চোখে ঘুম নেই? নেপথ্যে থাকতে পারে অসময়ে চা-কফি বা বদহজম, নজর দিন ডিনারের সময়ে

By Bhagysree Sarkar

বর্তমানে কর্মব্যস্ততায় কমবেশি সকলেই নিজের জন্য সময় বের করে উঠতে পারি না। সকালে ঘুম ভাঙা মাত্রই ছুটে যেতে হয় অফিসে। আবার অফিস না থাকলেও বাচ্চার টিফিন থেকে বাড়ির রান্না ছাড়াও একাধিক কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। তাই এই ব্যস্ত জীবনে সঠিকভাবে শরীরকে পুষ্টি দেওয়া অনিবার্য। না হলেই কিন্তু বিপদ! একটু অবহেলাতেই শরীরের নানান সমস্যা সৃষ্টি হয়। তাই আমাদের জানা দরকার খাবার খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি।

সুস্থ ও ফিট থাকার জন্য আমাদের খাবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রায়শই আমরা খাবার খাই কিন্তু সঠিক সময় এবং স্বাস্থ্যকর খাবার উপেক্ষা করেই। বিশেষজ্ঞদের দাবি, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার এবং সুষম খাদ্য সুস্থ শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই সমস্ত কিছুর যত্ন নেওয়ার পরেও যে জিনিসটি আপনার স্বাস্থ্যের উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে তা হল আপনার রাতের খাবার।

dinner

আপনি কি জানেন, রাতের খাবারের ভুল সময় আমাদের ঘুম নষ্ট করতে পারে। হ্যাঁ আপনি ঠিকই শুনেছেন। কিছু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতের খাবার ৬ টার মধ্যে হওয়া উচিত। আবার কিছু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি খাবারের সময় নয় বরং এর গুণমান যা এটিকে প্রভাবিত করে। আইএএনএস-এর প্রতিবেদন অনুসারে, বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন ফিট থাকতে হলে রাতের খাবারে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

এছাড়াও, অফিসে দেরি করে কাজ করা বা অন্য কোনো কারণে মানুষ প্রায়ই বাড়ি ফিরতে দেরি করে। অথবা টিভি দেখা এবং মোবাইল ফোন ব্যবহারে ব্যস্ত থাকার কারণে আমরা ঠিক সময়ে রাতের খাবার খেতে পারি না। তবে জেনে রাখা ভালো, ক্লান্তিকর দিনের পর সঠিক সময়ে রাতের খাবার খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে অবহেলার কারণে খাবার হজমে সমস্যা হয় এবং রাতের ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটে।

অনেকেই আবার দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার সময় চা বা কফি খান, কিন্তু রাতের খাবারের পরে তা পান করলে ঘুমের সমস্যা হয়। করণ, চা এবং কফিতে ক্যাফেইন থাকে। যা আপনার ঘুম কেড়ে নেয়। এমন পরিস্থিতিতে এটি পান করা এড়িয়ে চলা উচিত।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবার ঘুমানোর আন্তত এক ঘণ্টা আগে হওয়া উচিত। তবে সকালের খাবার ভারী এবং রাতের খাবার খুব হালকা হওয়া উচিত। এতে মেটাবলিজম ও হজম ঠিক থাকে। ভারী খাবার হজমের সমস্যা সৃষ্টি করে। তাই রাতের খাবারে দেরি করা উচিত নয়। রাতের খাবার ও ঘুমের মধ্যে অন্তত তিন ঘণ্টার ব্যবধান থাকা উচিত। রাতের খাবারে রুটি, ডাল, মিশ্র সবজি, স্যালাড এবং সবুজ শাক-সবজি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। এটি খেলে স্বাস্থ্য ও পরিপাকতন্ত্র দুটোই ভালো থাকে।

এর সঙ্গে আপনি খাদ্যতালিকায় মসুর ডাল, মসুর ডালের স্যুপ, ভেজিটেবল স্যালাড, ওটস দিয়ে তৈরি খিচড়ি রাতের খাবারের জন্য ভালো। এগুলি হজমযোগ্য অর্থাৎ সহজে হজম হয়। তাই সামগ্রিকভাবে বলতে হবে খাবার এমন হতে হবে যাতে তা হজম হয়।

Story first published: Monday, September 2, 2024, 13:50 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion