বর্ষাকালে বেড়েছে টাইফয়েডের ঝুঁকি! জেনে নিন এর মূল কারণ ও লক্ষণগুলি

By Bhagysree Sarkar

বর্ষার মরশুমে নানান ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে মানব শরীরে। বলা চলে, এই মরশুমেই দাপিয়ে বেরায় নানান রোগ। এই মরশুমে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল মশাবাহিত রোগ। প্রতি বছর ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বহু মানুষ। এসব সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে অনেককেই। ইতিমধ্যেই সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ডেঙ্গি নিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। যত্রতত্র জমা জল দেখলেই তা ফেলে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গির পাশাপাশি বর্তমানে বেড়েছে টাইফয়েডের ঝুঁকিও। তাই এই বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। মূলত, সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট টাইফয়েড জ্বরকে আন্ত্রিক জ্বরও বলা হয়। সালমোনেলা টাইফি নামক ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করলেই টাইফয়েড জ্বর হয়। আর সালমোনেলা প্যারাটাইফি জীবাণুর কারণে জ্বর হলে তাকে প্যারা টাইফয়েড জ্বর বলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশার কামড়ের সঙ্গে টাইফয়েডের সম্পর্ক নেই।

mosquito

টাইফয়েড, এক ধরনের জ্বর যা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। দুই ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে টাইফয়েড হতে পারে। যেমন- সালমোনেলো টাইফি এবং সালমোনেলো প্যারাটাইফি। দুই ধরনের জীবাণুর সংক্রমণের লক্ষণ প্রায় একই রকমের। এই রোগের লক্ষণগুলি- হালকা থেকে উচ্চ জ্বর, ঠাণ্ডা লাগা, মাথাব্যথা, পেশী ও পেটে ব্যথা, দুর্বলতা এবং ক্লান্তি সহ ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা। টাইফয়েড জ্বর থেকে শারীরিক আরও কিছু জটিলতাও হতে পারে। যেমন- মস্তিস্কে প্রদাহ, নিউমোনিয়া, হেপাটাইটিস, লিভারের সমস্যা দেখা দিতে পারে। টাইফয়েড জ্বর শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রতঙ্গকে আক্রান্ত করতে পারে।

টাইফয়েডের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে মূলত দূষিত খাবার ও জলের মাধ্যমে। যদি কোনও খাবার ও জলের মধ্যে টাইফয়েডের জীবাণু থাকে, তাহলে সেই খাবার খেলে ও জল পান করলে খাওয়ার মধ্য দিয়ে টাইফয়েডের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে ব্যক্তিকে সংক্রমিত করতে পারে।

টাইফয়েড আক্রান্ত রোগীর পায়খানা এবং প্রস্রাবের মাধ্যমেও কিন্তু টাইফয়েডের জীবাণু শরীর থেকে বের হয়। কোনো কারণে জল, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা অথবা ওয়াটার স্যানেটারি সিস্টেমে ত্রুটির কারণে যদি টাইফয়েডের জীবাণু সেখানে মিশে যায় তাহলে টাইফয়েড ছড়িয়ে পড়তে পারে।

টাইফয়েড আক্রান্ত রোগী পায়খানা ও প্রস্রাবের পর ভালো করে হাত পরিষ্কার না করলে জীবাণু থেকে যেতে পারে। তার হাতের স্পর্শ বা খাবারের মাধ্যমে অন্য ব্যক্তিরাও সংক্রমিত হতে পারেন। তাই সতর্ক হন।

Story first published: Monday, August 12, 2024, 18:06 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion