বিশ্ব জুড়ে মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ হৃদরোগ, প্রতিরোধ করতে জানুন বিশেষজ্ঞদের কিছু বিশেষ টিপস

By Bhagysree Sarkar

আপনার কি সারাক্ষণ ক্লান্ত বোধ করেন, ক্রমাগত চাপে থাকেন বা হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হয়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি 'হ্যাঁ' হয়, তাহলে আপনি হয়তো হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলি অনুভব করছেন। বর্তমানে ৪০ বছরের বেশি বয়সী অনেকেরই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো সমস্যা রয়েছে। আর এই সমস্যাগুলিই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এই সময় নিজেকে সুস্থ রাখা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

আপনি যদি এই লক্ষণগুলি লক্ষ্য করেন, তবে অবিলম্বে আপনার চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য এবং মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনার মতো স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গ্রহণ করে আপনি হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে পারেন। আসুন বিশেষজ্ঞদের দেওয়া কিছু বিশেষ টিপস জেনে নেওয়া যাক-

chest pain
  • স্বাস্থ্যকর খাদ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ-

হার্ট সংক্রান্ত রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হল স্বাস্থ্যকর খাবার। একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য আপনাকে কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ এবং ওজন বৃদ্ধির মতো সমস্যা এড়াতে সাহায্য করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আপনার প্লেটকে করে তুলুন পুষ্টিগুণে ভরপুর। আপনার খাদ্যতালিকায় সবুজ শাক-সবজি, ফলমূল, গোটা শস্য, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছ, লেবু এবং বাদাম জাতীয় খাবার অন্তর্ভুক্ত করতে ভুলবেন না। এই খাবারগুলি আপনাকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ এবং ফাইবার সরবরাহ করবে। মনে রাখবেন, আপনি যে পরিমাণ ক্যালোরি খাচ্ছেন, আপনাকে অবশ্যই একই সংখ্যক ক্যালোরি পোড়াতেও হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করে, আপনি আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং হার্ট সুস্থ রাখতে পারেন।

  • মানসিক চাপ একটি বড় সমস্যা-

মানসিক চাপ বাড়ার রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এই সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে ভীড়ও হচ্ছে। স্ট্রেস ধূমপান, অতিরিক্ত খাওয়া এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাকে ট্রিগার করে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ উচ্চ রক্তচাপের প্রধান কারণ হতে পারে। এগুলিই হৃদরোগ এবং হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী।

  • ঘুমের মানও গুরুত্বপূর্ণ-

সারারাত ঘুমানোর পরেও যদি আপনি সকালে ক্লান্ত বোধ করেন, আপনি যদি তন্দ্রা অনুভব করেন তবে তার মানে আপনার ঘুম ব্যাহত হয়েছে। ভুলে যাবেন না যে আপনার খাওয়ার অভ্যাসের সাথে ঘুমের গুণমান আপনার মেজাজ, স্মৃতিশক্তি ইত্যাদিকে প্রভাবিত করছে। ভালো ঘুমের অভাব আপনাকে প্রতিনিয়ত হৃদরোগের দ্বারপ্রান্তে রাখে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, আগামী দশকগুলিতে হৃদরোগ মৃত্যুর অন্যতম কারণ। হু(WHO) এর মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চল বিশ্বের জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশের আবাসস্থল। কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ (সিভিডি) বার্ষিক ৩৯ লাখ মৃত্যুর জন্য দায়ী, যা মোট মৃত্যুর ৩০ শতাংশ। এদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে, প্রতি চারজনের মধ্যে একজনের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, দশজনের মধ্যে একজনের ডায়াবেটিস রয়েছে। অথচ ১৫% শতাংশেরও কম কার্যকর চিকিৎসা পাচ্ছেন। তাই কিছু বিষয় মাথায় না রাখলেই নয়, যেমন-

  • ডায়াবেটিস হৃদরোগ বৃদ্ধির একটি প্রধান কারণ। এমনকি আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকা সত্ত্বেও যদি ডায়াবেটিস থাকে, তবে আপনি এখনও ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত চেকআপ করাতে থাকুন।
  • পরিবারে যদি হৃদরোগের ইতিহাস থেকে থাকে, তাহলে আপনাকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। প্রাথমিকভাবে তদন্ত করলে ভবিষ্যতে সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
  • যদিও ওজন ঠিক থাকে এবং কোনো ঝুঁকির কারণ না থাকে, লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা নিয়মিত বিরতিতে করা উচিত। এটি দুই ধরনের তথ্য প্রদান করে। যদি এলডিএল খুব বেশি হয়, সতর্ক থাকুন। এটি শুধুমাত্র ১০০ এর কাছাকাছি থাকা উচিত।
  • তবে যদি কোলেস্টেরল বেশি থাকে, তাহলে শুধু খাদ্যাভ্যাস বা শারীরিক পরিশ্রম বাড়ানো কোনও কাজে আসে না। আপনাকে ওষুধের সাহায্যও নিতে হতে পারে।
  • মনে রাখবেন, বেশিক্ষণ বসে থাকলে ব্যায়ামের প্রভাব কমে যায়। আপনি যদি প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট মাঝারি তীব্রতার শারীরিক কার্যকলাপ করেন, তবে রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের ঝুঁকি হ্রাস পাবে।
  • এছাড়াও আপনি যদি নিয়মিত অ্যালকোহল পান করা হয় এবং এর পরিমাণও বেশি হয়, তবে রক্তচাপ, স্ট্রোক এবং অন্যান্য গুরুতর রোগের ঝুঁকি থাকে। তাই স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এসব আজই ত্যাগ করুন।

X
Desktop Bottom Promotion