দাঁতের যন্ত্রণায় ছটফট করেন? জানুন এর থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু ঘরোয়া টোটকা

ছেলেবেলা থেকেই দাঁতের যত্ন নেওয়ার কথা মা-ঠাকুমারা বলেই থাকেন। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমরা দাঁতকে অবহেলা করি, যার ফল হাতেনাতে পাই। দাঁতের সমস্যার কোনও বয়স নেই। পাঁচ বছরের শিশুরও দাঁতের সমস্যা হতে পারে, আবার ৫০ বছরের ব্যক্তিও দাঁতের যন্ত্রণায় কাতরাতে পারেন। দাঁতের যন্ত্রণা কতটা কষ্টকর সেটা যার হয় সেই বোঝে। দাঁতের গোড়া বা স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে মারাত্মক যন্ত্রণা হয়। ব্যথার চোটে মাথা, চোখ ব্যথাও শুরু হয়ে যায়।

Simple Home Remedies For Toothache

অত্যধিক দাঁতে ব্যথা হতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ, কিন্তু সবসময় চিকিৎসকের কাছে ছুটে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই আপনাদের জন্য রইল কিছু ঘরোয়া টোটকা, যেগুলো আপনাকে দাঁতের ব্যথা থেকে নিমেষে রেহাই দিতে পারে।

১) নুন গরম জলে কুলকুচি

১) নুন গরম জলে কুলকুচি

দাঁতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রথম উপায় হল, নুন গরম জলে কুলকুচি। নুন জল হল প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক, যা দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাদ্য বা ময়লা দূর করতে সহায়ক। এছাড়া, নুন জলে কুলকুচি দাঁতের ব্যথা কমানোর পাশাপাশি দাঁতের ক্ষত-ও সারিয়ে তুলতে পারে। এক গ্লাস গরম জলে আধ চা চামচ নুন মেশান এবং সেই জল দিয়ে কুলকুচি করুন।

২) রসুন

২) রসুন

রসুন ঘরোয়া অ্যান্টিবায়োটিক, প্রাচীন কাল থেকেই শরীরের বিভিন্ন সমস্যায় রসুনের ব্যবহার হয়ে আসছে। রসুন দাঁতে তৈরি হওয়া ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াকে মারে, ব্যথা উপশমেও সহায়ক। একটা-দুটো রসুনের কোয়া নিয়ে থেঁতলে নিন, তার সঙ্গে সামান্য নুন মিশিয়ে যন্ত্রণার জায়গায় লাগান। রসুন চিবিয়েও খেতে পারেন। যন্ত্রণা কম না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন লাগাতে পারেন।

৩) অ্যালোভেরা

৩) অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরায় থাকে অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান, যা দাঁতের জীবাণুকে নষ্ট করে দেয়। দাঁতে থাকা জীবাণুই দাঁতের সব সমস্যার কারণ। অ্যালোভেরা জেল নিয়ে যন্ত্রণার জায়গায় লাগাতে পারেন।

৪) হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডে কুলকুচি

৪) হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডে কুলকুচি

দাঁতের ব্যাথা কমানোর করার জন্য হাইড্রোজেন পার অক্সাইড দারুণ কাজ করে। এটি দাঁতে থাকা ব্যাকটেরিয়াকে মেরে দেয়, এছাড়া দাঁতের যন্ত্রনা থেকে দ্রুত মুক্তি দেয়, মাড়ি থেকে রক্তপড়াও আটকায় হাইড্রোজেন পার অক্সাইড। জল ও হাইড্রোজেন পার অক্সাইড সমপরিমাণ নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। ওই মিশ্রণ দিয়ে কুলকুচি করুন। তবে কোনওভাবেই গিলে ফেলা যাবে না। কুলকুচির পর পরিষ্কার জল দিয়ে মুখ ভালো করে ধুয়ে নিন।

৫) লবঙ্গ

৫) লবঙ্গ

দাঁতের ব্যথার উপশমে আয়ুর্বেদে দীর্ঘকাল ধরেই লবঙ্গের ব্যবহার হয়ে আসছে। লবঙ্গ তেল দাঁতের ব্যথার উপশমে খুব কার্যকরি। দাঁতের ব্যাথার কারণে মাড়িতে যে ব্যাথা হয় সেটাও কম করে লবঙ্গ। দু-তিন ফোঁটা লবঙ্গের তেলের সঙ্গে আধ চা চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। তারপর তুলোয় করে যন্ত্রণার জায়গায় লাগান। কিছুক্ষণ রাখার পর জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। দু-তিন সপ্তাহ দিনে একবার করে ব্যবহার করলেই ফল পাবেন।

৬) বরফের সেঁক

৬) বরফের সেঁক

যেকোনও যন্ত্রণা কমাতে বরফের সেঁক দিয়ে থাকি আমরা। দাঁতের যন্ত্রণাতেও ভালো কাজ হয় বরফের সেঁক দিলে। বরফের সেঁক দিলে নার্ভগুলি অবশ হয়ে পড়ে। মাড়ি ফোলা এবং প্রদাহকে কম করতে সাহায্য করে ঠাণ্ডা। কাপড়ে মুড়ে বরফের কিউব ব্যথা জায়গায় কিছুক্ষণ চেপে রাখুন। কাজ হবে!

৭) পেয়ারা পাতা

৭) পেয়ারা পাতা

পেয়ারা পাতায় থাকে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য, যা যন্ত্রণা কমাতে সাহায্য করে। চিবিয়ে খেতে পারেন বা জলে কয়েকটা পেয়ারা পাতা ফুটিয়ে সেই জল দিয়ে কুলকুচি করতে পারেন। যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন কয়েকদিনেই!

কথায় বলে, দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বোঝে না। এই প্রবাদ ষোলো আনা সত্যি। তাই আজ থেকেই দাঁতের যত্ন নিন। দাঁতের ব্যথা হলে ঘরোয়া টোটকায় সাময়িক উপশম পেলেও পরে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

X
Desktop Bottom Promotion