লম্বা হতে চান কি? এই সহজ ৭ টি পদ্ধতিতে আপনার লক্ষ পূরণ হতে পারে কিন্তু!

সারা জীবন "বেঁটে"র তাকমা নিয়ে বাঁচতে না চান তাহলে কাজে লাগন এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলিকে।

অমিতাভ বচ্চন হয়ে ওটা সবার পক্ষে সম্ভব না হলেও মোটামোটি লম্বা হতে কে না চায় বলুন! তাই তো এই প্রবন্ধে এমন কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চললে লম্বা আপনি হবেনই। তবে এক্ষেত্রে একটা বিষয় মাথায় রাখা উচিত যে সারা জীবন কিন্তু আমরা দৈহিকভাবে বৃদ্ধি পাই না। একটা বয়সের পর এই প্রক্রিয়া একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। ছেলেদের ক্ষেত্রে যেমন ১৮ বছরের পর কোনও ধরনের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে না। সেখানে মেয়েদের শারীরিক বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় মাত্র ১৬ বছর বয়সেই। তাই তো আপনাদের বাচ্চাদের সময় থাকতে থাকতে এই প্রবন্ধে আলোচিত ঘরোয়া পদ্ধতিগুলিকে কাজে লাগাতে বলুন। না হলে কিন্তু সারা জীবন "বেঁটে"র তাকমা নিয়ে বাঁচতে হবে। আর এমনটা হোক, তা নিশ্চয় আপনি চান না?

প্রসঙ্গত, কে কতটা লম্বা হবে তা অনেকাংশেই পরিবারিক ইতিহাসের উপর নির্ভর করে। কিন্তু একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে কোনও ভাবে যদি গ্রোথ হরমোনের ক্ষরণকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহলে কিন্তু দৈহিক উচ্চতাকে বাড়ানো সম্ভব হয়। আর এক্ষেত্রেই বিশেষ ভূমিকা নেয় এই প্রবন্ধে উল্লেখিত ঘরোয়া পদ্ধতিগুলি। তাহলে আর অপেক্ষা কিসের। চলুন জেনে নেওয়া যাক লম্বা হওয়ার ৭ টি সহজ পদ্ধতি সম্পর্কে।

১. অশ্বগন্ধা:

১. অশ্বগন্ধা:

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুসারে উচ্চতা বাড়াতে অশ্বগন্ধা দারুন উপাকারে লাগে। আসলে এতে উপস্থিত একাধিক খনিজ আমাদের হাড়ের গঠনে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে হাড়ের ঘনত্বেরও বৃদ্ধি ঘটায়। ফলে উচ্চতা বাড়তে শুরু করে। প্রসঙ্গত, ১ গ্লাস গরম গরুর দুধে ২ চামচ অশ্বগন্ধা পাউডার মিশিয়ে খেলে দারুন ফল পাওয়া যায়। তবে এই মিশ্রনটি টানা ৪৫ দিন, রাতে শুতে যাওয়ার আগে খেলে তবেই উপকার মিলবে।

২. দুধ খাওয়া জরুরি:

২. দুধ খাওয়া জরুরি:

হাড়ের গঠনের উন্নতিতে ক্যালসিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর এই খনিজটি বিপুল মাত্রায় রয়েছে দুধে। তাই যদি লম্বা হওয়ার ইচ্ছা থাকে, তাহলে প্রতিদিন কম করে ২-৩ গ্লাস দুধ খেতে হবে। সেই সঙ্গে প্রতিদিনের ডায়েটে পনির, দই এবং ক্রিম থাকা মাস্ট!

৩. যোগ-ব্যায়াম দারুন উপকারে লাগে:

৩. যোগ-ব্যায়াম দারুন উপকারে লাগে:

লম্বা হতে যোগ-ব্যায়ামের উপকারিতাকে কোনও ভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। কারণ এমন ধরণের শরীরচর্চা করার সময় আমাদের শরীরে গ্রোথ হরমোনের ক্ষরণ খুব বেড়ে যায়। ফলে উচ্চতা বাড়তে থাকে। প্রসঙ্গত, সূর্য নমস্কার, ভুজঙ্গাসন, হস্ত-পদাসন, সর্ভাঙ্গাসন, অধো-মুখ-সবাসন এবং ত্রিকোণাসন এক্ষেত্রে দারুন উপকারে লাগে।

৪. যতটা সম্ভব শরীরকে স্ট্রেচ করুন:

৪. যতটা সম্ভব শরীরকে স্ট্রেচ করুন:

পায়ের পাতার উপর দাঁড়িয়ে হাতদুটো মাথার উপর তুলে যতটা সম্ভব শরীরটা স্ট্রেচ করার চেষ্টা করুন। এমনটা দিনে কয়েকবার করলে দারুন ফল পাওয়া যায়। আর যে সব স্ট্রেচ এক্সারসাইজ এক্ষেত্রে দারুন উপকারে লাগে সেগুলি হল, কার স্ট্রেচ, সুপার স্ট্রেচ, কোবরা স্ট্রেচ, বো ডাউন, টুইস্ট এবং লেগ স্ট্রেচ। প্রসঙ্গত, প্রতিদিন শরীর স্ট্রেচ করলে কম করে ১-২ ইঞ্চি উচ্চতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

৫. খেলাধুলো বা শরীরচর্চা করা মাস্ট:

৫. খেলাধুলো বা শরীরচর্চা করা মাস্ট:

উচ্চতা বাড়াতে চাইলে প্রতিদিন খেলাধুলো বা যে কোনও ধরনের শরীরচর্চা করতেই হবে। কারণ এমনটা করলে শরীরে গ্রোথ হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। প্রসঙ্গত, দৈহিক উচ্চতা বাড়াতে স্কিপং দারুন কাজে আসে। প্রতিদিন যদি কম করে ৩০ মিনিট এই এক্সারসাইজটি করা যায় তাহলে দারুন ফল মেলে।

৬. রাতের ঘুম জরুরি:

৬. রাতের ঘুম জরুরি:

ঘুমনোর সময় আমাদের শরীরের অন্দরে কোষেদের বৃদ্ধি ঘটতে থাকে, যা উচ্চতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে ঘুমনোর সময়ই গ্রোথ হরমোনের ক্ষরণ সবথেকে বেশি মাত্রায় হয়। তাই তো উচ্চতা বৃদ্ধির স্বপ্ন দেখলে রাতে কম করে ৭-৮ ঘন্টার ঘুম জরুরি।

৭. ঠিক মতো খাবার খেতে হবে:

৭. ঠিক মতো খাবার খেতে হবে:

শরীরের উন্নতি তখনই সম্ভব হয়, যখন পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়। আর এমনটা তখনই হবে যখন ঠিক ঠিক খাবার খাবেন। তাই তো দৈহিক বৃদ্ধির জন্য প্রতিদিনের ডায়েটে জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস সমৃদ্ধি খাবার খেতে হবে। আর এই উপাদানগুলি বেশি মাত্রায় রয়েছে সবুজ শাক-সবজি, ফল, বাদাম, বীজ, দানা শস্য এবং ডেয়ারি প্রডাক্টে।

আরও কিছু টিপস:

১. ওজন বৃদ্ধি যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

২. স্মোকিং করা চলবে না।

৩. মদ্যপান নৈব নৈব চ!

৪. ফার্স্ট ফুড এবং ভাজা জাতীয় খাবার খাওয়া কমাতে হবে।

X
Desktop Bottom Promotion