রক্তচাপ কমাতে এই ফলটির কোনও বিকল্প নেই?

একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে জামের মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা রক্তচাপ স্বাভাবিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন যদি এই ফলটা খাওয়া যায়, তাহলে হার্টের স্বাস্থ্যেরও

"গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না।" বহুকাল আগের এই উপমাটি বাস্তবিকই ঠিক। কারণ আমাদের হাতের কাছে থাকা নানা উপকারি উপাদানগুলিকে আমরা সেভাবে গুরুত্ব দিই না। বরং যেটা পেতে খুব কষ্ট করতে হয়, এমন জিনিসের পিছনে সব সময় ছুটে থাকি। যেমন ধরুন, রক্তচাপ কমাতে একটা ফল দারুন কাজে আসে। কিন্তু সেদিকে আমাদের কোনও খেয়াল নেই। তার পরিবর্তে আমরা ছুটি আধুনিক ওষুধের পিছনে। তাই তো এই এই প্রবন্ধে সেই বিশেষ ফলটির নানা গুণাগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল। এই ফলটি রক্তচাপ কমাতে বাস্তবিকই দারুন কাজে আসে। তাই যাদের ব্লাড প্রেসার বেজায় ওঠানামা করে তাদের একবার এই প্রবন্ধে চোখ রাখা মাস্ট!

এতদূর পড়ার পর নিশ্চয় জানতে ইচ্ছা করছে কোন ফলের কথা এখানে আলোচনা করা হচ্ছে?

একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে জামের মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা রক্তচাপ স্বাভাবিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন যদি এই ফলটা খাওয়া যায়, তাহলে হার্টের স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটে।

জাম শরীরের পক্ষে এত উপকারি কেন জানেন? আসলে এই ফলটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রপাটিজ, যা নানাভাবে আমাদের শরীরের গঠনে সাহায্য করে। তাই তো দিনের শুরুতেই এক মুঠো জাম খাওয়ার অভ্যাস করুন, দেখবেন অল্প দিনেই একেবারে চাঙ্গা হয়ে উঠবেন।

রক্তচাপ কমাতে কীভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে জামকে?

রক্তচাপ কমাতে কীভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে জামকে?

প্রতিদিন পরিমাণ মতো জামের সঙ্গে এক বাটি করে দই খেতে হবে। তাহলেই রক্তচাপ স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। আসলে জামে রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড নামে একটি উপাদান, যা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কীভাবে আমাদের সাহায্য করে:

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কীভাবে আমাদের সাহায্য করে:

আমাদের শরীরে মজুত একাধিক টক্সিনের ক্ষতিকরার ক্ষমতা কমাতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের কোনও বিকল্প নেই বললেই চলে। সেই সঙ্গে সারা শরীরে ঠিক মতো রক্ত সরবরাহ বজায় রাখতেও এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খেলে হার্টের রোগ হওয়ার আশঙ্কা কমে।

বিজ্ঞান কী বলছে:

বিজ্ঞান কী বলছে:

একাধিত গবেষণায় একথা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে যে জামে উপস্থিত অ্যান্থোসায়ানিন হার্টের স্বাস্থ্য ভাল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কাও কমাতেও বিশেষভাবে সাহায্য করে এই উপাদানটি।

রক্তচাপ এবং জাম:

রক্তচাপ এবং জাম:

প্রতিদিন এক কাপ করে জাম খেলে আর্টারি প্রসারিত হয়, ফলে রক্তচলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। আর একবার ব্লাড ফ্লো স্বাভাবিক হয়ে গেলে রক্তচাপও কমতে শুরু করে।

জামে উপস্থিত অ্যান্থোসায়ানিন আর কী কাজে লাগে?

জামে উপস্থিত অ্যান্থোসায়ানিন আর কী কাজে লাগে?

হজম ক্ষমতার উন্নতির পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি ভাল করতে, অ্যালঝাইমার রোগের প্রকোপ কমাতে এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে এই উপাদানটি।

এক কাপ জাম খেলে কতটা পুষ্টি পাওয়া যায়?

এক কাপ জাম খেলে কতটা পুষ্টি পাওয়া যায়?

এই পরিমাণ জাম থেকে কম করে ৮১ ক্যালোরি, শরীরের মোট প্রয়োজনের ২৪ শতাংশ ম্যাগনেসিয়াম এবং কিছু মাত্রায় ফাইবারও পাওয়া যায়। এবার বুঝতে পারছেন তো জাম খাওয়ার পক্ষে কেন এতটা সাওয়াল করেন চিকিৎসকেরা।

ম্যাগনেসিয়াম কী কাজে লাগে:

ম্যাগনেসিয়াম কী কাজে লাগে:

রক্ত জমাট বাঁধতে, হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে, নার্ভাস সিস্টেমের কর্মক্ষমতা বাড়াতে এবং ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধিতেও বিশেষ কাজে লাগে এই খনিজটি। শুধু তাই নয়, রক্তে সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতেও ম্যাগনেসিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

Story first published: Thursday, April 13, 2017, 11:10 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion