সাবধান! গৃহস্থালির এই জিনিসগুলো থেকে হতে পারে বায়ুদূষণ

আমরা কমবেশি দিনের কিছুটা সময় সবাই বাড়িতে কাটাই। নিজের বাড়ি সবার কাছে শান্তির আশ্রয়, নিরাপদ জায়গা। কিন্তু আপনার বাড়ি কী আদৌ আপনার জন্য নিরাপদ? বাড়িতে সময় কাটিয়ে আপনি নিজের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছেন না তো? গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বাড়ির বাইরে বের হলে যতটা দূষিত বায়ু আমাদের শরীরে ঢুকে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে, ঠিক ততটা ক্ষতি বাড়িতে থেকেও হতে পারে!

বায়ু দূষণের কুফল সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। সাধারণত কলকারখানা বা যানবাহনের ধোঁওয়া বাতাসে মিশে বাতাসকে দূষিত করে। তবে শুধু কলকারখানা বা যানবাহনের ধোঁওয়া নয়, বায়ু দূষিত করতে পারে আপনার ঘরে থাকা জিনিসপত্রও। শুনতে অবাক লাগলেও এটা সত্যি। জেনে নিন আপনার বাড়ির কোন জিনিসগুলো বায়ুদূষণ ঘটাচ্ছে।

Household Items That Are Literally Poisoning The Air Around You

রঙ

বাড়ি রঙ করে বেঁচে যাওয়া রঙ আপনি কী করেন। সবাই বলবেন, স্টোররুমে রাখা আছে। আপনার বাড়িতে রঙ রাখা থাকলে এখনই সেটা কোনও কাজে ব্যবহার করে ফেলুন বা ফেলে দিন। কারণ ওই রঙ আপনার বাড়ির বাতাসকে দূষিত করে দিচ্ছে। খোলা রঙের জায়গা থেকে ভিওসি বা ভলাটাইল অরগ্যানিক কমপাউন্ডস গ্যাস বের হয়। যে গ্যাসের জন্য আমাদের শ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে। দূষণ এড়াতে কম ভিওসি আছে এমন রঙ ব্যবহার করতে পারেন।

ক্লিনিং প্রোডাক্টস

ঘরের মেঝে, বাথরুম পরিস্কার রাখতে, জীবাণু দূর করতে আমরা বিভিন্ন ক্লিনিং প্রোডাক্টস ব্যবহার করি। আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে জীবাণু দূর করতে গিয়ে ঘরের বাতাস দূষিত যেন না করে ফেলেন। তাই ক্লিনিং প্রোডাক্টস-এর বদলে জল, ভিনিগার বা বেকিং সোডা দিয়ে পরিষ্কার করার চেষ্টা করুন।

এরোসল স্প্রে

বিভিন্ন সময়ে আমরা বাড়িতে এরোসল স্প্রে ব্যবহার করি। আপনি হয়তো জানেনও না এই স্প্রে আপনার ও আপনার প্রিয়জনদের শরীরে ভয়ানক ক্ষতি করছে। যে পরিমাণ ভলাটাইল অরগ্যানিক কমপাউন্ডস গ্যাস আমাদের আশপাশে থাকে তার ৫০ শতাংশ এরোসল স্প্রে ব্যবহারের ফলে নিঃসৃত হয়। শুধু ঘরের ভিতরে নয়, ঘরের বাইরের বাতাসকেও দূষিত করে এইসব স্প্রে।

এয়ার ফ্রেশনার

ঘরে সুগন্ধ ছড়াতে এয়ার ফ্রেশনারের জুরি মেলা ভার। কিন্তু এইসব এয়ার ফ্রেশনারে কী ধরণের কেমিকেল থাকে আপনি জানেনও না। প্রায় ১০০ রকমের আলাদা আলাদা কেমিকেল ব্যবহার করা হয় এয়ার ফ্রেশনার তৈরিতে। যেগুলো প্রত্যেকটাই স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার না করে বরং জানলা খুলে রাখুন, চালিয়ে রাখতে পারেন পাখা। ঘরের মধ্যে ঠিক করে বাতাস ঢুকলে কোনও দুর্গন্ধ তৈরি হবে না।

ড্রাই ক্লিনিং

বাড়িতে হাতে করে জামাকাপড় কাচার চেষ্টা করুন। একমাত্র যেসব জামাকাপড় হাতে কাচা যাবে না, সেগুলি ড্রাই ক্লিনিংয়ে দিন। ড্রাই ক্লিনিং কাপড়ের মধ্য়ে ভিওসি গ্যাস তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে বাতাসে মেশে। স্বাস্থের ক্ষতি করে।

সুগন্ধি বাতি

সুগন্ধি বাতি অনেকেই ঘরে জ্বেলে রাখেন। চোখের জন্য এটা আরামদায়ক হলেও আপনার স্বাস্থ্যের জন্য কিন্তু একদমই না। এই বাতি থেকে দূষণ ছড়ায়। সুগন্ধি বাতির পরিবর্তে মোমের বাতি ব্যবহার করতে পারেন।

উড প্রোডাক্টস

প্লাইউড, পার্টিকেলবোর্ডে থাকে ফর্মালডিহাইড। বছর দুয়েক পর থেকে এইসব থেকে একধরণের গ্যায় বের হয়, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। নো-ফর্মালডিহাইড পণ্য ব্যবহার করা উচিত, সেইসঙ্গে দেখতে হবে ঘরে যেন যথেষ্ট হাওয়া ঢুকতে পারে।

গ্যাস স্টোভ

গ্যাস স্টোভ জ্বালালে নাইট্রোজেন অক্সাইড বের হয়। তাই গ্যাস স্টোভ জ্বালালে সবসময় জানলা খুলে রাখতে হবে। রান্নাঘরে যেন বাইরের বাতাস পর্যাপ্ত ঢুকতে পারে সে ব্য়বস্থা রাখতে হবে। এক্সস্ট ফ্যান লাগাতে হবে রান্নাঘরে।

এয়ার পিউরিফায়ার

এয়ার পিউরিফায়ার ওজন গ্যাস তৈরি করে যা স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করলে ঘরের বাতাস সুগন্ধ হচ্ছে মনে হলেও আসলে সেটা দুষণ ছড়াচ্ছে।

অনেকসময়ই হয়তো ক্ষতিকর এই জিনিসগুলো বর্জন করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে বাড়িতে পর্যাপ্ত জানলা করতে হবে। বাইরের বাতাস যেমন ঢুকবে তেমনি ঘরের ভিতরের বাতাস বের হতে পারে, সে ব্যাবস্থা রাখতে হবে।

X
Desktop Bottom Promotion