নতুন বছরে সুস্থ থাকতে চান? দেখে নিন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত রেজোলিউশনগুলি

শুরু হয়ে গেল আরও এক নতুন বছর। নতুন বছরে আমরা সকলেই অনেক ধরনের রেজোলিউশন নিয়ে থাকি। তবে, সব রেজোলিউশনগুলির মধ্যে স্বাস্থ্যকে আমরা অনেকেই বাদ দিয়ে ফেলি। বেশিরভাগ মানুষের কাছে স্বাস্থ্য রেজোলিউশন মানে হল, অতিরিক্ত ওজন হ্রাস এবং কিছু খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করা। কিন্তু না, শুধু ওজন হ্রাসের প্রতি মনোযোগী হলে হবে না, শপথ নিতে হবে সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপন করার।

নতুন বছর এগোনের সাথে সাথেই শুরুতে নেওয়া রেজোলিউশনগুলি আমরা ভেঙেও ফেলি, কারণ গোটা বছর ধরে এটি রাখা খুব কঠিন হয়ে ওঠে। তবে, স্বাস্থ্য রেজোলিউশনে আপনাকে আটকে থাকতেই হবে, নইলে হতে পারে অনেক বিপদ।

health resolutions for new year

আসুন জেনে নেওয়া যাক, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য কিছু সহজ সমাধান। অবশ্যই গ্রহণ করুন এই স্বাস্থ্যকর রেজোলিউশনগুলি।

ডায়েট

ডায়েট

ডায়েট মানেই একেবারে খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া, একেবারেই নয়। নিজেই ঠিক করুন কী খাবেন আর কী খাবেন না। সেগুলিকেই আপনার ডায়েট চার্টে জায়গা দিন। নিজে ডায়েট ঠিক করতে না পারলে পরামর্শ নিন কোনও চিকিৎসকের। যদি আপনি ওজন হ্রাস করতে চান তবে, আপনার ডায়েট থেকে বাদ দিন কিছু উচ্চ ক্যালোরি এবং ফ্যাটযুক্ত খাবার। আবার যদি আপনি ওজন কমানোর ডায়েটে থাকতে না চান তবে আপনার স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। যেমন- সবুজ শাকসবজি, ফল, সালাদ, বাদাম এবং স্যুপের মতো স্বাস্থ্যকর খাবার অবশ্যই রাখুন ডায়েটে। বাদ দিন তেলেভাজা বা চর্বিযুক্ত খাবারকে।

পরিমাণ মত জল পান করুন

পরিমাণ মত জল পান করুন

শরীরকে সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান যে খুব প্রয়োজন, তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু, বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে আমরা সারাদিনে খুবই অল্প জল পান করে থাকি। ফলে, শরীরে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা দেখা দেয়। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস করে জল পান করুন, এটি হজমশক্তি বাড়ায়। আবার, অতিরিক্ত জল পান বিপদও আনতে পারে। তাই নতুন বছরে অবশ্যই শপথ নিন সুস্থ শরীরের জন্য সঠিক ও পর্যাপ্ত পরিমাণ জল পান করার। শরীরের ওজন অনুযায়ী নির্ভর করে একজন মানুষের কত পরিমাণ জল প্রয়োজন। তাই, পরামর্শ নিন কোনও বিশেষজ্ঞের। তেষ্টা পেলে রঙিন শরবত বা কোল্ড ড্রিঙ্কস্ এড়িয়ে চলুন। কারণ, এগুলি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায় এবং কিডনির কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে।

ওয়ার্ক আউট

ওয়ার্ক আউট

আমাদের সবার সুস্থ এবং সক্রিয় থাকার জন্য প্রতিদিন ব্যায়াম বা ওয়ার্কআউট করা অত্যন্ত প্রয়োজন। রোজ সকালে আর সন্ধ্যায় আপনি যেকোনও ধরনের ব্যায়াম চেষ্টা করতে পারেন। যদি সময় না পান তবে, প্রতিদিন সকালে অন্তত পাঁচ মিনিট হাঁটাচলা, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা এবং দৌড়াতে চেষ্টা করুন। এগুলি হল সাধারণ বায়বীয় অনুশীলন, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং আপনাকে ফিট ও স্বাস্থ্যকর রাখতে সাহায্য করে।

পরিমাণ মত ঘুম

পরিমাণ মত ঘুম

নতুন বছরে সুস্থ থাকতে অবশ্যই এই ঘুমের রেজোলিউশনটি নিতে হবে। গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করা, পার্টিতে থাকা, সিনেমা দেখা, মোবাইল ঘাঁটা বন্ধ করুন। শরীরকে দিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম অর্থাৎ প্রয়োজন ঘুমের। অল্প ঘুম হলে বাড়তে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি, ওজন, স্ট্রেস, শরীরের ব্যথা, বদহজম এবং নিদ্রাহীনতার মতো ভয়াবহ রোগ। যখন আমরা ঘুমাই তখন শরীরের অঙ্গগুলি পুনরায় কাজ করার শক্তি ফিরে পায়। তাই, রোজ অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমের দরকার।

ধুমপান ও মদ্যপান

ধুমপান ও মদ্যপান

প্রতিবছর এই নেশা থেকে বিরত থাকতে অনেকেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন, তবে তা বয়ে নিয়ে যেতে পারেন না। কিন্তু, স্বাস্থ্যকে ঠিক রাখতে এগুলি ত্যাগ করা খুবই জরুরি। এই নতুন বছরে সুস্থ থাকতে ছাড়তে হবে ধূমপান এবং মদ্যপান।

একটানা কাজের মাঝে মাঝে বিশ্রাম নিন

একটানা কাজের মাঝে মাঝে বিশ্রাম নিন

একটানা বসে থাকা বা একটানা কাজ করে যাওয়া ধূমপান এবং মদ্যপানের মতোই ক্ষতিকারক। সুতরাং, কাজ করার মাঝে বিশ্রাম অত্যন্ত প্রয়োজন এবং টানা এক জায়গায় বসে না থেকে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পরপর উঠে দাঁড়ান বা হেঁটে আসুন। এভাবেই শরীরকে সচল রাখুন। নইলে ওজনাধিক্য, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এমনকি হৃদরোগও দেখা দিতে পারে।

মনের ইচ্ছেতে নজর দিন

মনের ইচ্ছেতে নজর দিন

সুস্থ থাকতে নিজেকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি নিজের ইচ্ছেও পূরণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ, আত্ম-সচেতনতা মানুষকে তার নিজের আবেগ, অনুভূতি ও ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে নিবিড়ভাবে চিনতে সহায়তা করে। এই অনুভূতিকে চেনার মধ্য দিয়েই মানুষ তার নিজের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার দিকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে পারে এবং দুর্বলতাগুলিকে কাটিয়ে উঠতে পারে। ফলে, মানসিক দিক থেকে সুস্থ থাকা যায়।

X
Desktop Bottom Promotion