বর্ষায় রোগের বাড়বাড়ান্ত, ফ্লু থেকে বাঁচতে কী খাবেন, জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের মত!

By Bhagysree Sarkar

বর্ষাকাল মানেই গরমের অস্বস্তি থেকে রেহাই। সারাদিন টিপটিপ করে বৃষ্টি। আর সঙ্গে মনোরম পরিবেশ। তবে বর্ষাকাল আনন্দের হলেও সঙ্গে করে নিয়ে আসে বিভিন্ন রোগ-জ্বালা। কারণ, এই মরশুমে গরমের তুলনায় তাপমাত্রা অনেক কম হলেও আর্দ্রতা অনেক বেড়ে যায়। যার ফলে পরিবেশে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক জন্মাতে শুরু করে। তাই খুব সহজেই এসব সংক্রান্ত সংক্রমণের ঘটনা বৃদ্ধি পায়।

পুষ্টিবিদদের মতে, বৃষ্টিতে বিশেষ করে খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত। বর্ষাকালে আমাদের শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং এটি ইমিউন সিস্টেমের উপরও প্রভাব ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে ভাইরাল, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। সর্দি, কাশি, গলাব্যথা ও জ্বরের প্রকোপ বাড়ে। তাই এসব সমস্যা এড়াতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত এবং কেবলমাত্র ঘরে তৈরি খাবারই খাওয়া উচিত।

wather

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্লু ছাড়াও রাস্তার খাবার বর্ষাকালে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। এই মরশুমে মানুষ পেটের ইনফেকশন, লুজ মোশন এবং গ্যাস্ট্রাইটিসের মত সমস্যায় ভুগতে পারে। তবে ডায়েটে কিছু পরিবর্তন করলেও এই সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। যা খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, যা রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা বাড়ায়। চলুন দেখে নেওযা যাক-

  • বর্ষাকালে খাদ্যতালিকায় আদা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। যেমন- আদা চা, আদা দিয়ে বানানো কাড়া অথবা অন্য কিছু। আদার আমাদের গলায় উষ্ণতা বৃদ্ধি করে। যা গলা ব্যথা এবং অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। আদা গলার ফোলাভাব কমায়। আদায় প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে। আপনি দিনে একবার বা দুবার আদা চা পান করতে পারেন। এতেও সুফল পাবেন।
  • যদি আপনি সর্দি, জ্বর বা গলা ব্যথার সমস্যায় ভুগে থাকেন, তবে স্যুপ তৈরি করে দিনে একবার বা দুবার পান করা উচিত। টমেটোর স্যুপ গলায় দারুণ স্বস্তি দিতে পারে এবং শরীরকে শক্তিশালী করতে পারে। এছাড়া মরশুমের সবজি মিশিয়েও স্যুপ তৈরি করতে পারেন। শাকসবজিতে পাওয়া পুষ্টি আপনার শরীর থেকে সংক্রমণ দূর করতে সহায়ক প্রমাণিত হবে। সুস্থ মানুষও গরম স্যুপ খেতে পারেন।
  • অনেকেই লেবু জল খেতে পছন্দ করেন গরমে। তবে শুধু গরম নয় বর্ষাতেও লেবু খাওয়া উপকারী। লেবু ভিটামিন সি এর একটি চমৎকার উৎস। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে পারে। লেবু সবজি, স্যালাড বা অন্যান্য খাবারে ছিটিয়ে খাওয়া যেতে পারে। আপনি চাইলে হালকা গরম জলেও লেবু মিশিয়ে পান করতে পারেন।
  • বর্ষার মরশুমে রসুন খাওয়া অসাধারণ উপকারিতা রয়েছে। রসুন অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ, যা শরীরকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে কার্যকরী ভূমিকা নেয়। রসুনের গরম প্রকৃতি রয়েছে, তাই এই আবহাওয়ায় শরীরকে উষ্ণ রাখতে এর বিকল্প নেই। এটি রোগ প্রতিরোধ করে এবং ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। খালি পেটে রসুন কাঁচা বা ভাজা খেতে পারেন। এছাড়া এটি যেকোনও সবজিতে যোগ করেও খেতে পারেন।
  • বর্ষায় ঘণ্টা খানেকের বেশি রাখা খাবার এড়িয়ে চলুন এবং সবসময় গরম করে খাবার খান। এটি আপনার শরীরের অনেক উপকার করতে পারে এবং ঠাণ্ডা-কাশি থেকে মুক্তি দিতে পারে। বর্ষাকালে গরম জিনিস খেতে হবে এবং ঠাণ্ডা জিনিস এড়িয়ে চলতে হবে। টাটকা ফল এবং শাকসবজি নুন দিয়ে গরম জল দিয়ে ধুয়ে ব্যবহার করা উচিত।

Story first published: Saturday, July 13, 2024, 13:30 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion