চলে গেলেন না ফেরার দেশে, দিয়ে গেলেন একগুচ্ছ উপহার

''হ্যালো ভাই-বোনেরা। নমস্কার আমি ইরফান। আমি আপনাদের সঙ্গে আছি আবার নেইও! 'আংরেজি মিডিয়াম' ছবিটি আমার জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বাস করুন, যেভাবে ভালবেসে ছবিটা তৈরি করেছি, ঠিক সেভাবেই এর প্রচার করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার শরীরে কিছু অযাচিত অতিথি এসে বাসা বেঁধেছে, তাদের সঙ্গেই আপাতত কথাবার্তা চলছে। দেখা যাক কী হয়! যাই হোক না কেন, আপনাদের জানাব।''

হ্যাঁ, তিনি জানিয়েছেন। আমরা সকলে পেয়েছি তাঁর খবর। তবে সুসংবাদ নয়, অত্যন্ত বেদনাদায়ক এক দুঃসংবাদ। বুধবার সকালে মাত্র ৫৩ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে স্তম্ভিত গোটা চলচ্চিত্র জগত।

Actor Irrfan Khan Passes Away At 53 Battling Colon Infection

জনপ্রিয় অভিনেতা ইরফান খান, ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার মুম্বইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে ভর্তি হন কোলন ইনফেকশন নিয়ে। আই.সি.ইউ-তে তাঁর চিকিৎসাও চলছিল। কিন্তু, আর শেষ রক্ষা হল না। আজ, ২৯ এপ্রিল সকালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

আরও পড়ুন : ডঃ ভীমরাও রামজি আম্বেদকর : আজ তাঁর জন্মবার্ষিকীতে জেনে নিন কিছু তথ্য

এর আগে ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিল যে, ইরফান খান নিউরোএন্ডোক্রাইন টিউমার-এ ভুগছেন। এই টিউমার চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে এক বছর ছিলেন। একজন যোদ্ধার মতোই তিনি এই মারণ রোগের সঙ্গে মোকাবিলা করেন। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে 'আংরেজি মিডিয়াম' ছবি দিয়ে কামব্যাকও করেন, কিন্তু হঠাৎই স্তব্ধ হয়ে গেলো সবকিছু। টানা এত বছরের লড়াইয়ে অবশেষে হার মানতে হল তাঁকে। মাত্র চারদিন আগেই প্রয়াত হয়েছিলেন ইরফান খানের মা। শেষবারের মতো মায়ের সঙ্গেও আর দেখা হয়নি তাঁর। সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই জীবন যুদ্ধে হার মানলেন স্বনামধন্য, প্রতিভাবান এই অভিনেতা।

১৯৬৭ সালের ৭ জানুয়ারি, জয়পুরের একটি মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। স্কুল কলেজের গণ্ডি পেরোনোর পর ১৯৮৪ সালে দিল্লির নেশনাল স্কুল অফ ড্রামা থেকে স্কলারশিপ অর্জন করেন এবং ড্রামাটিক আর্টে ডিপ্লোমা করেন। এনএসডি এর কোর্স শেষ হওয়ার পরেই চলে আসেন মুম্বই। বহু স্ট্রাগল এর পর টেলিভিশনের সিরিয়াল দিয়ে শুরু করেন তাঁর অভিনয় জীবন। দূরদর্শন ও স্টার প্লাসের মতো বড় চ্যানেলে কাজ করেন। পাশাপাশি তিনি থিয়েটারও চালিয়ে যান। অস্কার প্রাপ্ত সিনেমা 'সালাম বোম্বে' তে ছোট্ট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সিনেমার এডিটিং এ বাদ পড়ে তাঁর অভিনীত চরিত্রটি, কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি।

'রোগ' সিনেমাতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপরে অনেক সিনেমায় মুখ্য চরিত্রের পাশাপাশি ভিলেনের চরিত্রেও অভিনয় করেন। ২০০৭ সালে অভিনীত 'মেট্রো' সিনেমাটি বক্স-অফিসে সাফল্য লাভ করে। স্লামডগ মিলিওনার, বিল্লু, লাইফ অফ পাই, দ্য লাঞ্চবক্স', পিকু, হিন্দি মিডিয়াম, কারিব কারিব সিঙ্গেল, ডুব (বাংলা সিনেমা) ইত্যাদি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রশংসা অর্জন করেন তিনি। তাঁর জীবনের শেষ ছবি 'আংরেজি মিডিয়াম'।

মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে করতে কখনোই দুর্বল বোধ করেননি তিনি। মৃত্যুকে কেয়ার না করে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন মাথা উঁচু করে। তাঁর অনুরাগীদের উদ্দেশ্যে তিনি টুইটারে লেখেন - "জীবনে জয়ী হওয়ার সাধনায় মাঝে-মধ্যে আমরা ভালবাসার গুরুত্ব ভুলে যাই। তবে দুর্বল সময় আমাদের তা মনে করিয়ে দেয়। আমাকে অফুরন্ত ভালবাসা দেওয়ার জন্য এবং পাশে থাকার জন্য আপনাদের সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের এই অফুরন্ত ভালবাসাই আমায় উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে। তাই আবারও আপনাদের মাঝেই ফিরছি। হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই সকলকে।" সত্যিই ফিরে এসেছিলেন তিনি, কিন্তু এই ফিরে আসা আর দীর্ঘস্থায়ী হলো না। হেরে গেল মনোবল ও ভালোবাসা। ভালো থেকো ইরফান...

X
Desktop Bottom Promotion