Cancer risk: ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে ক্যানসারের বাড়বাড়ন্ত! কিন্তু কেন? জানাল ‘হু’

By Bhagysree Sarkar

Cancer risk: ক্যানসার একটি গুরুতর রোগ। যা বর্তমানে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাপী ক্রমশ বাড়ছে ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা। সাম্প্রতিক ভারতেও এই সংখ্যাটা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাজেই এই ঘটনা চিকিৎসকদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। তবে সময়মত এই রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসা সম্ভব। এই মারাত্মক রোগটি বয়স বা লিঙ্গ নির্বিশেষে যে কাউকে প্রভাবিত করতে পারে। শুধু তাই নয়, গত কয়েক বছরে মহিলাদের মধ্যে ক্যানসারের ঘটনা বেশি দেখা যাচ্ছে (Women Cancer Risk in India) বলেই জানা গিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশি এই গুরুতর রোগের শিকার (Women are at higher risk of cancer) হচ্ছেন। একথা শুধু আমরা নই, বরং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর পরিসংখ্যানও বলছে। কিন্তু কেন এই সমস্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে তা কি জানেন? চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক, কেন ভারতে মহিলাদের মধ্যে ক্যানসারের ঘটনা বাড়ছে-

Cancer risk

ছবি সৌজন্য- pexels

বংশগত, পরিবেশগত ও কিছু জীবনাচরণের কারণেই ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর তথ্য অনুসারে, ভারতে মহিলাদের মধ্যে ক্যানসারের ক্রমবর্ধমান ঘটনা নিশ্চিত করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) গ্লোবাল ক্যানসার অবজারভেটরি অনুসারে, ২০২২ সালে ভারতে প্রায় ১৪,১৩,৩১৬টি নতুন ক্যানসারের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে।

. ক্যানসারের নতুন কেস
পুরুষ: প্রায় ৬,৯১,১৭৮টি নতুন কেস।
মহিলা: প্রায় ৭,২২,১৩৮টি নতুন কেস।

ক্যানসারে মৃত্যুর হার:
পুরুষ: প্রায় ৪,৭০,০৫৫ জন মৃত্যু।
মহিলা: প্রায় ৪,৪৬,৭৭২ জন মৃত্যু।

উপরের তথ্য থেকে একথা স্পষ্ট যে, ভারতে পুরুষদের তুলনায় মহিলারা ক্যানসারে বেশি আক্রান্ত হন। তবে তথ্য থেকে এটাও স্পষ্ট যে ক্যানসার মারা যাওয়া পুরুষদের সংখ্যা বেশি। এবার মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ক্যানসারের ধরণগুলি হল, স্তন ক্যানসার, ডিম্বাশয়ের ক্যানসার, মুখের ক্যানসার ও জরায়ুমুখের ক্যানসার। কিন্তু এখনও প্রশ্ন নারীদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি কেন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন কারণে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। জৈবিক, জেনেটিক এবং পরিবেশগত কারণগুলির (Cancer risk factors) কারণে মহিলাদের ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে নিম্নলিখিত কারণগুলি মহিলাদের ক্যানসারের কারণ-

. জিন পলিমরফিজম: জিন পলিমরফিজমের পার্থক্য ক্যানসারের ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারে।

. জীবনযাত্রার বিষয়: মহিলারা প্রায়শই তাদের স্বাস্থ্য এবং খাদ্যাভ্যাস উপেক্ষা করেন। খারাপ খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ওজন এবং মানসিক চাপের মাত্রা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

. প্রজনন সংক্রান্ত কারণ: একজন মহিলার যে বয়সে মাসিক শুরু হয় এবং কখন মেনোপজ হয় তা তার স্তন ক্যানসারের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করতে পারে।

. হরমোন: ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন স্তন এবং ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে।

. জেনেটিক মিউটেশন: জেনেটিক মিউটেশন মহিলাদের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখে।

. এছাড়াও পরোক্ষ ধোঁয়া, রেডন গ্যাস, দূষণ এবং পরিবেশের অন্যান্য বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

উল্লেখিত তথ্য থেকে এটা স্পষ্ট যে ভারতে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে ক্যানসারের ঘটনা কিছুটা হলেও বেশি। তবে পুরুষদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেশি। তাই প্রতিরোধের জন্য সতর্কতা এবং সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Cancer prevention tips)।

Story first published: Saturday, January 18, 2025, 12:50 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion