আপনার সন্তান কি ডিহাইড্রেশনের শিকার? জেনে নিন এই উপায়ে এবং রইল এর চিকিৎসা

শিশুদের সবসময়ই অতিরিক্ত যত্নে রাখা দরকার। বড়দের মতো শিশুরা বলতে পারে না তাদের কী দরকার, তাদের শারীরিক কোনও সমস্যা হচ্ছে কিনা। সেটা বুঝতে হবে আপনাকে। শিশুদের শারীরিক সমস্যার মধ্যে অন্যতম হল ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা। ছোট-বড় সবারই শরীর থেকে প্রতিনিয়ত জল বের হয়ে যায়। শুধু টয়লেটের সময় নয়, শ্বাস নিতে, কাঁদলে, ঘামের মাধ্যমেও ত্বক থেকে জল বাষ্পীভূত হয়ে বেরিয়ে যায়। তাই জল বা অন্য কোনও তরল শিশুর শরীরে না পৌঁছলে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা দেখা দেবে তার।

Signs of Dehydration in Infants & Children

ডিহাইড্রেশন কখনও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। ডিহাইড্রেশন হওয়া মানে শরীরে তরলের ঘাটতি ঘটছে, যা শরীরের সঠিকভাবে কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। অনেকসময় যা মস্তিষ্কের ক্ষতি, এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে। তাই ডিহাইড্রেশন হচ্ছে কিনা, তা নজর রাখতে হবে।

শিশুদের ক্ষেত্রে ডিহাইড্রেশন কতটা ক্ষতিকর

শিশুদের ক্ষেত্রে ডিহাইড্রেশন কতটা ক্ষতিকর

যখন শরীরে তরল প্রবেশের চেয়ে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়, তখন ডিহাইড্রেশন হয়। শিশুদের শরীরে জল ধরে রাখার জায়গা কম, তাই কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্কদের থেকে তাদের ডিহাইড্রেশন বেশি হয়। অনেক সময় বাচ্চারা জল ঠিকমতো খেতে চায় না, সেকারণে এই সমস্যা দেখা দেয় তাদের মধ্যে। এছাড়া আর যেসব কারণে ডিহাইড্রেশন হতে পারে-

জ্বর, বমি, ডায়ারিয়া, অতিরিক্ত ঘাম, অসুস্থতার কারণে তরল কম খাওয়া, গরম আবহাওয়া।

ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ

ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ

শিশুর ডিহাইড্রেশন হয়েছে এটা যত তাড়াতাড়ি বোঝা যাবে ততই ভাল, তাই বাচ্চাদের শরীরের ওপর সবসময় নজর রাখা দরকার। যদি দেখেন তার পেটের সমস্যা হচ্ছে, বমি করছে বা শিশু একদম জল খেতে চাইছে না তাহলে ডিহাইড্রেশনের প্রাথমিক পর্যায় হতে পারে। তখনই সাবধান হয়ে যাওয়া দরকার, নাহলে আরও বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন -

প্রস্রাব কমে যাওয়া বা একদমই না করা

গাঢ় রঙের ইউরিন

শুষ্ক, ফাটা ঠোঁট

চামড়া শুকিয়ে যাওয়া

কাঁদলেও বাচ্চার চোখে জল না আসা

মুখ শুকিয়ে যাওয়া

এনার্জি লেভেল কমে যাওয়া

হার্ট রেট বেড়ে যাওয়া

অনেক ক্ষেত্রে ডিহাইড্রেশন মারাত্মক আকার নিতে পারে, তখন বাচ্চা অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারে।

চিহ্নিত করবেন কীভাবে

চিহ্নিত করবেন কীভাবে

উপরের সমস্যাগুলোর কোনওটি যদি আপনার শিশুর হয় তাহলে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া দরকার। কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে শিশুর তা জানার পর চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা করাতে পারেন।

কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট

ব্লাড কালচার

ব্লাড কেমিস্ট্রি টেস্ট

ইউরিন টেস্ট

বুকের এক্স-রে

রোটাভাইরাস ইনফেকশন টেস্ট

মল পরীক্ষা

প্রাথমিক পর্যায়ে বাড়িতেই ডিহাইড্রেশনের নিরাময় হতে পারে। যদি আপনার শিশুর ডিহাইড্রেশন হয়ে থাকে তাহলে কী করবেন দেখে নিন -

১) রিহাইড্রেশন প্রোডাক্ট দিতে পারেন শিশুকে

২) স্যুপ, তরল জিনিস বেশি করে দিন

৩) ডিহাইড্রেশন হলে BRAT ডায়েট দিন বাচ্চাকে। কলা, ভাত, অ্যাপেলসস এবং টোস্ট দেবেন তাকে।

৪) শিশু বুকের দুধ খেলে বন্ধ করবেন না।

কখন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাবেন

কখন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাবেন

যদি দেখেন শিশুর সমস্যা বাড়ছে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডিহাইড্রেশন মারাত্মক আকার নিলে যে সমস্যাগুলো হবে -

ইউরিন তিন ঘণ্টার বেশি না হওয়া

মুখ শুকিয়ে যাওয়া

মলের সঙ্গে রক্ত বের হলে

১০২-এর ওপর জ্বর থাকলে

পেটে বা মলদ্বার ব্যথা

অনেক সময় ভাইরাল ইনফেকশনের জন্যও আপনার বাচ্চার ডিহাইড্রেশন হতে পারে। বাচ্চার ওপর সবসময় নজর রাখুন, তাহলে মারাত্মক আকার নেওয়ার আগেই ধরা পড়ে যাবে ডিহাইড্রেশন।

X
Desktop Bottom Promotion