Karnataka Elections 2023: ভোটের কালি কবে প্রথম ব্যবহার হয়? কোথা থেকেই বা আসে? জানুন সব অজানা তথ্য!

স্বাধীন দেশে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার মুখ্য জায়গা হল ভোট। নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে ভোট দান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে থাকে। কী ভাবে ভোট দিতে হয় সে সম্পর্কে আজ সকলেই অবগত। ব্যালট পেপারে ছাপ দেওয়া থেকে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা ভোটযন্ত্রের বোতাম টেপার মধ্যে রুপান্তরিত হয়েছে।

ভোট দিতে গেলেই আঙুলে একধরণের কালি লাগানো হয়। এর থেকেই বোঝা যায় যে, আপনি ভোট দিয়েছেন। আঙুলে লাগানোর সময় তা কালো, আর পরক্ষণেই বেগুনি! সহজে আঙুল থেকে উঠতেও চায় না এই কালি। এটি 'ইনডেলিব্ল ইংক' (Indelible Ink) নামে পরিচিত।

কী এমন থাকে ভোটের কালির মধ্যে? কবে থেকে এই কালির ব্যবহার হচ্ছে? কারাই বা তৈরি করে এটি? চলুন জেনে নেওয়া যাক ভোটের কালি সংক্রান্ত জানা-অজানা সব তথ্য।

indelible ink

কবে প্রথম ভোটের কালির ব্যবহার হয়েছিল?
১৯৬২ সালে, দেশের তৃতীয় সাধারণ নির্বাচনে প্রথম ভোটের কালি ব্যবহৃত হয়। সেই থেকে শুরু ইনডেলিব্ল ইংক প্রস্তুতি। মূলত ভোটের জন্যই এই কালি প্রস্তুত হয়।

ভোটের কালি লাগানোর নিয়ম
নির্বাচন কমিশনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০০৬ সাল থেকে তর্জনীর প্রথম গাঁটটির আগের চামড়া থেকে নখের উপরিভাগ পর্যন্ত কালি লাগানো হয়। এর আগে এই কালি তর্জনীর নখ এবং ত্বকের সন্ধিস্থলে আড়াআড়িভাবে লাগানো হত।

ভোটের কালি তৈরিতে কী ব্যবহার করা হয়?
জানা গেছে, ভোটের কালিতে থাকে সিলভার নাইট্রেট। আর থাকে বিশেষ কিছু রং এবং রাসায়নিক। এই সিলভার নাইট্রেট ত্বকের প্রোটিনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সে ফেলে বিশেষ এক প্রকার অধঃক্ষেপ, যা একেবারে চামড়ার সঙ্গে সেঁটে বসে যায়। সিলভার নাইট্রেটের আধিক্য যত বেশি থাকবে, ততই টেকসই হবে কালি।

কোন সংস্থা তৈরি করে ভোটের কালি?
খোলা বাজারে ভোটের কালি বিক্রি হয় না। এই ইনডেলিব্ল কালি বানানোর অথরিটি গোটা দেশে মাত্র একটি সংস্থার হাতেই রয়েছে। তার নাম হল - মাইসোর পেন্টস অ্যান্ড ভার্নিশ লিমিটেড, যা 'MPVL' নামে পরিচিত। কর্ণাটকের মাইসোরে অবস্থিত এই কম্পানি।

অতীতে এই সংস্থাটির নাম ছিল 'মাইসোর ল্যাক অ্যান্ড পেন্টস লিমিটেড'। ১৯৩৭ সালে মহীশূরের রাজ পরিবারের আনুকূল্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন রং, মোম এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যই উৎপাদন হত এখানে। এর পর ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এটি একটি পাবলিক সেক্টর কোম্পানিতে পরিণত হয় এবং কর্ণাটক সরকার সংস্থাটি অধিগ্রহণ করে।

বর্তমানে এই সংস্থায় মোম ও নানা ধরনের রং ছাড়াও পালিশ, প্রাইমার, ডিস্টেম্পার, সিন্থেটিক এনামেল ইত্যাদি তৈরি হয়। তবে সবচেয়ে বেশি লাভ হয় ভোটের কালি থেকেই।

X
Desktop Bottom Promotion