কালী পুজোর সময় এই বাস্তু নিয়মগুলি না মানলে কিন্তু বিপদ...!

এই প্রবন্ধে আলোচিত বাস্তু নিয়মগুলি না মানলে গৃহস্থে খারাপ শক্তির প্রবেশ ঘটবে। আর এমনটা হলে কী কী বিপদ হতে পারে, তা নিশ্চয় আর বলে বোঝাতে হবে না।

আমাদের জীবনের ভাল-মন্দের সঙ্গে নানাবিধ বাস্তু নিয়মের যে একটা গভীর যোগ রয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ আমাদের গৃহস্থে একবার বাস্তু দোষ দেখা দিলে নানাবিধ সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে, বিশেষত অর্থনৈতিক সমস্য়া তো দেখা দেয়ই, সেই সঙ্গে লেজুড় হয় পারিবারিক অশান্তি, সামাজিক সম্মানহানী এবং আরও নানাবিধ ঝামেলা। তাই তো কোনও ভাবেই যাতে বাড়িতে যাতে বাস্তু দোষ দেখা না দেয়, সে দিকে নজর দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। বিশেষত কালী পুজোর সময় যেহেতু ঘরে ঘরে মা কালী বা লক্ষ্মী পুজোর আয়োজন করা হয়, তাই এই সময় বেশ কিছু বাস্তু নিয়ম মেনে না চললে কিন্তু বিপদ...!

যদি প্রশ্ন করেন বাস্তু নিয়ম কেন মানতে হবে? তাহলে উত্তরে বলবো বন্ধু, এই প্রবন্ধে আলোচিত বাস্তু নিয়মগুলি না মানলে গৃহস্থে খারাপ শক্তির প্রবেশ ঘটবে। আর এমনটা হলে কী কী বিপদ হতে পারে, তা নিশ্চয় আর বলে বোঝাতে হবে না। তাই তো বলি এই উৎসবের মরশুমে আপনার বা পরিবারের কারও কোনও ক্ষতি হোক, এমনটা যদি না চান, তাহলে যে যে বিষয়গুলি মাথায় রাখতে ভুলবেন না, সেগুলি হল...

১. বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিকে নজর ফেরাতে হবে:

১. বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিকে নজর ফেরাতে হবে:

বাস্তুশাস্ত্র মতে বাড়ির এই নির্দিষ্ট দিকটা হল বেজায় পবিত্র স্থান। তাই তো এই জায়গায় ঠাকুর ঘর স্থাপন করার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে শুধু ঠাকুর পেতেই কর্তব্য সারলে চলবে না। বরং এক্ষেত্রে আরও কতগুলি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। যেমন ধরুন- ঠাকুর ঘরের রং যে ডার্ক কালারের না হয়, ঠাকুর ঘর যেন সারাক্ষণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে, উত্তর-পূর্ব কোণ আন্ধকার থাকলে কিন্তু বিপদ এবং ঠাকুর পুজো দেওয়ার সময় ভুলেও ডার্ক কালারের জামা-কাপড় পরা চলবে না।

২. মা লক্ষ্মী,সরস্বতী এবং গণেশের মূর্তি:

২. মা লক্ষ্মী,সরস্বতী এবং গণেশের মূর্তি:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে উৎসবের মরশুমে বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিকে মা লক্ষ্মী, সরস্বতী এবং গণেশ ঠাকুরের ছবি বা মূর্তি স্থাপন করলে যে কোনও ধরনের অর্থনৈতিক সমস্যা মিটে যায়। সেই সঙ্গে বড়লোক হয়ে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হতেও সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, ঠাকুরের আসনের একেবারে মাঝে রাখবেন মা লক্ষ্মীর মূর্তি। তাঁর বাঁদিকে থাকবে গণেশ এবং ডানদিকে আসন পাততে হবে মা সরস্বতীর। আর দেব-দেবীরা যেন বসা অবস্থায় থাকেন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সেই সঙ্গে বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিকে একটা কলসির ছবি রাখতে ভুলবেন না যেন! কারণ এমনটা করলেও নাকি নানা উপকার পাওয়া যায়।

৩. হনুমানজি নয়তো কালি পুজো:

৩. হনুমানজি নয়তো কালি পুজো:

বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে কালি পুজোর আগের দিন সকালে হনুমানজি অথবা এক মনে কালী মায়ের নাম নিলে বা মন্ত্র পাঠ করলে বাড়িতে উপস্থিত খারাপ শক্তির প্রভাব কমতে শুরু করে। ফলে বাস্তু দোষ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা যায় কমে। শুধু তাই নয়, হনুমানজি এবং মা কালীর আশীর্বাদে কোনও ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

৪. সদর দরজা:

৪. সদর দরজা:

কালি পুজো এবং দিওয়ালির আগে খেয়াল করে বাড়ির সদর দরজার সামনে যদি ময়লা বা ঢিপি করে পুরনো কাগজ বা অব্যবহৃত জিনসপত্র থাকে, তা পরিষ্কার করে ফেলতে ভুলবেন না যেন! কারণ এমনটা না করলে নতুন নতুন সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা যেমন কমবে, তেমনি সারা বাড়িতে নেগেটিভ শক্তির দাপাদাপি বেড়ে যাবে। আর এমনটা হলে কী কী ক্ষতি হতে পারে, তা নিশ্চয় আর বলে দিতে হবে না। প্রসঙ্গত, সদর দরজার পাশাপাশি যদি হল ঘরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন রাখতে পারেন তাহলে তো কোনও কথাই নেই।

৫. নুন জলের মহিমা:

৫. নুন জলের মহিমা:

শাস্ত্র মতে কালী পুজোর আগে আগে ভাল করে বাড়ি-ঘর পরিষ্কার করে বাড়ির প্রতিটি কোণায় অল্প করে নুন জল স্প্রে করলে নেগেটিভ এনার্জির প্রভাব কমে যেতে সময় লাগে না। ফলে পরিবারে সুখ-শান্তির ছোঁয়া লাগে চোখের পলকে। তবে এক্ষেত্রে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে কিন্তু! কী বিষয়? নুন জল ছেটানোর পর সাবান দিয়ে ভাল করে হাত পরিষ্কার নিতে হবে। না হলে কিন্তু আপনার উপর খারাপ শক্তির প্রভাব পরবে এবং সে কারণে নানা ক্ষতিও হতে পারে।

৬. ধুনো দিতে ভুলবেন না যেন!

৬. ধুনো দিতে ভুলবেন না যেন!

এমনটা বিশ্বাস করা হয় দিওয়ালির সময় প্রতিদিন সন্ধ্যা বেলা বাড়িতে ধুনো দিলে সারা বাড়িতে পজেটিভ শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের স্ট্রেস লেভেল কমতেও সময় লাগে। ফলে সুখ-শান্তিতে এবং আনন্দে এই উৎসবের সময়টা কেটে যাওয়ার সম্ভবনা বাড়ে।

৭. সাদা দেওয়াল:

৭. সাদা দেওয়াল:

বাড়ির সদর দরজার সামনে যদি সাদা কোনও দেওয়াল থাকে, তাহলে এই সময় তা খালি রাখবেন না। বরং সেখানে গণেশ ঠাকুরের একটা ছবি বা সোপিস ঝোলাতে পারেন। আসলে এমনটা করলে গৃহস্থের অন্দরে খারাপ শক্তির প্রবেশ আটকে যায়। ফলে কালী পুজোর সময় কোনও কারণে আনন্দ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে।

৮. বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চমি দিক:

৮. বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চমি দিক:

পরিবারে সুখ-শান্তি বজায় থাকুক এমনটা যদি চান, তাহলে বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম দেওয়ালে পরিবারিক নানা সব ছবি ঝোলাতে ভুলবেন না যেন! আর ছবির ফ্রেমটা যেন হয় হলুদ অথবা সোনালী, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে কিন্তু!

৯. পূর্ব দিক:

৯. পূর্ব দিক:

বাস্তু শাস্ত্র মতে বাড়ির পূর্ব দিকের দেওয়ালে সূর্য উঠছে, এমন ছবি ঝোলালে সমগ্র পরিবারের সামাজিক সম্মান তো বৃদ্ধি পায়ই, সেই সঙ্গে কোনও ধরনের বিপদ ঘটার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি পরিবারিক ঝামেলায় জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও আর থাকে না।

Story first published: Friday, October 26, 2018, 13:07 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion