এই পদ্ধতিতে ব্রাশ করুন, দাঁত হবে মজবুত ও ঝকঝকে

নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা নিত্য রুটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি দাঁত ক্ষয় হওয়া, মুখের দুর্গন্ধ এবং জিঞ্জিভাইটিসের মতো বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে। এছাড়াও, মুখের ভেতর থেকে পরিষ্কার করে। আর, সঠিকভাবে দাঁতের যত্ন না নিলে ক্যাভিটি এবং নানা ধরনের মাড়ির সমস্যা দেখা দেয় ফলে, খুব তাড়াতাড়ি দাঁত পড়তে শুরু করে। তাই, ভাল মানের টুথব্রাশ ব্যবহার করা উচিত, যার শলাকাগুলো বেশি শক্ত বা বেশি নরম নয়। এমন ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজলে তা মাড়িকে উদ্দীপিত করে এবং মাড়ির রক্তপাত রোধ করে।

How To Brush Your Teeth Correctly

আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা এটি সুপারিশ করা হয় যে, ADA- অনুমোদিত ফ্লোরাইড টুথপেস্ট ব্যবহার করে নরম টুথব্রাশ দিয়ে দিনে দু'বার দাঁত ব্রাশ করা উচিত। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এবং সকালে ব্রেকফাস্ট করার পর, প্রতিবার ২-৩ মিনিট ব্রাশ করলেই হবে। কিন্তু, কীভাবে দাঁত মাজবেন? ব্রাশ করার সঠিক পদ্ধতি কী? এগুলো অনেকেরই অজানা। আজ আমরা এই ব্যাপারেই বলব।

কীভাবে আপনার দাঁত ব্রাশ করবেন

১) সঠিক টুথপেস্ট চয়ন করুন

১) সঠিক টুথপেস্ট চয়ন করুন

ব্রাশ ভিজিয়ে তাতে টুথপেস্ট লাগান। সর্বদা ফ্লোরাইড টুথপেস্ট নির্বাচন করুন কারণ এটি ক্যাভিটি থেকে রক্ষা করে এবং দাঁতের ক্ষয় রোধ করে। তবে বেশি মাত্রায় টুথপেস্ট ব্যবহার না করে, একদম অল্প টুথপেস্ট ব্যবহার করলেই উপকার পাওয়া যায়। অতিরিক্ত পরিমাণে টুথপেস্ট নিলে ব্রাশ করার সময় তা গিলে ফেলার সম্ভাবনা থাকে, যা শরীরের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকারক।

২) ৪৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ব্রাশ করুন

২) ৪৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ব্রাশ করুন

উপরের পাটি ও নীচের পাটির দাঁতগুলি একসাথে করুন এবং ব্রাশটা ৪৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে রেখে উপরের পাটির দাঁত ওপর থেকে নীচে এবং নীচের পাটির দাঁত নীচ থেকে ওপরে করে দাঁত মাজলে বেশি উপকার পাবেন। ছোট ছোট বৃত্তাকার আকারে ব্রাশ করতে হবে এবং দাঁতের ভিতরের দিকে দাঁত ও মাড়ির সংযোগস্থলে বৃত্তাকার আকারে আলতো করে ব্রাশ করতে হবে। এভাবে ২-৩ মিনিট ব্রাশ করুন।

৩) আপার মোলারে ব্রাশ করুন

৩) আপার মোলারে ব্রাশ করুন

তারপরে, আপনার দাঁতের পিছনের দিক বা আপার মোলারে, মুখের একপাশে ব্রাশ করা শুরু করুন। একটা দিক হয়ে গেলে মুখের অন্যদিকেও একইভাবে ব্রাশ করুন। দাঁতের সামনের দিকের পাশাপাশি পিছনের দিকটাও সমানভাবে পরিষ্কার করতে হবে। তবেই কিন্তু দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে।

৪) লোওয়ার মোলারে ব্রাশ করুন

৪) লোওয়ার মোলারে ব্রাশ করুন

মুখের একপাশে লোওয়ার মোলারে ২-৩ মিনিটের জন্য ব্রাশ করুন। তারপরে মুখের অন্যদিকে শিফট করুন এবং এটির পুনরাবৃত্তি করুন।

৫) দাঁতের ভিতরে ব্রাশ করুন

৫) দাঁতের ভিতরে ব্রাশ করুন

অনেকেই ব্রাশ করার সময় দাঁতের সামনের দিকটা শুধু পরিষ্কার করেন, ভিতরের দিকটা করেন না, ফলে সেই সব জায়গায় ব্যাকটেরিয়া জমতে শুরু করে। তাই, টুথব্রাশের সাহায্যে নীচের দাঁত এবং উপরের দাঁতগুলির ভিতরে ব্রাশ করুন।

৬) জিহ্বা এবং গালের ভিতরে ব্রাশ করুন

৬) জিহ্বা এবং গালের ভিতরে ব্রাশ করুন

জিহ্বা এবং গালের ভিতরেও পরিষ্কার করা উচিত, কারণ এগুলিতেও ময়লা জমে মুখকে দুর্গন্ধযুক্ত করে তোলে। তাই, ব্রাশের সাহায্যে বৃত্তাকার গতিতে জিহ্বা, মুখের তালু এবং গালের অভ্যন্তরে ভালো করে পরিষ্কার করুন।

৭) আপনার মুখ এবং টুথব্রাশ ধুয়ে নিন

৭) আপনার মুখ এবং টুথব্রাশ ধুয়ে নিন

সবশেষে, মুখে জল নিন এবং ভাল করে কুলকুচি করে ফেলে দিন। দাঁত মাজার পরে ভাল করে ব্রাশটা ধুয়ে নেবেন, তাহলে ব্রাশে কোনও ধরনের ব্যাকটেরিয়া জমে থাকার আশঙ্কা থাকবে না।

টুথপেস্ট ছাড়াই দাঁত ব্রাশ করতে পারেন

টুথপেস্ট ছাড়াই দাঁত ব্রাশ করতে পারেন

টুথপেস্ট ছাড়াই কীভাবে দাঁত ব্রাশ করবেন, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে। টুথপেস্ট ছাড়াও এমন কিছু জিনিস রয়েছে যা দিয়ে আপনি মুখ পরিষ্কার করতে পারেন, এগুলি পেস্টের মতোই দাঁত পরিষ্কার করে। এক্ষেত্রে নিম্নলিখিত আইটেমগুলি ব্যবহার করতে পারেন -

নারকেল তেল

নারকেল তেল

নারকেল তেলে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার অর্থ এটি আপনার মুখের ব্যাকটেরিয়াগুলি নির্মূল করে এবং ওরাল হেল্থ বজায় রাখতে সহায়তা করে। এটি দাঁত সাদা করতেও সহায়তা করে।

চারকোল

চারকোল

চারকোল মুখ থেকে বিষাক্ত পদার্থগুলি সরায় এবং মুখের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। এটি মুখের দুর্গন্ধও কমায়।

X
Desktop Bottom Promotion