তীব্র গরমের দাপটে কী কী রোগ হয়? প্রতিরোধের উপায়

By Bhagysree Sarkar

নববর্ষের শুরু থেকেই চোখ রাঙাচ্ছে সূর্য। প্রখর রোদে কার্যত অবস্থা বেহাল। গ্রীষ্মের এই প্রখর রোদ ও তাপপ্রবাহ থেকে বাড়ছে বিভিন্ন রোগ এবং স্বাস্থ্যসমস্যা। তাই নিজে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে অবলম্বন করতে হবে বেশকিছু নিয়ম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গরমে প্রয়োজন না হলে ঘরের বাইরে না যাওয়াই ভালো। কিন্তু যদি যান তবে সঙ্গে ছাতা এবং জলের বোতল রাখা আবশ্যিক। এইরূপ পরিস্থিতিতে বিশেষ যত্ন নিতে হবে বাড়িতে থাকা বয়স্ক এবং বাচ্চাদের। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে শিশু থেকে বৃদ্ধ-সবাই অস্থির।

বর্তমানে গরমের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তাপপ্রবাহ। এর সঙ্গেই ঝুঁকিও বাড়ছে মারাত্মক রোগেরও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমের দিনগুলিতে সুস্থ থাকার জন্য অবশ্যই খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা গ্রহণ করতে হবে। গরমে মারাত্মক কিছু রোগ হতে পারে। যেমন- হিট র‌্যাশ, হিট স্ট্রোক, অ্যাজমা এবং শরীরে ব্লাড প্রেশার বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, সর্দি বা কাশি, জলের খামতির মতো সমস্যা। গরমের সময় এই সমস্যাগুলি অত্যদিক পরিমানে বেড়ে যায়। তাই অবশ্যই নিজেকে সব সময় হাইড্রেটেড রাখুন। সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত জল পান করুন। পাশাপাশি বিশেষ পানীয় হিসেবে বেছে নিতে পারেন আম পান্না, ডাবের জল, ছাতু শরবত ও বেলের শরবত।

heatwaves
  • দেখে নেওয়া যায় এই আবহাওয়ায় মারাত্মক কী কী রোগ হবার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর প্রতিকার কী-

হিট স্ট্রোক: প্রচণ্ড গরমে অনেকই হিট স্ট্রোক করে। এমত অবস্থায় ডাবের জল, লাউ-পেঁপের পাতলা ঝোল, করলা, তরমুজ, এই খাবারগুলো খান। এতে শরীরে দীর্ঘ সময় জল মজুত থাকে। এছাড়াও হিট স্ট্রোক হলে দ্রুত ঠান্ডা জায়গাতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সরিয়ে নিয়ে যান। চোখে, মুখে এবং ঘাড়ে জল দিন। জল পান করুন। অবস্থার উন্নতি না হলে দ্রুত কাছের হাসপাতালে নিয়ে যান।

প্রস্রাবের সংক্রমণ: গ্রীষ্মের প্রখর রোদে আমাদের শরীরে জলের খামতি দেখতে পাওয়া যায়। এমত অবস্থায় প্রস্রাবের সংক্রমণ খুব বেশি দেখা দেয়। এই সমস্যায় অ্যাসিডিক বা টক ফল কম খেতে হবে। দারুচিনি, রসুন, মধুর মত অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল খাবার খেতে পারেন। এতে সমাধান মিলবে।
যেমন খুব ভালো কাজ করে।

পেটের সমস্যা: গরমে প্রায় মানুষেরই পেট খারাপ বা বদহজমের সমস্যা দেখা দেয়। কারণ, অনেকেই রাস্তায় খোলা পরিবেশে বানানো আখের রস, লেবুর শরবত, বেলের শরবত, অ্যালোভেরার জুস, চিনি দেওয়া বিভিন্ন ফলের রস খেয়ে ফেলেন। এতে যেমন টাইফয়েড, হেপাটাইটিস, ডায়রিয়া, আমাশয়, বদহজমের মত অন্যান্য সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। যেকোনও পেটের সমস্যায় ডাবের জল, টক দই, আপেল, কাঁচা কলা, পেঁপে, আদা, জিরে জল, তুলসী চা, ইশবগুলের ভুসি, ওটস, মধু ও লাল খাবার ভালো কাজ করে।

এছাড়া ঝিঙে, চিচিঙ্গা, করলা, শসা, পটল ইত্যাদি গ্রীষ্মের সবজি পেটের সমস্যায় বেশ উপকারী। সঙ্গেই গরমে খাবার অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়, যা খেলে হতে পারে ফুডপয়জনিং বা বিষক্রিয়া। তাই পচা-বাসি খাবার, রাস্তাঘাটের খোলা খাবার, লেবুর শরবৎ, আখের রস এসব না খাওয়াই ভালো।

ইলেকট্রোলাইটের অসমতা: গরমে ঘামের সঙ্গে দেহের অনেক গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান, যেমন সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড বেরিয়ে যায়। ফলে আমাদের শরীরে দেখা দেয় অনেক জটিলতা। এর ঘাটতি পূরণে ডাবের জল, কলা, কাঁচা আম, লিচু, স্যালাইন, লেবুর শরবত, ফলের রস ইত্যাদি সহায়ক।

ঠান্ডা, সর্দি, কাশি: অতিরিক্ত গরম বা ঋতু পরিবর্তনের কারণে অনেকেই ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, গলাব্যথার মত রোগে আক্রান্ত হন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময় ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ টক ফল ও সবজি যেমন কমলা, আনারস, পেয়ারা, ক্যাপসিকাম খেলে সুরাহা পাবেন। এছাড়াও গরম স্যুপ, গ্রিন টি, তুলসী চা, আদা চা বা যেকোনো হারবাল চা সর্দি, কাশি, গলাব্যথা নিরাময়ে কার্যকর। তবে ঠান্ডা লাগলে দই, কলা, ডাবের জল সব খাওয়া যাবে না, এমন কোনো কথা নেই।

সানবার্ন: এটিও একটি সাধারণ গরমের সমস্যা। সানবার্ন ঘটে যখন ত্বকে দীর্ঘক্ষণ সূর্যের সংস্পর্শে থাকে এবং এর ক্ষতিকারক অতিবেগুনী (UV) রশ্মি যা ত্বকের কোষগুলির ক্ষতি করে। এমনকি রোদে থাকা মুখ, বাহু, পায়ে বেদনাদায়ক ফুসকুড়ি হতে পারে। রোদে পোড়া লালভাব, ফোসকা এবং ত্বকের সমস্যা দেখা দেয়। এটি প্রতিরোধ করার জন্য, জল পান করুন এবং ত্বক হাইড্রেটেড থাকূন। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সানস্ক্রিন লাগান এবং সম্ভব হলে উন্মুক্ত ত্বক ঢেকে দিন। এছাড়াও রোদে বাইরে কাটানো সময় সীমিত করুন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত মসলা, তেল, ভাজা, রাস্তার খোলা খাবার অবশ্যই এড়িয়ে চলুন। এছাড়াও চর্বিযুক্ত খাবার, মাংস ইত্যাদি এড়িয়ে চলতে হবে।

Story first published: Friday, April 19, 2024, 16:03 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion