আজ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর প্রয়াণ দিবস, শ্রদ্ধা জানালেন ভারতের রাষ্ট্রপতি

গতবছর এই দিনে প্রয়াত হয়েছিলেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৯৩ বছর। আজ তাঁর প্রথম প্রয়াণ দিবস। সেই উপলক্ষ্যে তাঁকে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ দেশের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা। আজ তাঁর স্মৃতিসৌধে একটি বিশেষ প্রার্থনাও অনুষ্ঠিত হয় এবং জাতির প্রতি তাঁর অবদানের জন্য তাঁকে স্মরণ করা হয়।

minister

জন্ম ও পড়াশুনা -
১৯২৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর গোয়ালিয়রে জন্মগ্রহণ করেন অটল বিহারী বাজপেয়ী। তাঁর পিতা কৃষ্ণ বিহারী বাজপেয়ী ছিলেন গ্রামের স্কুলের শিক্ষক ও কবি ছিলেন। তাঁর মাতা ছিলেন কৃষ্ণা দেবী। গোয়ালিয়রের সরস্বতী শিশু মন্দির থেকে পড়াশোনা করেন তিনি। পরে গোয়ালিয়রের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে হিন্দি, ইংরেজি ও সংষ্কৃতে ডিস্টিংশন নিয়ে পাশ করেন তিনি। এছাড়াও, কানপুরের ডি.এ.ভি কলেজ থেকে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে প্রথম শ্রেণি নিয়ে স্নাতকোত্তর পাশ করেন ।

রাজনৈতিক জীবন -
১৯৩৯ সালে আর.এস.এসে যোগ দেন তিনি। ১৯৪৪ সালে আর্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৫৭ সালে প্রথমবার লোকসভা নির্বাচনে অংশ নেন অটল বিহারী বাজপেয়ী। মথুরা থেকে দাঁড়িয়ে রাজা মহেন্দ্র প্রতাপের কাছে হেরে যান তিনি। তবে অন্য একটি আসনে বলরামপুর থেকে জিতে সংসদে যান।

সাংগঠনিক দিক থেকে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও দক্ষ প্রশাসক অটল বিহারী খুব তাড়াতাড়ি জনসংঘের মুখ হয়ে ওঠেন। দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরে ১৯৬৮ সালে দলের জাতীয় সভাপতি হন তিনি। নানাজি দেশমুখ, বলরাজ মোদক, লালকৃষ্ণ আডবাণীকে সঙ্গে নিয়ে জনসংঘকে এগিয়ে নিয়ে যান তিনি।

১৯৭৭ সালে লোকসভা নির্বাচনে জিতে জনতা পার্টি জোটের সরকার হলে প্রধানমন্ত্রী হন মোরারজী দেশাই। বিদেশ মন্ত্রী নির্বাচিত হন অটল বিহারী বাজপেয়ী। প্রথম বিদেশ মন্ত্রী হিসাবে রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে হিন্দিতে ভাষণ দেন তিনি। ১৯৭৯ সালে জনতা পার্টির সরকার পড়ে গেলেও ততদিনে বাজপেয়ী নিজেকে জাতীয় নেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন। ১৯৮৪ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজেপি মাত্র ২টি লোকসভা আসনে জয়ী হন। তবুও সংসদে কংগ্রেসের বিরোধী নেতা বলতে সবার আগে বাজপেয়ীর নাম লোকের মুখে মুখে ঘুরত।

১৯৯৬ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি জেতে। তখন তিনি দশম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তবে অন্য দলগুলি সমর্থন না করায় মাত্র ১৩ দিনের সরকার ছিল বাজপেয়ীর। এরপর, ১৯৯৮ সালে আবার বিজেপি ক্ষমতায় এসে তেরো মাস সরকার টিকে থাকার পর ১৯৯৯ এর এপ্রিল মাসে জয়ললিতা অটলজির সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে, মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে আস্তাভোটে তাঁর সরকার পড়ে যায়।

১৯৯৯ সালে ফের লোকসভা নির্বাচন হয়। এতে বিজেপি ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ৩০৩টি আসনে জেতে। ১৯৯৯ সালের অক্টোবর মাসে বাজপেয়ী তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২০০৪ সাল পর্যন্ত পূর্ণ সময়কাল সরকার চালান।

পুরস্কার -
২০১৫ সালে ভারত সরকার অটল বিহারী বাজপেয়ীকে ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ সম্মান " ভারতরত্ন " সম্মানে ভূষিত করেন। ১৯৯২ সালে তিনি পদ্মবিভূষণ পান। এছাড়া ১৯৯৪ সালে লোকমান্য তিলক পুরস্কার, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পুরস্কারের মতো বহু দেশি-বিদেশি সম্মাননা পেয়েছেন বাজপেয়ী।

Story first published: Friday, August 16, 2019, 17:53 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion