Lassa Fever : লাসা জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু ব্রিটেনে, কী এই লাসা জ্বর? জেনে নিন

করোনার তাণ্ডবে এমনিতেই বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব, এরই মাঝে নতুন নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। করোনার পাশাপাশি এবার ইঁদুর বাহিত ভাইরাসের ফলে হচ্ছে জ্বর! ১১ ফেব্রুয়ারি, ব্রিটেনে লাসা জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একজন ব্যক্তির মৃত্যুও হয়েছে।

Lassa fever

এই ভাইরাসের প্রথম কেস নাইজেরিয়ার লাসা নামক জায়গায় পাওয়া গিয়েছিল। তাই সেই শহরের নামানুসারে এর নাম দেওয়া হয়েছে লাসা জ্বর। লাসায় আক্রান্তদের মৃত্যুহার ১ শতাংশ। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, লাসায় আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ১৫ শতাংশের। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক, লাসা ভাইরাস কী, এটি ছড়ায় কীভাবে এবং এর থেকে বাঁচার উপায়ই বা কী।

লাসা জ্বর কী?

লাসা জ্বর কী?

সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) এর মতে, লাসা জ্বর-সৃষ্টিকারী ভাইরাসটি প্রথম পশ্চিম আফ্রিকায় পাওয়া যায় এবং ১৯৬৯ সালে নাইজেরিয়ার লাসা-তে এর প্রথম কেস ধরা পড়ে। নাইজেরিয়ায় দুইজন নার্স মারা যাওয়ার পর এই রোগের সন্ধান পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের কথায়, এই ভাইরাস ইঁদুর বাহিত অর্থাৎ লাসা জ্বর ইঁদুর-এর মাধ্যমে ছড়ায়।

লাসা ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়?

লাসা ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়?

লাসা ভাইরাস ইঁদুরের মল ও মূত্রের মাধ্যমে ছড়ায়। লাসা ভাইরাসে সংক্রামিত কোনও ইঁদুরের মল-মূত্র কোনও খাবার জিনিস বা বাড়িতে ব্যবহৃত জিনিসের সঙ্গে মিশলে এবং সেগুলি কেউ ব্যবহার করলে সেই ব্যক্তিও আক্রান্ত হতে পারে এই ভাইরাসে।

লাসা জ্বরের লক্ষণ

লাসা জ্বরের লক্ষণ

লাসা জ্বরের লক্ষণগুলি দেখা দিতে সাধারণত ১-৩ সপ্তাহ সময় লাগে। হালকা লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে - সামান্য জ্বর, ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথাব্যথা। গুরুতর লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে - রক্তপাত, শ্বাস নিতে সমস্যা, বমি, মুখ ফুলে যাওয়া, বুকে-পিঠে-পেটে ব্যথা এবং শক লাগা।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পাঁচ জন আক্রান্তের মধ্যে একজন লাসা আক্রান্তের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন কিডনি, লিভারের ক্ষতি করে এই ভাইরাস। ফলে মৃত্যুও হতে পারে। CDC-এর মতে, এই জ্বরের কারণে রোগী বধির হয়ে যেতে পারে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে, রোগী স্থায়ীভাবেও বধির হয়ে যেতে পারে।

প্রতিরোধের উপায়

প্রতিরোধের উপায়

এই ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে, ইঁদুরের সংস্পর্শে আসা এড়িয়ে চলুন। বাড়ি-ঘর ও চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। ঘরে ইঁদুর যাতে ঢুকতে না পারে তার ব্যবস্থা করুন। খাদ্য সামগ্রী ঢাকনাযুক্ত কৌটোয় রাখুন। সব খাবার ভালোভাবে ঢাকা দিয়ে রাখুন। আর কোনওভাবে যদি ঘরে ইঁদুর ঢুকে পড়ে, তাহলে তাকে ধরার জন্য সব ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করুন। ইঁদুর ধরার জন্য ফাঁদ পাতুন।

X
Desktop Bottom Promotion