ওমিক্রনের মাঝেই 'ফ্লোরোনা' হানা, কী এই রোগ? এর উপসর্গ কী? জেনে নিন বিস্তারিত

২০২২ সালের শুরু থেকেই করোনার আতঙ্কে কাঁপছে গোটা বিশ্ব। ডেল্টার পর ওমিক্রন সংক্রমণে ফের কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বিশ্বের একাধিক দেশে। তারই মধ্যে আবার নতুন করে থাবা বসাচ্ছে 'ফ্লোরোনা' অর্থাৎ ফ্লু (জ্বর)+ করোনা। সম্প্রতি ইজরায়েলে প্রথম এই রোগ ধরা পড়েছে। একজন গর্ভবতী মহিলার শরীরে ফ্লোরোনার সংক্রমণ দেখা গিয়েছে।

What is florona? double infection of COVID-19 and influenza

যদিও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি ডেল্টা বা ওমিক্রনের মত করোনার কোনও প্রজাতি নয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক, ফ্লোরোনা কী এবং এর কী কী উপসর্গ দেখা দিচ্ছে।

কী এই ফ্লোরোনা?

কী এই ফ্লোরোনা?

'ফ্লু + করোনা'-কে মূলত একত্রে 'ফ্লোরোনা' বলা হচ্ছে। তবে এটি কোভিড-19 এর কোনও নতুন রূপ নয়, বরং এটি হল একটি দ্বৈত সংক্রমণ। সার্স কোভ-২ এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস যখন একই সময়ে শরীরে প্রবেশ করে, তখন মারাত্মকভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তখনই এই রোগটি হয়।

সর্বপ্রথম ইজরায়েলে একজন গর্ভবতী মহিলা ফ্লোরোনাতে সংক্রামিত হয়েছিলেন। ইজরায়েলি সংবাদপত্র Yedioth Ahronoth-এর মতে, ওই মহিলার করোনা এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার মধ্যে কোনওটারই ভ্যাকসিন নেওয়া ছিল না। প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ এবং হাসপাতালের গাইনোকোলজি বিভাগের পরিচালক Arnon Vizhnitser-এর মতে, ওই গর্ভবতী মহিলা জ্বর নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। তিনি করোনায় আক্রান্ত নাকি ফ্লু-তে তা জানা খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল। তাই সংক্রমণটিকে ফ্লোরোনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

mayo clinic অনুযায়ী, কোভিড-১৯ এবং ফ্লু-এর ভাইরাস একইভাবে অন্যান্য মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। কথা বলা, হাঁচি বা কাশি, রেসপিরেটরি ড্রপলেটসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও, যেকোনও পৃষ্ঠে বা জিনিসের উপর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে কিংবা ভাইরাসযুক্ত হাত দিয়ে স্পর্শের মাধ্যমে ভাইরাস কণা কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন লেগে থাকতে পারে। সেই পৃষ্ঠ আরেকজন ব্যক্তি স্পর্শ করে নাকে, মুখে বা চোখে হাত দিলে ঐ ব্যক্তিও ভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারে।

ফ্লোরোনার উপসর্গগুলি কী কী?

ফ্লোরোনার উপসর্গগুলি কী কী?

ফ্লোরোনার উপসর্গগুলিও কোভিড-19 এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার উপসর্গগুলির মতোই। হাই ফিভার, সর্দি-কাশি হওয়া, ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট হওয়া, নাক থেকে জল পড়া, গলা ব্যথা, মাথা যন্ত্রণা, বমি বমি ভাব, বমি হওয়া এবং ডায়রিয়ার মতো উপসর্গগুলি, উভয় সংক্রমণেরই কিছু সাধারণ লক্ষণ। তবে করোনা কিন্তু ইনফুয়েঞ্জার তুলনায় আরও অনেক বেশি গুরুতর অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। রিপোর্ট অনুসারে, ফ্লোরোনায় আক্রান্ত মহিলার উপসর্গগুলি তুলনামূলকভাবে হালকা ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতানুসারে, কোভিড-19 এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো দু'টি ভাইরাসের সংমিশ্রণ, কতটা গুরুতর অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, তা এখনও জানা যায়নি। স্বাস্থ্য আধিকারিকদের অনুমান যে, অন্যান্য অনেক রোগীরাই এই ফ্লোরোনা দ্বারা আক্রান্ত, তবে তাদের এখনও পর্যন্ত সনাক্ত করা যায়নি।

কী সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত?

কী সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত?

WHO-এর মতানুসারে, ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং কোভিড-19 থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল, ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং করোনা উভয়েরই টিকা গ্রহণ করা।

তাছাড়াও WHO সকলকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলি যথাযথ অনুসরণ করতে পরামর্শ দিচ্ছে। যেমন শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা (অন্যদের থেকে কমপক্ষে এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখা), ঠিকভাবে মুখে মাস্ক পরা, ঘন ঘন হাত পরিষ্কার করা, ভিড় এড়িয়ে চলা, বদ্ধ কিংবা খারাপ বায়ু চলাচল যুক্ত স্থান এড়ানো, প্রভৃতি। তাছাড়া, ঘরে যাতে ভালোভাবে বায়ু চলাচল করে, তার দিকেও লক্ষ্য রাখতে পরামর্শ দিচ্ছে WHO। তার জন্য ঘরের দরজা-জানালা খোলা রাখা উচিত।

X
Desktop Bottom Promotion