Earth Hour Day 2022 : ৬০ মিনিটের অন্ধকারই আলোকিত করবে ভবিষ্যতকে, যোগ দিন আপনিও

একটি ছোট্ট উদ্যোগ কীভাবে বড় পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যেতে পারে তার উদাহরণই হল 'আর্থ আওয়ার'। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার (WWF) এর নেতৃত্বে প্রতি বছর মার্চ মাসের শেষ শনিবার 'আর্থ আওয়ার ডে' পালিত হয়। এদিন এক ঘণ্টার জন্য (রাত ৮.৩০ থেকে রাত ৯.৩০ পর্যন্ত) সমস্ত জায়গার আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ পরিবেশ দেওয়া যায়। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিবেশকে রক্ষা করাই হল এর মূল উদ্দেশ্য।

পরিবেশ ধ্বংসের প্রাথমিক উৎস হল মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার সইতে সইতে তলে তলে ক্ষয় ধরেছে পরিবেশের। তাই পরিবেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব মানুষেরই। রোগমুক্ত জীবনযাপনের জন্য দূষণমুক্ত পরিবেশ এবং সবুজ পৃথিবী সত্যিই প্রয়োজন। তাই আপনিও আজ এক ঘণ্টার জন্য আপনার চারপাশের সমস্ত আলো বন্ধ রাখুন। টিভি, এসি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, হিটারের মতো ইলেক্ট্রনিক্স আইটেমগুলিও বন্ধ রাখুন। তাতেই বাঁচবে শক্তি। রক্ষা পাবে পৃথিবী। পৃথিবীকে একটু বিশ্রাম দিতেই বছরের একটা দিন বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় 'আর্থ আওয়ার'।

Earth Hour Day 2022

২০২২-এ আর্থ আওয়ার ডে কবে?

প্রতি বছরই মার্চ মাসের শেষ শনিবার 'আর্থ আওয়ার ডে' পালিত হয়। সেই হিসাবে এ বছর ২৬ মার্চ আর্থ আওয়ার পড়েছে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, এ দিন রাত ৮টা ৩০ মিনিটে আর্থ আওয়ার শুরু হবে এবং রাত ৯টা ৩০ মিনিটে শেষ হবে। এই এক ঘণ্টা দেশ-বিদেশের সমস্ত বড় বড় জায়গায়ও আলো বন্ধ করে রাখা হয়।

প্রতি বারই এই দিনটির জন্য কোনও না কোনও থিম নির্ধারিত হয়। ২০২২ সালের আর্থ আওয়ার ডে-এর থিম হল "Shape Our Future."

আর্থ আওয়ার ডে-এর ইতিহাস

পরিবেশ রক্ষার জন্য ২০০৭ সালে প্রথম এই উদ্যোগ নেয় 'ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার' (WWF) সংগঠন। বছরের একটি দিনের নামকরণ হয় 'আর্থ আওয়ার'। রিপোর্ট অনুযায়ী, আর্থ আওয়ার প্রথম শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। এরপর ধীরে ধীরে এটি গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ২০০৮ সালে মাত্র ৩৫টি দেশ আর্থ আওয়ার ডে পালন করেছিল। এখন ১৮০টিরও বেশি দেশ 'আর্থ আওয়ার' পালন করে। এর উদ্দেশ্য একটাই, বছরের একটা দিন অন্তত এক ঘণ্টার জন্য সমস্ত আলো নিভিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা। এর আওতায় রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জরুরি পরিষেবা ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে বিদ্যুতের ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়। অনেক জায়গাতেই মোমবাতি জ্বালিয়ে আর্থ আওয়ার উদযাপন করা হয়।

তবে পশ্চিমি দেশগুলিতে 'আর্থ আওয়ার' নিয়ে মানুষ যতটা সচেতন, ভারতের ছবিটি তার থেকে অনেকটাই আলাদা। এখনও পর্যন্ত আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই 'আর্থ আওয়ার' সম্পর্কে অবগত নন। অনেকে আবার সবটা জেনেও এ বিষয়ে তেমন উৎসাহ দেখান না। তাঁদের কথায়, এই এক ঘণ্টার বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে পরিবেশের কোনও বদল হবে না। কিন্তু পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মত অন্য। তাঁদের কথায়, গোটা বিশ্ব যদি এক ঘণ্টার জন্যও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে, তাহলেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে এগোনোর থেকে বাঁচানো সম্ভব।

X
Desktop Bottom Promotion