মুখের অবাঞ্ছিত লোম অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলেছে, সমস্যা এড়াতে আজই ট্রাই করুন এই ঘরোয়া প্রতিকার

By Bhagysree Sarkar

মহিলাদের মধ্যে খুব সাধারণ একটি সমস্যা হল মুখে অবাঞ্ছিত লোম। বর্তমানে ভীষণভাবে দেখা যাচ্ছে এই সমস্যা। এই ধরনের অবাঞ্ছিত লোম অস্বস্তির কারণও। অনেকেই এই অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করতে পার্লারে যান। কিন্তু কর্মব্যস্ততায় সবসময় তা হয়ে ওঠে না। আবার পার্লারের ট্রিটমেন্ট ত্বকের জন্য অস্বাস্থ্য়করও হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াক্সিং বা থ্রেডিং একেবারেই করা উচিত নয়। বিশেষ করে এই অবাঞ্ছিত লোম তোলার জন্য। তাহলে কীভাবে এই সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন?

চর্ম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের মুখের লোম থাকা স্বাভাবিক। তবে অনেকের ক্ষেত্রে হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে বেশি লোম হতে দেখা যায়। এই সমস্যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় 'হার্সিটিজম' বলা হয়। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে বংশধারার কারণেও দেহে ও মুখে লোমের পরিমাণ নির্ভর করে। কিন্তু আপনি যদি আপনার মুখের এই লোম দূর করতে রেজার ব্যবহার করেন, তবে এই কাজ একেবারই করা উচিত নয়। মুখের লোম দূর করতে রেজার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

face

মুখের চুলের কারণে মেকআপ ঠিকমতো করা যায় না। যেকোনও প্রোডাক্টই মুখে বসে না। উল্টে আরও কুৎসিত দেখায়। তাই মুখের এই লোম দূর করার জন্য আপনি প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেও ভরসা রাখতে পারেন। চলুন এই প্রবন্ধে আজ জেনে নিন ঘরে বসেই কম খরচে মুখের এই লোম কীভাবে দূর করবেন-

  • লেবু ও মধুর ব্যবহার

লেবু ও মধুর সংমিশ্রণ আপনার মুখের অবাঞ্ছিত লোম দূর করতে সাহায্য করে। এরজন্য এক টেবিল-চামচ মধু, দুই টেবিল-চামচ চিনি ও লেবুর রস মিশিয়ে তিন মিনিট ফোটাতে হবে। তবে মনে রাখবেন, এই সময় কিন্তু ধীরে ধীরে নাড়তে থাকতে হবে। যদি বেশি ঘন হয়ে যায়, তবে জল দিয়ে পাতলা করে পেস্ট তৈরি করতে হবে। এবার ঠাণ্ডা হওয়ার পর অবাঞ্ছিত লোমের অংশে লাগাতে হবে। এটি প্রাকৃতিক 'ওয়াক্স' হিসেবে কাজ করে। তাই ওয়াক্স স্ট্রিপ দিয়ে লোম ওঠার বিপরিতে এই পদ্ধতি মেনে চলুন।

  • ওটস এবং কলার ব্যবহার

প্রাকৃতিকভাবে মুখের অবাঞ্ছিত লোম তোলার জন্য ওটস এবং কলার ব্যবহার করতে পারেন। এটিও বেশ কার্যকরী একটি পদ্ধতি। এরজন্য দুই টেবিল-চামচ ওটস ব্লেন্ডারে গুঁড়া করে নিতে হবে। এটি 'এক্সফলিয়েন্ট' হিসেবেও ভালো কাজ করবে। এর সঙ্গে একটি পাকা কলা মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগিয়ে রাখুন। ১৫ মিনিট বৃত্তাকার আকারে মালিশ করার পর জল দিয়ে আলতোভাবে ধুয়ে ফেলুন। আপনি সপ্তাহে দুবার এই ঘরোয়া প্রতিকারটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন এবং আপনি অল্প সময়ের মধ্যেই পার্থক্য দেখতে শুরু করবেন।

  • ডিমের সাদা অংশ ও চালের আটার ব্যবহার

হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেন ডিমের ব্যবহারেও আপনার অবাঞ্ছিত লোম উঠে যেতে পারে। এরজন্য একটি বাটিতে ডিমের সাদা অংশ, এক টেবিল-চামচ চিনি ও আধা চা-চামচ চালের আটা মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এটিকে অবাঞ্ছিত লোমের অংশে মেখে ২০ থেকে ৩০ মিনিট শুকানোর জন্য রেখে দিন। এরপর লোম ওঠার বিপরীত দিকে শুকিয়ে যাওয়া মিশ্রণটা ধীরে টেনে তুলে জল দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে ‍মুখ। সপ্তাহে একবার ব্যবহারেই ফল পাবেন।

এছাড়াও আপনি যদি মুখের লোম নিয়ে সমস্যায় পড়েন, তবে তা দূর করতে জেলটিন পাউডার এবং দুধ ব্যবহার করতে পারেন। এই দুটি জিনিস থেকেই মাস্ক তৈরি করা যায়। একটি পাত্রে দুই চামচ জেলটিন পাউডারে দুধ ও লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এখন বাটিটি মাইক্রোওয়েভে ২০ মিনিটের জন্য রাখুন। ফেসিয়াল হেয়ার রিমুভাল মাস্ক রেডি। মাস্ক ব্যবহারের আগে মুখ পরিষ্কার করুন। মাস্ক শুকিয়ে গেলে তুলে ফেলুন।

তবে মনে রাখবেন, আপনার ত্বক যদি সংবেদনশীল হয় তাহলে মুখে ফিটকিরি ও লেবুর রস ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন। ফিটকিরি ব্যবহারে ত্বকে চুলকানি, লালচেভাব এবং জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই সাবধানতা অবলম্বন করেই এই ঘরোয়া প্রতিকার ট্রাই করুন।

Story first published: Saturday, July 27, 2024, 13:53 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion