মাঝরাতে বারবার পায়ে খিঁচুনি ধরছে? কোনও গুরুতর রোগের লক্ষণ নয় তো!

By Bhagysree Sarkar

পায়ে ঝি ঝি ধরা খুবই সাধারণ ব্যাপার, কম বেশি সকলেই এই সমস্যার সঙ্গে পরিচিত। এটি একটি অস্বস্তিকর অবস্থা, যা আমরা কেউই সহ্য করতে পারি না। তবে এই সমস্যা বারবার ঘটতে শুরু করলে তা কিন্তু উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। একভাবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে বা পা মুড়ে বসলে হাত বা পা অসাড় হয়ে পড়ে এবং ঝি ঝি ধরে। এই সমস্যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় টেম্পোরারি প্যারেসথেশিয়া।

মূলত, আমাদের শরীরে অনেক স্নায়ু আছে যা দেহ ও মস্তিষ্কের মধ্যে তথ্য আদান প্রদান করে। ফলে দীর্ঘক্ষণ একই ভাবে শুয়ে থাকা বা বসে থাকার ফলে নির্দিষ্ট কোনও একটি স্নায়ুতে চাপ পড়ে, ফলে শিরাতেও রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। পাশাপাশি ওই জায়গার তথ্য মস্তিষ্ক অবধি পৌঁছতে পারে না। ফলস্বরূপ সেই জায়গায় ঝি ঝি ধরে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পায়ের পাতা ঝি ঝি করার কারণ কোনো গুরুতর রোগ নয়। এই প্রতিবেদনে আপনারা পায়ে খিঁচুনির কিছু সাধারণ কারণ সম্পর্কে জানাবেন-

ছবি সৌজন্য- pexels

পায়ে খিঁচুনি হওয়ার কারণ-

নিউরোপ্যাথি

নিউরোপ্যাথি এমন একটি সমস্যা যেখানে স্নায়ুর ক্ষতি হয়। এটি বিভিন্ন কারণে ঘটতে পারে, যেমন-

ডায়াবেটিস- রক্তে শর্করার মাত্রা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার কারণে ডায়াবেটিস হয়। উচ্চ রক্তে শর্করার মাত্রা স্নায়ুর ক্ষতি করতে পারে, যার ফলে পায়ে ঝাঁঝালো অনুভূতি হয়।

ভিটামিনের ঘাটতি- ভিটামিন বি-১২ এর অভাবে স্নায়ুর ক্ষতি হয়। এই ভিটামিন আপনার স্নায়ুতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।

অ্যালকোহল পান- অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান করলে স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে।

অটোইমিউন রোগ- অটোইমিউন রোগে, আপনার শরীর তার নিজস্ব কোষগুলিকে আক্রমণ করে, যার মধ্যে স্নায়ু অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

রক্ত সঞ্চালনের অভাব

যখন আপনার পায়ে রক্ত সঠিক পরিমাণে প্রবাহিত হয় না, তখন এটি সমস্যা হতে পারে। এটি অনেক কারণে ঘটতে পারে, যেমন-

ধূমপান- ধূমপান ধমনী সংকীর্ণ করতে পারে, যা রক্ত সঞ্চালন হ্রাস করে।

স্থূলতা- অতিরিক্ত ওজনের কারণে ধমনীর উপর চাপ বাড়তে পারে, যা রক্ত সঞ্চালন কমিয়ে দেয়।

পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ (PAD) - পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ হল এমন একটি অবস্থা যেখানে ধমনীগুলি ধীরে ধীরে শক্ত এবং সরু হয়ে যায়। যার ফলে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়।

অবস্থানগত বাধা

আপনি যখন দীর্ঘ সময় ধরে এক অবস্থানে বসে থাকেন বা দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন আপনার পায়ের পেশীতে খিঁচুনি হতে পারে। যার ফলে এই সমস্যা দেখা যায়। এই অবস্থা সাধারণত অস্থায়ী হয় এবং বিশ্রামের সাথে সমাধান হয়।

গর্ভাবস্থা

গর্ভাবস্থায় এবং ভ্রূণের বিকাশের সময় হরমোনের পরিবর্তন পায়ে রক্ত সঞ্চালনকে প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে একটি ঝাঁঝালো সংবেদন হয়। এই অবস্থা সাধারণত গর্ভাবস্থার পরে সমাধান হয়।

ওষুধ

কিছু ওষুধ, যেমন রক্তচাপের ওষুধ বা অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট, পায়ে খিঁচুনির কারণ হতে পারে। আপনি যদি কোনও ওষুধ গ্রহণ করেন এবং আপনার পায়ে ঝাঁকুনি অনুভব করেন, আপনার চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।

পায়ের এই সমস্যা কমাতে কিছু ঘরোয়া প্রতিকারও গ্রহণ করা যেতে পারে, যেমন-

. নিয়মিত ব্যায়াম করা
. স্বাস্থ্যকর খাদ্য খাওয়া
. স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট কৌশল অবলম্বন করা
. পা উঁচু রাখুন
. ভিটামিন বি-১২ সমৃদ্ধ খাবার খান

Story first published: Wednesday, September 11, 2024, 14:29 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion