ওভারিয়ান সিস্ট সারাতে দারুন কাজে আসে এই ৮ টি ঘরোয়া পদ্ধতি

Posted By:
Subscribe to Boldsky

মেনোপজের আগে সিংহভাগ মহিলারই এই রোগটি হয়ে থাকে। সেই কারণেই তো ওভারিয়ান সিস্টকে এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় শারীরিক সমস্যা হিসেবে গণ্য করেছেন চিকিৎসকেরা। এক্ষেত্রে ওভারির উপরে এক বা একাধিক জলভর্তি থলির সৃষ্টি হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই রোগের কোন লক্ষণ দেখা যায় না বলে রোগী জানতেই পারেন না যে তার ওভারির স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে। প্রসঙ্গত, আপাত দৃষ্টিতে শরীরের কোনও ক্ষতি না করলেও সিস্টের সংখ্যা যদি বাড়তে থাকে অথবা এক একটা সিস্টই যদি আয়তনে খুব বিশালাকায় হয়ে যায়, তাহলে কিন্তু চিন্তার বিষয়।

ওভারিয়ান সিস্টের লক্ষণ:

যেমনটা একটু আগেই আলোচনা করা হয়েছে যে এই রোগে আক্রান্ত হলে সেভাবে কোনও লক্ষণের বহিঃপ্রকাশ ঘটে না। তবে কিছু ক্ষেত্রে পেটে অস্বস্তি, যন্ত্রণা এবং পেট ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যেতে পারে। ওভারিন সিস্টের সমস্যায় ভুগচেন এমন রোগীদের যদি হঠাৎ করে মারাত্মক পেটে যন্ত্রণা, জ্বর, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ার মতো লক্ষণের প্রকাশ ঘটে, তাহলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

এই ধরনের রোগের চিকিৎসায় অ্যালোপ্যাথি মেডিসিন দারুন জনপ্রিয়তা পেলেও এক্ষেত্রে বেশ কিছু ঘরোয় পদ্ধতি দারুন কাজে আসে। যেমন...

১. গরম সেক:

১. গরম সেক:

ওভারিয়ান সিস্টের কারণে পেটে যন্ত্রণা বা ক্র্যাম্প লাগলে সঙ্গে সঙ্গে গরম সেক দিতে হবে। এমনটা করলে কষ্ট একেবারে কমে যাবে। এক্ষেত্রে একটা কাঁচের বোতলে পরিমাণ মতো গরম জল নিয়ে ওই বোতলটা তলপেটে অথবা পেলভিক এরিয়ায় ১৫ মিনিট রেখে দিলেই দেখবেন আরাম মিলছে।

২. রেড়ির তেল:

২. রেড়ির তেল:

মোটা একটা কাপড় নিয়ে তাতে ২ চামচ রেড়ির তেল দিয়ে দিন। তারপর একটা টাওয়ালের উপর বসে পেটের উপরে রেড়ির তেল দেওয়া কাপড়টা জড়িয়ে নিন। তারপর পেটের উপর রাখা কাপড়ের উপরে একটা গরম জলের বোতল রেখে নিজেকে মোটা একটা চাদর দিয়ে ঢেকে নিন। এইভাবে ৩০ মিনিট থাকার পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুন। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে কম করে তিনবার এই ঘরোয়া পদ্ধতিটিকে কাজে লাগালে দারুন উপকার পাওয়া যায়।

৩. ইপসাম লবন:

৩. ইপসাম লবন:

স্নানের সময় এক বালতি গরম জলে পরিমাণ মতো ইপসাম লবন এবং ১০ ফোঁটা গোলাপ তেল মিশিয়ে নিন। ভাল করে নারান জলটা যাতে দুটি উপাদান ভাল করে মিশে যেতে পারে। যখন দেখবেন নুনটা জলে গুলে গেছে তখন শরীরের নিচের অংশে এই জলটা ঢালতে থাকুন। সুযোগ থাকলে শরীরের নিম্নাংশ এই জলে ২০-৩০ মিনিট চুবিয়েও রাখতে পারেন। এই ঘরোয়া চিকিৎসাটি প্রতিদিন এক বার করে করলে ওভারিয়ান সিস্টের প্রকোপ একেবারে কমে যাবে।

৪. অ্যাপেল সিডার ভিনিগার:

৪. অ্যাপেল সিডার ভিনিগার:

শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি দূর করার মধ্যে দিয়ে এই প্রাকৃতিক উপাদানটি সিস্ট কমিয়ে ফেলতে দারুন কাজে আসে। এক্ষেত্রে কীভাবে ব্যবহার করতে হবে অ্যাপেল সিডার ভিনিগারকে? ১ গ্লাস গরম জলে ১ চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে নিয়ে সেই মিশ্রনটি প্রতিদিন ১-২ গ্লাস খেলেই দেখবেন উপকার মিলতে শুরু করেছে।

৫. বিটরুট:

৫. বিটরুট:

এতে উপস্থিত বিটাসিয়ানিন নামে একটি উপাদান লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে শরীর থেকে সব ক্ষতিকর উপাদানদের বাইরে বের করে আনে। সেই সঙ্গে শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা ঠিক রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ওভারিয়ান সিস্টের প্রকোপ কমাতেও কাজে লাগানো যেতে পারে এই ঘরোয়া পদ্ধতিটিকে। সেক্ষেত্রে হাফ কাপ বিট জুসের সঙ্গে ১ চামচ অ্যালো ভেরা জেল মিশিয়ে সেই মিশ্রনটি খেতে হবে। প্রসঙ্গত, প্রতিদিন ব্রেকফাস্টের আগে এক গ্লাস এই ওষুধটি খেলে ওভারিন সিস্টের প্রকোপ কমে যাবে।

৭. আদা:

৭. আদা:

এতে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ওভারিয়ান সিস্টের যন্ত্রণা কমাতে দারুন উপকারে লাগে। শুধু তাই নয়, এই রোগের কারণে যাতে পিরিয়ডে কোনও বাধা না আসে সেদিকেও খেয়াল রাখে। এক্ষেত্রে একটা ব্লেন্ডারে ২ ইঞ্চি মাপের দুটো আদা, সঙ্গে দুই আঁটি সেলারি শাক, হাফ গ্লাস আপেলের রস, অল্প করে আনারসের রস মিশিয়ে ভাল করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে সবকটি উপাদান। এই মিশ্রনটি প্রতিদিন একবার করে খেলেই সিস্ট একেবারে গায়েব হয়ে যাবে।

৮. জল বেশি করে খেতে হবে:

৮. জল বেশি করে খেতে হবে:

ওভারিয়ান সিস্টের মতো রোগ সারাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খাওয়া জরুরি। ইচ্ছা হলে লেবুর রসও বারে বারে খেতে পারেন। একই উপকার পাবেন। আসলে যত বেশি করে জল খাবেন, তত শরীরে থেকে ময়লা এবং ক্ষতিকর টক্সিন সব বেরিয়ে যাবে। ফলে সিস্টের যন্ত্রণা যেমন কমবে, তেমনি এই রোগ থেকে মুক্তিও মিলবে তাড়াতাড়ি।

English summary
Often people are not aware of ovarian cysts as they typically do not cause any problems. However, in some cases they can cause symptoms like abdominal bloating, pain during bowel movements, menstrual irregularities, pelvic pain before or during the menstrual cycle, pain during sex, pain in the lower back or thighs, pressure in the rectum or bladder, nausea, and vomiting. Certain types of ovarian cysts can also cause decreased fertility.
Please Wait while comments are loading...