ভ্যাপসা গরমে ঘামাচির উপদ্রব? ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে জব্দ করবেন জানুন

By Bhagysree Sarkar

গরমের দিন অপছন্দের অন্যতম কারণ হল হিট র‍যাশ বা ঘামাচি। ছোট থেকে বড়, সব বয়সের মানুষের মধ্যেই এই ঘামাচির সমস্যা দেখা যায়। এমনিতেই দিনের তাপমাত্রা ৪০ পার, তার উপর ঘামাচির উপদ্রব। যাকে বলা হয়, একেবারে মরার উপর খাড়ার ঘা। চিকিৎসকদের ভাষার এর নাম, মিলিয়ারিয়া। ঘাম শব্দ থেকে এর নামকরণ, ঘামাচি। যা মূলত এক ধরণের চর্মরোগ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমের তাপে অনেকের ত্বক লাল হয়ে যায়, ফুসকুড়ি দেখা দেয় যা ঘামাচি বা হিট র‍যাশ হিসেবে পরিচিত। ঘামাচি হলে প্রচণ্ড চুলকানি হয়, জ্বালাভাব অনুভব হয়। সাধারণত সারা শরীরেই ঘামাচি হয়। তবে পিঠে, বুকে, কপাল, গলায় এবং ঘাড়ে বেশি দেখা যায়। শিশুদের সবচেয়ে বেশি ঘামাচি হয়। তবে কিছু বিষয় মাথায় রাখলেই ঘামাচির প্রতিরোধ করা সম্ভব। যেমন-

prickly heat
  • যাদের মাথায় চুলের গোড়ায় ঘাম বেশি হয়। তাদের সময়ে সময়ে চুলে শ্যাম্পু করতে হবে। যাতে ইনফেকশন না হয়।
  • গরমে সর্বদা ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরতে হবে। যাতে অস্বস্তি না হয়।
  • যাদের শরীরে ঘাম বেশি হয়, তারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঘামে ভেজা জামা বদলে ফেলুন। হাতের কাছে নরম কাপড়, তোয়ালে বা রুমাল রাখুন। যাতে ঘাম হলে সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে মুছে নিতে পারেন।
  • নিয়মিত স্নান করতে হবে। তাপমাত্রা বেশি থাকলে দিনে দুইবার স্নান করুন। তবে মনে রাখবেন, স্বাভাবিক তাপমাত্রার জলেই স্নান করবেন। শরীর সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে।
  • এই গরমে বাচ্চাদের ডায়াপার বেশি না পরানোই ভালো। এতে ঘামাচি হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
  • এছাড়াও, যথাসম্ভব গরম এড়িয়ে চলতে হবে। ফ্যানের নিচে, এসিতে থাকলে ঘামাচি কম হয়।

তবে আমাদের হাতের কাছেই রয়েছে এমন কিছু উপাদান,যা ঘামাচির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে পারে। যেমন-

  • মুলতানি মাটি

মুলতানি মাটির পেস্ট ঘামাচিতে বেশ উপকারি বলে মনে করা হয়। এই পেস্ট তৈরি করতে লাগবে ৪/৫ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি, গোলাপ জল ২/৩ টেবিল চামচ ও জল পরিমাণ মত। ঘামাচির জায়গায় এই পেস্ট ২/৩ ঘণ্টা রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেললে কয়েক দিনের মধ্যে ঘামচি ভালো হয়ে যাবে।

  • নিমপাতা

ত্বকের যে কোনো সমস্যার সমাধান রয়েছে নিমপাতায়। একইভাবে ঘামাচির থেকে মুক্তি দিতেও সক্ষম এই প্রাকৃতিক উপাদান। কারণ, নিমপাতায় আছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। যা ঘামাচি নিরাময়ে সাহায্য করে। নিমপাতার পেস্ট শরীরে লাগিয়ে তা সম্পূর্ণ শুকাতে দিন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। ৪-৫ বার দিনে ব্যবহার করতে পারলেই ঘামাচির সমস্যা মিটবে।

  • বরফ

এটি বহুদিন ধরে আমাদের দাদু-ঠাকুমায়েরা ব্যবহার করে আসছে। এটি সবথেকে সহজ উপায়। ঘামাচি থেকে মুক্তি পেতে ওইস্থানে বরফ ঘষুন। এক্ষেত্রে আপনি ঠাণ্ডা জলও ব্যবহার করতে পারেন।

Story first published: Tuesday, June 11, 2024, 14:06 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion