প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার, জেনে নিন তাঁর সম্পর্কে কিছু অজানা কথা

প্রয়াত বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার। বুধবার, ৭ জুলাই সকাল ৭টা ৩০ মিনিট নাগাদ মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শ্বাসকষ্টের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। প্রয়াণকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর।

তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে অভিনয় জগতে। শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। প্রায় ছয় দশক ধরে তিনি হিন্দি জগতে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক এই কিংবদন্তি অভিনেতা সম্পর্কে কিছু অজানা কথা।

Dilip Kumar : Lesser known facts about the legendary actor

১) দিলীপ কুমার পাকিস্তানের পেশোয়ারে ১৯২২ সালের ১১ ডিসেম্বর, এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আসল নাম মহম্মদ ইউসুফ খান। তাঁর পিতা লালা গোলাম সারোয়ার একজন ফলের ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর মায়ের নাম আয়েশা বেগম।

২) জানা যায়, অভিনেত্রী দেবিকা রানি তাঁকে নাম বদলানোর অনুরোধ করেন। সেইমতো, দেবিকা রানি তাঁর নাম পরিবর্তন করে দিলীপ কুমার রাখেন৷ একই সঙ্গে ১৯৪৪-এ 'জোয়ার ভাটা' ছবিতে অভিনয়ের অফার করেন। এই চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে তাঁর অভিনয় জগতে প্রবেশ হয়। তবে এই ছবিটি তেমন সাফল্য লাভ করেনি।

৩) দিলীপ কুমারকে অভিনয় জগতে 'ট্র্যাজেডি কিং' এবং 'বলিউডের প্রথম খান' বলা হত।

৪) অভিনয় জগতে আসার আগে তিনি একজন ক্যান্টিন মালিক এবং ড্রাই ফ্রুটস সাপ্লায়ার হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন।

৫) কেরিয়ারে ৬৫-রও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন৷ তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল - দেবদাস, রাম অর শ্যাম, মুঘল-এ-আজম, সওদাগর, আন্দাজ, মধুমতি, আজাদ, দিদার, গঙ্গা যমুনা, অমর, ইত্যাদি৷ মুঘল-এ-আজম (১৯৬০) ছবিতে তাঁর প্রিন্স সেলিম চরিত্রটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

৬) ১৯৪৭ ও ১৯৪৮ সালে যথাক্রমে 'জুগনু' ও 'শহিদ' সিনেমা বাণিজ্যসফল হওয়ার পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।

৭) তিনি 'দাগ' (১৯৫২) চলচ্চিত্রতে অভিনয়ের জন্য প্রথম সেরা অভিনেতা হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান। তিনি 'দেবদাস' (১৯৫৫) এবং 'কালা পানি' (১৯৫৮) চলচ্চিত্রের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। দিলীপ কুমারের শেষ চলচ্চিত্র 'কিলা' (১৯৯৮)।

৮) দিলীপ কুমার, অভিনেত্রী কামিনী কৌশল, বৈজয়ন্তী মালা, মধুবালার মতো বিভিন্ন বিখ্যাত অভিনেত্রীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন। এরপর, ১৯৬৬ সালে সকলকে অবাক করে দিয়ে তাঁর চেয়ে ২২ বছরের ছোট অভিনেত্রী সায়রা বানু-কে বিয়ে করেন। দিলীপ কুমার তখন ৪৪, সায়রা বানু ২২ বছরের। দিলীপ-সায়রার দাম্পত্য জীবনে, তাঁদের বয়সের ফারাক কোনও খারাপ প্রভাব ফেলতে পারেনি৷

৯) এরপর, ১৯৮১ সালে আসমা রহমান নামের একজনকে বিয়ে করেন দিলীপ কুমার। তবে সেই বিয়ে বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। তিনি চিরদিনের জন্য সায়রা বানুর কাছে ফিরে আসেন৷

১০) ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই অভিনেতা 'ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরস্কার' পেয়েছেন আট বার। ১৯৯৩ সালে সম্মানিত হয়েছেন 'ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা'-য়। ১৯৯৪ সালে পেয়েছেন 'দাদাসাহেব ফালকে' পুরস্কার। ভারত সরকার তাঁকে ১৯৯১ সালে 'পদ্মভূষণ' এবং ২০১৫ সালে 'পদ্মবিভূষণ' সম্মানে সম্মানিত করে।

১১) দিলীপ কুমার তৎকালীন হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ অভিনেতাদের মধ্যে একজন। তিনি গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ নিজের জায়গা করে নেন। দিলীপ কুমার একমাত্র ভারতীয় অভিনেতা যাঁর ঝুলিতে রয়েছে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পুরস্কার।

X
Desktop Bottom Promotion