবেন ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস, কোলেস্টরল এবং হার্টের রোগে যারা ভুগছেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ধনুরাশির জাতক-জাতিকা হন।

১০.মকররাশি:

১০.মকররাশি:

স্বাদ এবং খাবারের মান, এই দুটি জিনিসকে এই রাশির জাতক-জাতিকারা খুব গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। একথায়, "কম খাব কিন্তু ভাল খাব"- এই নীতিতে বিশ্বাস করেন মকররাশির অধিকারিরা। তাই তো এরা বাড়ির খাবার খেতে বেশি পছন্দ করেন। ঝাল-মশলা দেওয়া খাবার এদের একেবারেই পছন্দ হয় না।

১১. কুম্ভরাশি:

১১. কুম্ভরাশি:

মাংস নয়, এরা সবজি এবং ফল খেতেই বেশি ভালবাসেন। তাই তো কুম্ভরাশির জাতক-জাতিকাদের মধ্যে বেশিরভাগই নিরামিষাশী হয়ে থাকেন। তবে এদের খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত সব থেকে খারাপ অভ্যাস হল, এরা খুব রাত করে খেতে ভালবাসেন। আর যেমনটা সবারই জানা আছে যে শরীরকে সুস্থ রাখতে দেরি করে রাতের খাবার খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। তাই তো শরীরের কথা ভেবে এমন অভ্যাস যত শীঘ্র সম্ভব বদলে ফেলাই ভাল।

১২. মীনরাশি:

১২. মীনরাশি:

পরিবারের সঙ্গে এক সাথে বসে খাবার খেতে এরা খুব ভালবাসেন। শুধু তাই নয়, ভালবাসার মানুষদের খাওয়াতেও এরা খুব পছন্দ করেন। তবে সমস্যাটা হল এরা একেবারে জল খেতে চান না। ফলে নানাবিধ শরীরিক সমস্যা এদের লেগেই থাকে।

Story first published: Monday, June 5, 2017, 18:30 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion