অ্যালোপেসিয়ায় আক্রান্ত স্ত্রীকে নিয়ে রসিকতা, ক্রিস রককে সপাটে চড় উইল স্মিথের! কী এই রোগ? জেনে নিন

খবরের শিরোনামে এখন একটাই নাম, জনপ্রিয় হলিউড অভিনেতা উইল স্মিথ। ৯৪তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডের মঞ্চে স্ত্রীকে নিয়ে রসিকতা করায় সরাসরি অস্কারের মঞ্চে উঠে গিয়ে সঞ্চালক ক্রিস রক-কে সপাটে চড় মারেন উইল স্মিথ! স্মিথের এহেন আচরণে হতবাক কোটি কোটি দর্শক। এ নিয়ে নানা দিকে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে যে, তিনি কী করে অস্কারের মঞ্চে সঞ্চালককে চড় মারতে পারেন! কিন্তু হঠাৎ কেন এতটা চটে গেলেন অস্কারজয়ী অভিনেতা?

Will Smiths Wife Jada Has This Condition: All About Alopecia Areata

অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে সঞ্চালকরা স্বভাবতই নানান ধরনের রসিকতা করে থাকেন, ঠিক সেরকমই সঞ্চালক ক্রিস রকও মঞ্চে নানান হাসির কথা বলছিলেন। সেখানেই ক্রিস উইল স্মিথের স্ত্রী জাডা পিঙ্কেটকে নিয়ে রসিকতা করেন। তিনি বলেন, 'আমি জি আই জেন-এর সিক্যুয়েলের অপেক্ষায় রয়েছি।' এই কথা শোনা মাত্রই মঞ্চে উঠে গিয়ে ক্রিসকে সপাটে থাপ্পড় মারেন উইল স্মিথ! ১৯৯৭ সালের ছবি 'জি আই জেন'-এর নায়িকার মাথায় চুল কম থাকা নিয়ে বিস্তর চর্চা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গেই ক্রিসের এই মস্করা! জানা গিয়েছে, বর্তমানে স্মিথের স্ত্রী জাডা অ্যালোপেসিয়া রোগে আক্রান্ত। আর স্ত্রীর অসুস্থতা নিয়ে মজা করা একেবারেই মেনে নিতে পারেননি উইল স্মিথ। কী এই অ্যালোপেসিয়া? আসুন জেনে নেওয়া যাক এই অসুখ সম্পর্কে বিস্তারিত।

কখনও দেখা যায় মাথার তালুর একটা বিশেষ অংশ থেকে চুল উঠে যাচ্ছে, আবার কখনও মাথার পেছন থেকে। কিন্তু যদি হঠাৎ করে মাথার যেখান সেখান থেকে গোলাকারভাবে চুল উঠতে শুরু করে তখন কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখা প্রয়োজন। চিকিৎসকদের মতে, এই জাতীয় সমস্যার জন্য দায়ী শরীরের অটোইমিউন ডিজিজ (Autoimmune Disease)। ডাক্তারি ভাষায় এই জাতীয় রোগকে বলা হয় 'অ্যালোপেসিয়া' (Alopecia)।

কোন কোন ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা যায়?

কোন কোন ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা যায়?

শুধু মাথার চুল নয়, শরীরের বিভিন্ন অংশের যেমন - ভ্রু এবং দাড়ির চুলের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা দেখা দেয়। পাশাপাশি নখ উঠে যাওয়ার প্রবণতাও দেখা দেয়।

প্রকারভেদ

প্রকারভেদ

বিভিন্ন ধরনের 'অ্যালোপেসিয়া' দেখা যায়, প্রতিটি ধরনের আলাদা আলাদা উপসর্গ বা লক্ষণ হয়।

১) অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা (Alopecia Areata)

২) অ্যালোপেসিয়া ইউনিভার্সালিস (Alopecia Universalis)

৩) ডিফিউজ অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা (Diffuse Alopecia Areata)

৪) ওফিয়াসিস অ্যালোপেসিয়া (Ophiasis Alopecia)

৫) অ্যালোপেসিয়া টোটালিস (Alopecia Totalis)

রোগের লক্ষণ

রোগের লক্ষণ

১) গোলাকার আকৃতিতে চুল উঠে যাওয়া। এক্ষেত্রে ঘুম থেকে উঠে দেখবেন বালিশের উপরে চুল পড়ে থাকতে।

২) চোখের পাতা, ভ্রু ও দাড়ি থেকে হঠাৎ চুল উঠে যাওয়া।

৩) অ্যালোপেসিয়া টোটালিসের ক্ষেত্রে স্কাল্পের সম্পূর্ণ চুল উঠে যেতে পারে।

৪) অ্যালোপেসিয়া ইউনিভার্সালিসের ক্ষেত্রে সারা শরীরের চুল উঠে যায়।

৫) অ্যালোপেসিয়া কখনও কখনও নখকেও নিষ্প্রাণ ও রুক্ষ করে তোলে। ফলে নখ ভেঙেও যায়। এটি আবার এই রোগের প্রথম উপসর্গ হতে পারে।

কাদের মধ্যে প্রবণতা বেশি দেখা দেয়?

কাদের মধ্যে প্রবণতা বেশি দেখা দেয়?

অ্যালোপেসিয়া সমস্ত বয়সের মানুষের হতে পারে, পাশাপাশি বাচ্চাদের মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা যায়। বাবা-মা এর অ্যালোপেসিয়া থাকলে সন্তানকেও হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা থাইরয়েড বা ডায়াবেটিসের মতো রোগে ভুগছেন, তাদের এই জাতীয় সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তবে মনে রাখবেন, এটি কিন্তু কোন ছোঁয়াচে রোগ নয়। এটি জিনগত (১০-২০ শতাংশ ক্ষেত্রে) এবং অটোইমিউন রোগ হিসেবে চিহ্নিত।

রোগ নির্ণয়

রোগ নির্ণয়

রোগের লক্ষণ দেখে এই রোগটি ত্বক বিশেষজ্ঞরাই নির্ণয় করেন। এছাড়া রক্ত পরীক্ষা, ভালভাবে চুল পরীক্ষা করা এবং অ্যালোপেসিয়া নিশ্চিত করার জন্য ত্বকের বায়োপসিও করা হয়।

চিকিৎসা

চিকিৎসা

সময় নিলেও প্রাথমিক কিছু চিকিৎসা করলে এই রোগ নির্মূল করা সম্ভব। বিভিন্ন ওষুধ, ইনজেকশন এবং আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মিকে কাজে লাগিয়ে এই রোগের চিকিৎসা করা হয়। এক্ষেত্রে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।

X
Desktop Bottom Promotion