(ছবি) বাড়ি সাজানোর ক্ষেত্রে যে সাধারণ ৬ টি ভুল আমরা করি!

বাড়ি সাজানো মুখের কথা নয়। আদতে সোজা মনে হলেও সোজা নয়। কারণ বাড়ি সাজানোর ক্ষেত্রে অনেক কিছু মাথায় রাখতে হয়।

কিন্তু বাড়ি সাজানোর ক্ষেত্রে অনেক ছোট ছোট সাধারণ ভুল আমরা করে ফেলি যা সেভাবে বোঝা না গেলেও তা আদতে বাড়ির সর্বগ্র লুকটিকে প্রভাবিত করে।

বাড়ি সাজানোর হয়তো লিখিত কোনও বিধি বা রীতি নীতি নেই। আপনার বাড়ির সাজে আপনার সৃজনশীলতা আপনার ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে। কিন্তু চেষ্টা করুন নীচে দেওয়া ভুলগুলি এড়িয়ে চলতে।

ফয়ার নিয়ে মাথা না ঘামানো

ফয়ার নিয়ে মাথা না ঘামানো

দরজা দিয়ে ঢুকেই লিভিং রুমে ঢোকার আগে যে জায়গাটা থাকে যাকে আমরা ইংরাজিতে ফয়ার বলি, সেই জায়গাটি নিয়ে অধিকাংশ সময়ই আমরা গা করি না। এই জায়গাটিরও যে সাজের প্রয়োজন আছে তা ভেবেও দেখি না। কিন্তু আপনার বাড়ির সজ্জা নিয়ে প্রথম ইম্প্রেশনটা কিন্তু এই জায়গাটা দিয়েই তৈরি হয়।

তাই ফটো ফ্রেম, বা হাল্কা নরম আলো, ছোট ছোট গাছ দিয়ে এই জায়গাটি সাজানোর চেষ্টা করুন। তবে মাথায় রাখবেন ঢোকার মুখেই বেশি জবরজং সাজাবেন না, তাহলে তা ভাল লাগবে না।
আলোর ব্যবহার

আলোর ব্যবহার

বাড়ি সাজানোর ক্ষেত্রে আলোর ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক সময় আমরা বাড়ি সাজাতে গিয়ে কোথাও প্রাকৃতিক আলোকে বাড়ির ভিতরে ঢোকা থেকে আটকে দিই আবার কোথাও আলোর অত্যধিক ব্যবহারে চোখে ঝিলিমিলি লাগিয়ে দিই।

কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে কোথায় বেশি আলোর প্রয়োজন এবং কোথায় কম। যেমন ধরুন লিভিং রুমে একটু বেশি আলো থাকলে অসুবিধা নেই, আবার শোয়ার ঘরে কম আলো মন্দ নয়।
ম্যাচিং ম্যাচিং

ম্যাচিং ম্যাচিং

আমরা অনেক সময় ভাবি ঘরের দেওয়াল ও আসবারের রঙে সামঞ্জস্য রাখলে ভাল লাগে। কিন্তু এটা আমাদের ভুল ধারনা। ঘরের ক্ষেত্রে কনট্রাস্ট রংয়ের ব্যবহারই ভাল।

ঘরের দেওয়াল ও মেঝের সঙ্গে কনট্রাস্ট করে পর্দা, কুশন, কার্পেট, আসবাব পত্রের ব্যবহার করুন।

লিভিং রুমের ক্ষেত্রে আপনার দেওয়ালে যদি সাদা-কালো ওয়ালপেপারের ব্যবহার করেন তাহলে উজ্জ্বল রংয়ের কুশন ব্যবহার করুন। যেমন উজ্জ্বল লাল, কমলা, গোলাপী। সবুজ বা নীল রং একেবারে এড়িয়ে চলুন এক্ষেত্রে। পর্দা কালো-সাদাই রাখার চেষ্টা করুন।

স্থায়ী আসবাবপত্র

স্থায়ী আসবাবপত্র

অনেকসময় বড়, ভারি ভারি আসবাব তৈরির ক্ষেত্রে আমরা প্রথম থেকে ঠিক করে নিই এই কাঁচের আলমারি এখানে থাকবে, এই ভারি ড্রয়ার টেবিলটা এখানেই থাকবে। আর সেই অনুযায়ী, একেবারে স্থায়ীভাবে সেখানকারমতো করে আসবাব বানিয়ে নিই।

এর ফলে বছরের পর বছর একইভাবে এই আসবাবগুলি এক জায়গায় দেখতে দেখতে বিরক্তি এসে যায়। আসবাব কেনার বা বানানোর ক্ষেত্রে এমন বানান যেটা বিভিন্নভাবে রাখা যাবে। ফলে মাঝে মধ্যে বাড়ির জিনিসপত্রের জায়গা পরিবর্তন করলে আবার সেই নতুন বাড়ির আমেজটা পাওয়া যায়।

আর চেষ্টা করবেন দেখতে ও ওজনে হাল্কা আসবাব করার। কিন্তু গুনগত মানের সঙ্গে আপোশ করবেন না যেন।

আকার অনুপাত

আকার অনুপাত

বাড়ি সাজানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে ভুলগুলি হয়, তার মধ্যে অন্যতম হল বাড়ির সাজসজ্জার আকার অনুপাত। কার্পেট, পর্দার আকার, কুশনের আয়তন। অনেকসময় যেমন ঘরে প্রয়োজনের থেকে বড় কার্পেটের ব্যবহার করা হয়। ডিভান একই আকারের কুশন না দিয়ে বিভিন্ন আকারের কুশন মিলিয়ে মিশিয়ে রাখার চেষ্টা করুন।

অত্যধিক পেশাদার

অত্যধিক পেশাদার

বাড়ি যেন বাড়ির মতো হয়। অনেকে বেশি ইন্টিরিওর করতে গিয়ে বাড়ির ঘর একেবারে হোটেলের ঘর বানিয়ে ফেলেন। এই কৃত্রিম ভাবটা এড়িয়ে চলুন। শুধু কয়েকটি জিনিস মাথায় রেখে নিজের বাড়ি নিজের মনের মতো করে সাজানোর চেষ্টা করুন।

Story first published: Monday, July 6, 2015, 14:03 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion