রোজকার খাদ্যতালিকায় সোয়া রেখেছেন তো? জেনে নিন এর উপকারিতা

নিজের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কে না চান! বর্তমান যুগে প্রত্যেকেই নিজের শরীরকে সুস্থ, সুন্দর যাকে এককথায় বলে ফিট রাখতে চান। স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অবশ্যই নিজের খাওয়ারের দিকে নজর রাখতে হবে। আর, আপনার রোজকার খাদ্য তালিকার মধ্যে যদি সোয়া থাকে তাহলে তো ভালোই। সোয়া মিল্ক থেকে শুরু করে সোয়া প্রোটিন বল, প্রোটিন পাউডার, টোফু, এডামাম ইত্যাদি অনেকেই নিজেদের খাদ্যভ্যাসে রাখছেন নিয়মিত। বাঙালিদের কাছে সোয়াবিন খুবই পরিচিত একটি খাবার। যদিও, আমরা যেটিকে সোয়াবিন ভেবে রান্না করি, তা হল, সোয়া চাঙ্ক। আর সোয়াবিন হল, সোয়া-র বীজ। এই বীজ আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারি।

soya

সোয়া-জাত খাবার খাওয়ার একটা বড়ো উপকারিতা হল, যেসব খাবার আমাদের স্বাস্থ্যে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে সেই সব খাবারকে প্রতিস্থাপন করে এটি। যেমন- মাংসে কোলেস্টেরল এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। সোয়া-তে কিন্তু তা থাকে না। তাতে থাকে প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন এবং মিনারেল। অনেকের মতে, সোয়া হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সক্ষম। সোয়া প্রোটিনের নিয়মিত ব্যবহারে অনেক রোগ প্রতিরোধ হয়।

সোয়াবিন আমাদের হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ওজন বাড়াতে সাহায্য করে, ক্যান্সার রোধ করে, হাড় শক্ত করে, ঋতুস্রাবের সময় শরীর ভাল রাখে, সেই সঙ্গে আরও অনেক উপকারে লাগে। সোয়াবিনের এত উপকারিতার কারণ, সোয়াবিনের মধ্যে সয়া দুধ এবং উদ্ভিজ্জ প্রোটিন থাকে।

বিশ্বস্বাস্হ্য সংস্থা, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন ও আমেরিকান সয়াবিন উৎপাদক অ্যাসোসিয়েশনের বিখ্যাত স্বাস্থ্য গবেষক ও পুষ্টি বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, যদি প্রতিদিন ২৫ গ্রাম সোয়া প্রোটিন খাদ্য তালিকায় থাকে তাহলে হৃদরোগ বা হার্ট এ্যাটাকের সম্ভাবনা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কমবে।

সোয়া -র উপকারিতা :

ক) দেহের বাড়তি চর্বি / কোলেষ্টেরল দ্রুত কমিয়ে আনে।

খ) করোনারী শিরার ব্লকেজ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থারাইটিস, মাইগ্রেন, টিউমার, ক্যান্সার সহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকি অধিকাংশ ক্ষেত্রে কমিয়ে আনে।

গ) দেহের শক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ঘ) দেহের বাড়তি ওজন নিয়ন্ত্রণ করে।
ঙ) সোয়া প্রোটিন উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে।
চ)যারা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের জন্য ফাইবার খুবই উপকারি। তাই পরিমিত হারে সোয়াবিন খাওয়া প্রায় সকলেরই উচিত।
ছ) সোয়াবিনের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা আমাদের হজম প্রক্রিয়া চালিত করে এবং ঘুম পাড়াতে সাহায্য করে।
জ) সোয়াবিনে কপার এবং আইরন থাকে, যা রক্ত সঞ্চালন এবং লোহিত রক্তকণিকার গঠনে সাহায্য করে।

মেয়েদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সোয়া -র উপকারিতা :

মেয়েদের স্বাস্থ্যের জন্য সোয়া অত্যন্ত উপকারি। নিয়মিত খাদ্যাভাসে ষদি এটি রাখা যায় তাহলে স্বাস্থ্যের অনেক উন্নতি হতে পারে।

ক) ক্যান্সার রোধ করতে সাহায্য করে:

এটি মেয়েদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। সোয়াবিনের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। এই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকারক ফ্রি র‍্যাডিকালগুলিকে দুর্বল করতে সাহায্য করে। এরফলে, আমামদের শরীরে কোনও ক্ষতিকারক কোষ গঠন হতে পারে না। এছাড়াও, সোয়াবিনের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ফাইবার থাকায়, কোলোরেক্টালের সম্ভাবনা এবং কোলোন ক্যান্সারের সম্ভাবনা থাকে না।

খ) ঋতুস্রাবের সমস্যা দূর করে:

সোয়াবিনের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে আইসোফ্ল্যাবোনস থাকে, যা নারীদের জননতন্ত্রের সার্বিক উন্নতি ঘটায়। মনে রাখতে হবে যে, ঋতুস্রাব চলাকালীন, নারীদের ইস্ট্রোজেন লেভেল অনেক কমে যায়। ঠিক এই সময়, আইসোফ্ল্যাবোনস ইস্ট্রোজেনের মাত্রা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও ঋতুস্রাবের আগে এবং চলাকালীন স্বভাবে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যেমন- হঠাৎ করে মুড বদলে যাওয়া, প্রচণ্ড খিদে পাওয়া ইত্যাদি। এগুলিকে খুব সহজেই দূর করতে পারে আইসোফ্ল্যাবোনস। তাই, মেয়েদের জন্য খুবই উপকারি একটি খাদ্য হল সোয়াবিন।

আমাদের ত্রুটিপূর্ণ খাদ্যভ্যাস ও বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সোয়া প্রোটিন বিশেষ ভাবে কার্যকরী। তাই সুস্থ থাকতে হলে পরিবারের ছোট বড় প্রত্যেক সদস্যের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সোয়া প্রোটিন জরুরী।

X
Desktop Bottom Promotion