রাতবিরেতে মাড়িতে অসহ্য যন্ত্রণা? প্রাচীন এই ঘরোয়া টোটকায় কাজ হবে নিমেষে!

মাড়ির ব্যথা যে কী কষ্টকর তা ভূক্তভোগীরাই একমাত্র জানেন। একেবারেই সহ্য করা যায় না এই ব্যথা। খাওয়া, কথা বলায় খুবই সমস্যা হয়। ব্যথার চোটে দু'দণ্ড বিশ্রামও নেওয়া যায় না। অনেকেই নিজে থেকে পেইন কিলার খেয়ে ব্যথা সারানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনই কোনও ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

Home Remedies For Gum Pain

মাড়ির ব্যথা কমাতে আপনি ঘরোয়া টোটকার সাহায্য নিতে পারেন। মা-দিদিমাদের এই টোটকা, সেই প্রাচীন কাল থেকে চলে আসছে এবং তা কাজ করে ম্যাজিকের মতো! তবে, ব্যথা বেশি হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

লবণ জলে মুখ ধোওয়া

লবণ জলে মুখ ধোওয়া

মৌখিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে উষ্ণ লবণ-জলে মুখ ধোওয়ার রীতি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। আধুনিক গবেষণা অনুসারে, এটি দ্রুত মুখের ক্ষত নিরাময় করতে পারে।

এক গ্লাস গরম জলে এক চা চামচ লবণ দিন। যতক্ষণনা পর্যন্ত নুন গলছে ততক্ষণ চামচ দিয়ে নাড়তে থাকুন। এবার মুখে কিছুটা লবণ জল নিয়ে কিছুক্ষণ মুখের মধ্যে নাড়াচাড়া করুন। তারপরফেলে দিন। ব্যথা ও ফোলাভাব না সারা পর্যন্ত প্রতিদিন দু'বার করে এটি করুন।

গরম বা ঠান্ডা সেঁক

গরম বা ঠান্ডা সেঁক

ঠান্ডা সেঁক দিলে মাড়ির ব্যথা কমতে পারে। যে কোনও ব্যথা নিরাময়ের জন্য কোল্ড কম্প্রেসের ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। মুখের অস্ত্রোপচারের পরে দাঁতের ডাক্তাররাও ঠান্ডা সেঁক দিতে পরামর্শ দেন।

কয়েক টুকরো বরফ পরিষ্কার কাপড়ে মুড়িয়ে ব্যথার উপর কিছুক্ষণ ধরে রাখুন। দিনে দু-তিনবার এটি করুন যতক্ষণ না ব্যথা কমে।

ভেষজ এবং মশলার পেস্ট

ভেষজ এবং মশলার পেস্ট

হলুদ এবং লবঙ্গ মাড়ির ব্যথা উপশমের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। হলুদে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণ রয়েছে, যা দাঁত ও মাড়ি ভাল রাখতে পারে। লবঙ্গে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে, যা মাড়ির রোগ সারাতে দারুণ কার্যকর।

গুঁড়ো হলুদ বা গুঁড়ো লবঙ্গ কয়েক ফোঁটা গরম জলের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। আপনার মাড়িতে এই পেস্টটি লাগিয়ে ৫ মিনিট রেখে দিন। এর পর হালকা গরম জলে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

ব্যবহৃত টি ব্যাগ

ব্যবহৃত টি ব্যাগ

গ্রিন টি মাড়ি ভাল রাখতে কার্যকর। এতে প্রদাহ বিরোধী এবং অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। মাড়ির ব্যথা দ্রুত উপশমের জন্য টি ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন।

কিছুক্ষণ গরম জলে টি ব্যাগ ভিজিয়ে রাখুন। এবার ব্যবহৃত টি ব্যাগটি জল থেকে তুলে একটি পরিষ্কার পাত্রে হালকা ঠান্ডা হতে দিন। এটি সরাসরি আপনার আক্রান্ত মাড়িতে লাগিয়ে রাখুন ৫ মিনিট। এই প্রক্রিয়াটি দিনে দু'বার করতে পারেন।

মাড়ির ব্যথা প্রতিরোধের উপায়

মাড়ির ব্যথা প্রতিরোধের উপায়

মাড়ির ব্যথা ও ফোলা কমাতে এই টিপসগুলি অবশ্যই মেনে চলুন -

১) দিনে দু'বার আপনার দাঁত ব্রাশ করুন।

২) নরম ব্রাশ ব্যবহার করুন।

৩) কিছু খাওয়া বা পান করার পরে ভাল ভাবে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

৪) তামাক চিবানো এবং ধূমপান এড়িয়ে চলুন।

৫) দৈনন্দিন ডায়েটে দইয়ের মতো প্রোবায়োটিক এবং প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্যযুক্ত খাবার, যেমন - আদা এবং হলুদ অবশ্যই রাখুন।

X
Desktop Bottom Promotion