অসহ্য মাথা ব্যথা, দরদর করে ঘাম, ক্লান্তি? রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমে যায়নি তো?

নুন বেশি খাওয়া শরীরের জন্য ভালো নয়। বিশেষ করে, উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের চিকিৎসকেরা মেপে নুন খাওয়ার কথা বলেন। কারণ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ সোডিয়াম। আর নুনেই সবচেয়ে বেশি সোডিয়াম থাকে। মাত্রাতিরিক্ত লবণ গ্রহণ যেমন স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক, তেমনই শরীরে নুন বা সোডিয়াম কম থাকলেও কিন্তু সমস্যার শেষ থাকে না। সোডিয়াম লেভেল কমে গেলে অনেক গুরুতর অসুখে ভুগতে হয়।

সোডিয়াম এক ধরনের ইলেক্ট্রোলাইট, যা শরীরে জলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা খুব কম হলে হাইপোনেট্রিমিয়া হয়। ফলে শরীরে তরলের ভারসাম্য নষ্ট হয়। কোন কোন উপসর্গ দেখে বুঝবেন আপনি হাইপোনেট্রিমিয়ায় আক্রান্ত কি না? রক্তে সোডিয়ামের ভারসাম্যই বা বজায় রাখবেন কী ভাবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

Low Sodium Levels

হাইপোনেট্রিমিয়ার লক্ষণ
শরীরে সোডিয়ামের অভাব দেখা দিলে মাথা ব্যথা, বিভ্রান্তি, ক্লান্তি, অবসাদ, পেশির দুর্বলতা, অস্থিরতা, বিরক্তি, এনার্জি না থাকা, বমি বমি ভাব এবং বমি, কোমা, অলসতা, খিঁচুনি, এই সব উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

হাইপোনেট্রিমিয়ার কারণে মস্তিষ্কের সমস্যা
৪৮ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কম থাকলে মস্তিষ্কে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেখান থেকে জ্ঞান হারিয়ে কোমায় চলে যেতে পারেন এবং মৃত্যু পর্যন্তও হতে পারে। মহিলাদের মেনোপজ বা ঋতুবন্ধের সময়কালে মনে রাখতে না পারার মতো মস্তিষ্কের বিভিন্ন সমস্যার কারণই হল এই হাইপোনেট্রিমিয়া।

সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান
চিজ, দুগ্ধজাত খাবার, সামুদ্রিক খাবার, বিট, গাজর এবং সেলেরির মতো সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খান। এতে রক্তে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় থাকবে।

নুনের মাত্রা ঠিক রাখা
নুন হল সোডিয়ামের মূল উৎস। তবে অত্যধিক নুন খাওয়া আবার স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। তাই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি নুন খাবেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রাপ্তবয়স্ক এক জন ব্যক্তির দৈনন্দিন লবণ গ্রহণের পরিমাণ ৫ গ্রামের কম হওয়া উচিত। নুনের মাত্রা সঠিক রাখতে প্রয়োজনে ডাক্তারের সঙ্গেও পরামর্শ করতে পারেন। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগে আক্রান্ত তারা অবশ্যই এ ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

জল পান করা
খেলাধূলা বা শরীরচর্চা করার সময় প্রচুর ঘাম হলে আপনি হাইপোনেট্রিমিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন। তাই এই সময়ে বার বার জল বা ইলেকট্রলাইট জাতীয় পানীয় খান। রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখতে জলের ভূমিকা অপরিসীম।

X
Desktop Bottom Promotion