বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস: ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ৮ টি কার্যকরী উপায়

প্রতিদিন সকালে এবং বিকালে ১৫ মিনিট করে হাঁটলেই দেখবেন সুগার লেভেল নর্মাল হয়ে যাবে। তাই ডায়াবেটিকদের এই একটি বিষয়ে নজর রাখতে হবে।

গত কয়েক দশকে শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পয়েছে। আর এই তথ্যটি যে একেবারেই উড়িয়ে দেওয়ার নয়, তা ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশন এবং আই সি এম আর-এর রিপোর্ট দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যায়।

এমন পরিস্থিত হওয়ার পিছনে অনেক কারণ দায়ী। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা যদি একটা কারণ হয়, তাহলে শরীরচর্চার অভাব, ঠিক মতো খাওয়া-দাওয়া না করা, রাত জাগা, ওবেসিটি প্রভৃতি কারণও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো ডায়াবেটিসকে লাইফস্টাইল ডিজিজ হিসেবে বিবেচিত করে থাকেন চিকিৎসকেরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসকে সামনে রেখে আজ এই প্রবন্ধে এমন কিছু নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যা মেনে চললে ডায়াবেটিস একেবারে নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তাই ডায়াবেটিকরা একেবারেই সময় নষ্ট না করে ঝটপট পড়ে ফেলুন এই লেখাটি। এমনটা করলে উপকার যে পাবেন, সে কথা হলফ করে বলতে পারি।

প্রসঙ্গত, জীবনযাত্রার সঙ্গে যেহেতু এই রোগের সরাসরি যোগ রয়েছে, তাই যে কোনও নিয়ম মানা শুরু করার আগে জীবন শৈলীতে পরিবর্তন আনাটা জরুরি। না হলে কিন্তু কোনও উপকারই পাবেন না। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে যে নিয়মগুলি মেনে চললে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেগুলি সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হল।

১. প্রতিদিন বার্লি খেতে হবে:

১. প্রতিদিন বার্লি খেতে হবে:

এতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, যা দীর্য সময় পেট ভরিয়ে রাখে। সেই সঙ্গে শর্করার মাত্রা যাতে ঠিক থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখে। তাই তো ডায়াবেটিকদের এই খাবারটি খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

২. হাঁটতে হবে:

২. হাঁটতে হবে:

প্রতিদিন সকালে এবং বিকালে ১৫ মিনিট করে হাঁটলেই দেখবেন সুগার লেভেল নর্মাল হয়ে যাবে। তাই ডায়াবেটিকদের এই একটি বিষয়ে নজর রাখতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না যে শরীরচর্চার সঙ্গে এই রোগের বাড়া-কমা অনেকাংশেই নির্ভর করে।

৩. মেথি:

৩. মেথি:

প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস গরম দুধে ১ চামচ মেথি পাউডার মিশিয়ে খাওয়া শুরু করুন। অল্প দিনেই দেখবেন ডায়াবেটিস একেবারে নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। কারণ মেথিতে উপস্থিত বিশেষ কিছু উপাদান দ্রুত শর্করার মাত্রা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৪. ফল:

৪. ফল:

জুস না খেয়ে ফল খাওয়া শুরু করুন। আসলে ফল খেলে শরীরে যে পরিমাণ ফাইবার যায়, তার থেকে অনেক কম যায় জুস খেলে। আর একথা তো সবাই জানেন যে শরীরে ফাইবারের পরিমাণ যত বাড়বে, তত নানাবিধ রোগ দূরে থাকবে। সেই সঙ্গে কমবে শর্করার মাত্রাও।

৫. সবুজ শাক-সবজি:

৫. সবুজ শাক-সবজি:

যেসব সবজিতে স্টার্চের পরিমাণ কম রয়েছে, তেমন সবজি বেশি করে খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা কমতে শুরু করে। এক্ষেত্রে পালং শাক, কর্নফ্লাওয়ার, লেটুস প্রভৃতি দারুন কাজে আসে।

৬. পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খাওয়া জরুরি:

৬. পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খাওয়া জরুরি:

রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে বেশি করে জল খেতে হবে। কারণ শরীরে জলের পরিমাণ যত কমবে, তত কিন্তু পরিস্থিত হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়বে। তাই ডায়াবেটিকদের এই বিষয়টি মাথায় রাখা একান্ত প্রয়োজন।

৭. ভিটামিন ডি:

৭. ভিটামিন ডি:

শরীরে এই ভিটামিনটির ঘাটতি দেখা দিলে ইনসুলিন রেজিসটেন্সের আশঙ্কা থাকে। আর এমনটা হলে রক্ত সুগারের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। তাই আজ থেকেই ভিটামিন- ডি সমৃদ্ধ খাবার, যেমন- মাছ, দুধ, কমলা লেবুর রস, সোয়া দুধ এবং ডিম খাওয়া শুরু করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে একবার এই বিষয়ে পরামর্শ করে নিতে পারেন।

৮. অ্যালো ভেরা:

৮. অ্যালো ভেরা:

পরিমাণ মতো হলদ গুঁড়োর সঙ্গে অ্যালো ভেরা জুস, অল্প করে তেজপাতা এবং জল মিশিয়ে একটা পানীয় বানিয়ে ফেলুন। প্রতিদিন রাতে খাবারের আগে এই পানীয়টি খেলে ডায়াবেটিস একেবারে নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

Story first published: Thursday, April 6, 2017, 11:00 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion