কিডনিতে পাথর জমেছে? হোমিওপ্যাথি ওষুধ নয়, খান ঘরোয়া এই স্বাস্থ্যকর পানীয়গুলি

By Bhagysree Sarkar

কিডনিতে পাথর বর্তমানে খুব পরিচিত একটি সমস্যা। দিন প্রতি দিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এই সমস্যা। কিডনিতে সমস্যা হলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। শুধু তাই নয়, কিডনি বিকল হয়ে গেলে কিন্তু প্রাণহানির ঝুঁকিও বাড়ে। তাই খাওয়াদাওয়া সতর্কতা অবলম্বন করা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। মূলত, খাওয়ায় অনিয়ম, অতিরিক্ত ওজন, বিশেষ কিছু ওষুধের ব্যবহারের কারণে আমাদের কিডনিতে পাথর জমতে পারে। তবে ভয়ের কারণ নেই, সঠিক চিকিৎসয় আপনি খুব দ্রুত চাঙ্গা হয়ে যাবেন।

তবে শীঘ্রই যদি সেই পাথর শরীর থেকে বার না করা হয়, তাহলে কিন্তু সমস্যা বাড়তে পারে। এই সমস্যা আপনার মূত্রনালির যেকোনও অংশকে প্রভাবিত করতে পারে। কিডনি আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ করে, শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের রক্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি বর্জ্যকে ফিল্টার করে প্রস্রাবে পরিণত করে। প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম, অক্সালেট এবং ইউরিক অ্যাসিড থাকে, যা স্ফটিক গঠনের দিকে পরিচালিত করে। যা পাথরে পরিণত হয়। এই পাথর কিন্তু খুব বেদনাদায়ক এবং কিডনির ক্ষতি হতে পারে।

ছবি সৌজন্য- pexels

তাই আপনার প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা এবং ওষুধের প্রয়োজন। প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেও সেগুলি অপসারণ করা যেতে পারে। কিন্তু আজকের প্রতিবেদনে আমরা দেখবো একটি ঘরোয়া প্রতিকার, যা আমাদের কিডনিতে পাথর দূর করতে পারে। এখানে কিছু পানীয়র কথা বলা হচ্ছে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ এবং এটি তৈরি করা খুব সহজ।

লেবুর রস-
প্রাকৃতিকভাবে কিডনিতে পাথর দূর করার জন্য লেবুর রস খুবই উপকারী। লেবুতে সাইট্রেট থাকে, যা কিডনিতে পাথরের চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত একটি মূল উপাদান। লেবু ক্যালসিয়ামকে বাঁধা এবং পাথর গঠনে বাধা দেয়। এরজন্য লেবু চেপে এক গ্লাস জলে মিশিয়ে পান করলে কিডনির পাথর সহজেই বের হয়ে যায়।

ডালিমের রস-
ডালিম হল একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল। যাতে রয়েছে প্রয়োজনীয় ভিটামিন যেমন ফোলেট, ভিটামিন সি এবং ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং পটাসিয়ামের মতো খনিজ পদার্থ। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যগুলি কিডনিতে নিরাময় প্রভাব ফেলতে পারে এবং কিডনিতে পাথর গঠন প্রতিরোধ করতে পারে।

তুলসীর রস-
সনাতন ধর্মে তুলসী বা তুলসি একটি পবিত্র গাছ। ভারতে এটি ঔষধি গুণাবলীর জন্য পরিচিত। তুলসী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যে ভরপুর। এটি কিডনিতে পাথরের ব্যথা কমাতেও কার্যকর হতে পারে। তুলসী পাতা জলে সিদ্ধ করে প্রতিদিন সেবন করুন। এছাড়া তুলসী চা পান করাও সাহায্য করতে পারে।

আপেল সিডার ভিনেগার-
আপেল সাইডার ভিনেগার কিডনির পাথর দূর করতে সহায়ক হতে পারে। কারণ, এতে অ্যাসিটিক অ্যাসিড বেশি থাকে, যা প্রাকৃতিকভাবে কিডনির পাথর ভেঙে দেয়। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি কিডনিতে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্রতিরোধ করতে পারে এবং এর প্রাকৃতিক পরিষ্কারে সহায়তা করতে পারে। এটি কিডনিতে পাথরের কারণে ব্যথা কমাতে পারে।


তবে যার কথা না বললেই নয়, তা হল জল। আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের পরিপ্রেক্ষিতে হাইড্রেটেড থাকা স্বাস্থ্যকর জীবনের চাবিকাঠি। ডিহাইড্রেশন কিডনিতে পাথর তৈরির অন্যতম কারণ। কিডনিতে পাথরে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রতিদিন ৩ লিটার জল অবশ্যই পান করা উচিত। এটি কিডনিতে পাথর উত্তীর্ণ হওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে।


মনে রাখবেন, কিডনিতে পাথর একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা। আপনার জীবনধারা এবং খাদ্যাভাসে কোন পরিবর্তন করার আগে আপনার সবসময় অভিজ্ঞ চিকিৎসেক পরামর্শ নেওয়া উচিত। কিডনির পাথর অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। সুস্থ থাকতে সঠিক ওষুধ এবং ঘন ঘন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতেই হবে।

Story first published: Wednesday, July 24, 2024, 13:23 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion