For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

করোনার আবহে 'বিউবোনিক প্লেগ' এর প্রাদুর্ভাব, দেখে নিন এই রোগের লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

|

করোনার প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসকে নিয়ে গোটা বিশ্ব যখন দিশেহারা, ঠিক তখনই চিন দেশে আর এক মারণ ভাইরাসের আগমন, যার নাম 'বিউবোনিক প্লেগ'। এই নতুন মারণ রোগের বাড়বাড়ন্তের ফলে করোনার আঁতুড়ঘর চীন এখন আতঙ্কে কাঁপছে। দিশেহারা অবস্থা চীন প্রশাসনের।

চীনের একটি সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, চীনের উত্তরাংশের একটি শহরে এই বিউবোনিক প্লেগ এর সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই ইনার মঙ্গোলিয়ায় দু'জনের শরীরে নিউমোনিয়াগ্রস্ত প্লেগ ধরা পড়ে। আট মাস পেরোতে না পেরোতেই ফের সেই মঙ্গোলিয়াতেই নতুন করে থাবা বসিয়েছে বিউবোনিক প্লেগ। সেখানকার মানুষকে সতর্ক করতে ইতিমধ্যেই তৃতীয় পর্যায়ের সর্তকতা জারি করেছে প্রশাসন। এই সর্তকতা জারি থাকবে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে এও বলা হয়েছে যে, সময় থাকতে সচেতন না হলে করোনার মতো মহামারীর আকার ধারণ করতে পারে এই প্লেগও।

কোভিড-১৯ নাকি ইনফ্লুয়েঞ্জা? উপসর্গ দেখে বুঝবেন কীভাবে

একটি সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ইনার মঙ্গোলিয়ার কয়েকটি জায়গায় নিয়মিত প্লেগ সংক্রমণ হয়। এখানকার যেসব জায়গার মানুষেরা ইঁদুর ও খরগোশের মতো জীবজন্তুদের মাংস খান, সেইসব জায়গায় মানব শরীরে প্লেগের হার অত্যন্ত বেশি বলে জানা গিয়েছে। রোগটি সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দাবি, সঠিক সময়ে বিউবোনিক প্লেগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা না করালে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু পর্যন্তও হতে পারে। তবে চলুন, দেরি না করে আমাদের এই আর্টিকেল থেকে রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।

প্লেগ-এর প্রকারভেদ

প্লেগ-এর প্রকারভেদ

প্লেগ সাধারণত তিন প্রকার।

১) বিউবোনিক প্লেগ (Bubonic plague)

২) সেপ্টিসেমিক প্লেগ (Septicemic plague)

৩) নিউমোনিক প্লেগ (Pneumonic plague)

বিউবোনিক প্লেগ কী?

বিউবোনিক প্লেগ কী?

প্লেগ-এর সর্বাধিক সাধারণ রূপ হল বিউবোনিক প্লেগ। এই বিউবোনিক প্লেগ লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমকে (Lymphatic system) প্রভাবিত করে, যা ইমিউন সিস্টেমের একটি অংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে যদি চিকিৎসা না করা হয়, তবে শরীরের অন্যান্য অংশে এটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

লক্ষণগুলি কী কী?

লক্ষণগুলি কী কী?

১) হঠাৎ করে জ্বর এবং শীত শীত ভাব শুরু হওয়া।

২) অসহ্য মাথা ব্যথা

৩) পেশীর যন্ত্রণা

৪) অবসাদ

৫) হঠাৎ করে হার্টের রোগ দেখা দেওয়া

৬) লসিকা গ্রন্থির যন্ত্রণাদায়ক ফোলা ভাব। এই ফোলা ভাব ডিমের আকৃতি ধারণ করে।

৭) ফোলা ভাবগুলি বগলে, ঘাড়ে এবং কুঁচকির জায়গায় দেখা দেয়।

কীভাবে ছড়ায়?

কীভাবে ছড়ায়?

নিউমোনিক প্লেগ হল প্লেগ এর একমাত্র রূপ, যা এক ব্যক্তির থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। তবে বিউবোনিক প্লেগ এর ক্ষেত্রে এক ব্যক্তির শরীর থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা খুবই বিরল। কেবলমাত্র বিউবোনিক প্লেগ দ্বারা আক্রান্ত প্রাণী কাউকে কামড় দিলে বা সেই প্রাণীর মাংস খেলে এই রোগ ছড়াতে পারে।

রোগ নির্ণয় কীভাবে করা হয়?

রোগ নির্ণয় কীভাবে করা হয়?

১) রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগের নির্ণয় করা হয়।

২) ব্রোঙ্কোস্কোপি (Bronchoscopy)-এর মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়।

৩) ফোলা লিম্ফ নোডগুলি থেকে তরল নিয়ে পরীক্ষা করা হয়।

চিকিৎসা

চিকিৎসা

বিউবোনিক প্লেগকে শক্তিশালী এবং কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করে চিকিৎসা করা হয়। তবে এই রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসা খুব দ্রুত করতে হয়, নাহলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রোগী মারা যেতে পারে।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন

১) নিজের বাড়ি এবং কর্মস্থলের জায়গাগুলিতে ইঁদুরের বাসস্থান হ্রাস করার পদক্ষেপ নিন।

২) বাড়ি এবং আশেপাশ সর্বদা পরিষ্কার রাখুন।

৩) আপনার বাড়ির আশেপাশে যদি প্লেগ ধরা পড়ে, তবে বাড়ির পালিত পশুকে মাছির থেকে দূরে রাখুন। কারণ, বিউবোনিক প্লেগ দ্বারা আক্রান্ত প্রাণীর দেহ থেকে মাছি উড়ে এসে অন্য প্রাণীর শরীরে বসলে রোগ ছড়িয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি প্রাণীটি যাতে আপনার বিছানায় না ওঠে সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

৪) বাড়ির ময়লা পরিষ্কার করার সময় গ্লাভস ও মুখে মাস্ক ব্যবহার করুন।

৫) প্রতিদিন বাড়ির আশেপাশে জীবাণুনাশক ঔষধ প্রয়োগ করুন।

৬) সামান্য শরীর অসুস্থতা দেখা দিলেই দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

৭) গৃহপালিত প্রাণী যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাবে অবিলম্বে পশু চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

৮) নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন।

English summary

What Is Bubonic Plague? Symptoms, Causes, Treatment And Precautions

What is bubonic plague? Symptoms, causes, Treatment and precautions
X