বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২০ : হার্ট ভাল রাখতে এই ব্যায়ামগুলি অবশ্যই করুন

হার্ট-এর গুরুত্ব এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিবছর ২৯ সেপ্টেম্বর সারা বিশ্বজুড়ে পালিত হয় 'বিশ্ব হার্ট দিবস'। তাই স্বাস্থ্য বিষয়ক দিনগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় দিন হল আজকের দিনটি। শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ আমাদের হৃদযন্ত্র। যতদিন হৃদপিণ্ড সচল থাকবে, ততদিন মানুষ সুস্থ থাকবে। কিন্তু যখনই হৃদযন্ত্রের কোনও সমস্যা দেখা দেবে, তখনই ধেয়ে আসবে সমূহ বিপদ!

World Heart Day 2020 : Exercises to keep your heart healthy

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমান দিনে বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষই হার্টের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। দিনের পর দিন এই রোগ প্রবল আকার ধারণ করছে। তার কারণ, দুশ্চিন্তা, উত্তেজনা, উশৃঙ্খল জীবনযাপন, ইত্যাদি। একটি সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ১৭.৯ মিলিয়ন মানুষ এবং ভারতবর্ষে প্রায় ১.৭ মিলিয়ন মানুষ হার্টের অসুখে মারা যান। তাই হৃদরোগকে বিশ্বের এক নম্বর ঘাতকব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন : বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২০ : হার্ট অ্যাটাক কেন হয়? জানুন এর কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, নিজেদের সুস্থ ও ফিট রাখতে হার্টের বিশেষ যত্ন নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই, আজ আমরা এমন কিছু ব্যায়ামের কথা উল্লেখ করব যা আপনার হার্টকে সুস্থ ও সবল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাহলে দেখে নিন কোন ধরনের ব্যায়ামগুলি করবেন।

১) আইসোমেট্রিক ব্যায়াম

১) আইসোমেট্রিক ব্যায়াম

যে ব্যায়ামগুলি করার সময় শরীরের সমস্ত পেশীকে ব্যবহার করা হয়, তাকে সাধারণ অর্থে আইসোমেট্রিক ব্যায়াম বলে। একে আবার অ্যারোবিক এক্সারসাইজও বলে। যেমন - হাঁটাচলা, দৌড়ানো, সাঁতার কাটা ও সাইকেল চালানো। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন এই ধরনের ব্যায়ামগুলি হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে জড়িত ঝুঁকিগুলি, যেমন - রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং ডায়াবেটিসের মতো সমস্যাগুলি নিয়ন্ত্রণ করতেও সহায়তা করে। তাই রোজ সকাল ও সন্ধ্যায় এই ব্যায়ামগুলি করুন।

২) ওয়েট ট্রেনিং

২) ওয়েট ট্রেনিং

বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্টের স্বাস্থ্যকে ঠিক রাখতে ওয়েট ট্রেনিং এক্সারসাইজ খুবই সহায়ক। যেমন পুশ-আপস, স্কোয়াটস ও পুল-আপস, ইত্যাদি। এগুলি পেশীকে শক্তপোক্ত করে এবং হার্ট সচল রাখতে সাহায্য করে। তাই রোজ এই ধরনের এক্সারসাইজ করুন।

৩) যোগাসন

৩) যোগাসন

হার্টকে সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে যোগাসনের বিকল্প দ্বিতীয় কিছু হয় না বললেই চলে। যোগাসন রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে হার্টকে সুস্থ রাখতে এবং কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমকে উন্নত করতে সহায়তা করে। তাই প্রতিদিন সকালে আমাদের প্রত্যেকেরই যোগাসন করা অত্যন্ত প্রয়োজন। যেমন - ভীরাভদ্রাসন (দ্য ওয়ারিয়র পোজ), সেতুবন্ধ সর্বাঙ্গাসন, ত্রিকোণাসন, শবাসন, সূর্য নমস্কার, ভুজঙ্গাসন, পশ্চিমোত্তানাসন, ইত্যাদি হার্টের জন্য খুবই উপকারি যোগাসন।

৪) স্ট্রেচিং

৪) স্ট্রেচিং

হার্টকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন এক্সারসাইজের সময় স্ট্রেচিং করুন। এটি হার্টকে সুস্থ রাখার কার্যকর একটি ব্যায়াম। স্ট্রেচিং-এর মধ্যে হ্যামস্ট্রং স্ট্রেচ, কোয়াড্রিসেপস স্ট্রেচ, নি-পুল ও গ্রোইন স্ট্রেচ আমাদের হার্টকে সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক। এগুলি কীভাবে করবেন, তা আপনি বিভিন্ন ওয়েব সাইটে পেয়ে যাবেন।

৫) ডিপ ব্রীদিং এক্সারসাইজ

৫) ডিপ ব্রীদিং এক্সারসাইজ

হার্টকে সুস্থ রাখতে এক্সারসাইজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোজ সকালে এক ঘণ্টা ধরে এই এক্সারসাইজ করলে হার্টের রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন। সঠিক নিয়ম মেনে কীভাবে করা উচিত তা একজন বিশেষজ্ঞের থেকে জেনে তবেই করবেন।

এই সমস্ত এক্সারসাইজ ও যোগাসন করার পাশাপাশি সুষম আহার গ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজন। এছাড়াও, ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন করা, উশৃঙ্খল জীবনযাপন করা থেকে বিরত থাকা, বাইরের জাঙ্কফুড ও ফাস্টফুড না খাওয়া এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন করাও জরুরি। তবেই আমরা আমাদের শরীরকে এবং হার্টকে সুস্থ রাখতে সক্ষম হবো।

বিশেষ দ্রষ্টব্য - এই আর্টিকেলটি বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে লেখা। তাই আপনার শারীরিক অবস্থা বুঝে কোনও কিছু করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন। নিজে থেকে কিছু করবেন না।

X
Desktop Bottom Promotion