অল্প বয়সে বাড়ছে পাইলস, ফিস্টুলা এবং ফিসারের ঝুঁকি! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা জানুন

By Bhagysree Sarkar

পাইলস ও ফিস্টুলা একটি প্রচলিত সমস্যা। এটি বেশ পরিচিতও। সাধারণত, ৪৫ বছরের পর এই রোগের প্রভাব সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। তবে এখন কমবয়সীদের মধ্যেও এই সমস্যা বাড়ছে, এমনই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। নিত্যদিনের জীবনযাত্রায় নানা ধরনের অনিয়ম ও অপুষ্টিকর খাবার খাওয়ার ফলে এই সমস্যা হয়। আবার অনেক সময় শরীরে জলের অভাবেও এই সমস্যার দেখা মেলে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমের সমস্যার মতো কারণে পাইলসের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। এমনকি পরিবারে কারও এই সমস্যা থাকলে, পরবর্তী প্রজন্মে এই ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাইলসের সাধারণ উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে, মল ত্যাগের সময় রক্তপাত এবং ব্যথা, মলদ্বারে পিণ্ডের উপস্থিতি এবং অসম্পূর্ণ ডিফেকশনের অনুভূতি। পাইলসের ঝুঁকি বাড়ায় এমন কারণগুলির মধ্যে রয়েছে কোষ্ঠকাঠিন্য , গর্ভাবস্থা, অতিরিক্ত ওজন, স্থূলতা, ক্রমাগত ডায়রিয়া, দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকা এবং ভারী জিনিস তুলতে চাপ দেওয়া।

piles

অন্যদিকে, ফিস্টুলা হল একধরনের ফোঁড়া বা অন্য কোনো কারণে মলদ্বার ছাড়া পায়ুপথের সাথে এই ধরণের অস্বাভাবিক রাস্তা তৈরি হলে সেটিকে এনাল ফিস্টুলা বা মলদ্বারের ফিস্টুলা বলে। অনেকের কাছে এটি ভগন্দর নামেও পরিচিত। এধরণের ফিস্টুলা বা ভগন্দর হলে মলদ্বারের আশেপাশে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া সহ নানান রকম লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

সাধারণত, মলদ্বারের ভিতরে এবং বাইরের শিরা ফুলে ও বড় হয়ে গেলে হেমোরয়েড বা পাইলস হয়। স্থূলতা, গর্ভাবস্থা, ফাইবার কম খাবার, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, ভারী জিনিস তোলা এবং ২৫-৫৫ বছরের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এই অবস্থা দেখা যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মলদ্বার বা মলদ্বারের আস্তরণে ছিঁড়ে যাওয়ার ফলে এনাল ফিসার হয়ে থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগের সময় স্ট্রেনিং এবং আলসারেটিভ কোলাইটিসের কারণে এই সমস্যা দেখা দেয়।

এছাড়াও, গত ২-৩ মাসে প্রায় ৫০ জন রোগী পাইলস এবং ফিস্টুলার সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে এসেছেন। ফিসারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ৮০-এরও বেশি। জানা গিয়েছে, প্রায় ৬০ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ শতাংশ মহিলা ফিস্টুলা এবং পাইলস- এ ভোগেন। যেখানে ৭০ শতাংশ মহিলা এবং ৩০ শতাংশ পুরুষের ফিসার হওয়ার প্রবণতা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আরও দাবি, আগের বছরের তুলনায় এবছর এই সমস্যা সামগ্রিকভাবে বেড়েছে ১০ শতাংশেরও বেশি। মূলত, জাঙ্ক ফুড খাওয়ার কারণেই ১৮-২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে এই ঝুঁকি বাড়ছে। পাইলস, ফিস্টুলা এবং ফিসারের সমস্যাগুলি অল্প বয়সীদের মধ্যে হলেও এটি বেশিরভাগ পুরুষদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান। গত কয়েক বছরে এই রোগীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবী, তাঁরা প্রতিদিন প্রায় ৫-৬ জন রোগীর মধ্যে এই সমস্যা লক্ষ্য করছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাদ্য খাওয়া, প্রতিদিন ব্যায়াম করা, খাবারে ফাইবার-সমৃদ্ধ খাবার যুক্ত করে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রচুর পরিমাণে জল এবং অন্যান্য তরল পান করা কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে এবং মলকে নরম রাখতে সাহায্য করে, যা পাইলস হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস করে। নিয়মিত ব্যায়াম স্বাস্থ্যকর হজমে সহায়তা করতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে, পাইলস হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

তবে মনে রাখবেন, চা কফি বা ক্যাফেইন এড়িয়ে চলতে হবে। সঙ্গে ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ ত্যাগ করুন। অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

Story first published: Monday, June 24, 2024, 18:40 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion