ঘন ঘন হাঁপানি হচ্ছে, অ্যাজমা অ্যাটাকের ঝুঁকির আশঙ্কা! বাঁচতে খাদ্যতালিকায় এই খাবারগুলি রাখুন, ফুসফুসও হবে শক্ত

By Bhagysree Sarkar

বর্তমানে কর্মব্যস্ততায় সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। খারাপ জীবনযাত্রার কারণে অনেক রোগই মানুষকে গ্রাস করেছে। যার মধ্যে অন্যতম হল হাঁপানি। দীর্ঘস্থায়ী হাঁপানি, এমন একটি রোগ যা একজন মানুষকে ভেতর থেকে শেষ করে ফেলতে পারে। হাঁপানির কারণে, একজন ব্যক্তি সম্পূর্ণরূপে ভিতর থেকে ভেঙে যায়। এমন পরিস্থিতিতে হাঁপানি রোগীদের আরও যত্ন নিতে হবে। শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঠিক চিকিৎসার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসেরও যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি।

ভারতে হাঁপানির কারণে প্রতি বছর আনুমানিক ২,০০,০০০ লোক মারা যান। যদি প্রাথমিকভাবে নির্ণয় করা হয় এবং সঠিকভাবে চিকিৎসা করা হয়, তবে কোনও হাঁপানি রোগীর মৃত্যু হওয়া উচিত নয়। কারণ বর্তমানে এমন চিকিৎসা রয়েছে যা এত কার্যকর এবং নিরাপদ যে একজন প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। তবে অনেকরই প্রশ্ন থাকতে পারে, অ্যাজমা অ্যাটাক কেন হয়? বা হাঁপানি রোগীদের সঠিক খাদ্যাভ্যাস কী হওয়া উচিত? এই প্রশ্নের উত্তরই পাবেন আজকের প্রতিবেদনে।

ছবি সৌজন্য -pexels

মূলত, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাঁপানি রোগীদের শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, কাশির মতো অনেক সমস্যা রয়েছে। একই সাথে হাঁপানির প্রধান কারণ বলা যেতে পারে শরীরে উপস্থিত শ্লেষ্মা এবং শ্বাসনালী সরু হওয়ার ঘটনা। তবে এটি ছাড়াও, অ্যাজমা অ্যাটাকের অনেক বাহ্যিক কারণ থাকতে পারে। এ ধরনের সমস্যা বাড়লে হঠাৎ অ্যাজমা অ্যাটাক হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে এই রোগীদের ইনহেলার নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এখন প্রশ্ন, তাহলে একজন হাঁপানি রোগীর খাদ্যাভ্যাস কেমন হওয়া উচিত?

ভিটামিন-সি খাবার:
পুষ্টিবিদরা বলছেন, অ্যাজমা রোগীদের ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। কারণ ভিটামিন সি-তে উপযুক্ত পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ফুসফুসকে রক্ষা করতে এবং শক্তিশালী করতে সহায়ক। এই জন্য ডায়েটে কমলালেবু, ব্রকলি, কিউই-এর মত ফল বা সবজি অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এই ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেলে হাঁপানির আক্রমণের ঝুঁকি কমানো যায়।

মধু-দারুচিনি:
সাধারণ মানুষের মধু এবং চিনি সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। তবে হাঁপানি রোগীদের জন্য মধু ও দারুচিনি খাওয়া উপকারী প্রমাণিত হয়েছে। এর জন্য ১ চা চামচ মধুর সঙ্গে ২ থেকে ৩ চিমটি দারুচিনি মিশিয়ে রাতে ঘুমানোর আগে খান। এতে করে ফুসফুস অনেকাংশে আরাম পাবে।

সবুজ শাকসবজি:
সবুজ শাকসবজি খাওয়া কতটা উপকারি তা বলেও শেষ করা যাবে না। সবুজ শাকসবজি খাওয়া ফুসফুসের জন্যও উপকারী। সবুজ শাকসবজি খেলে ফুসফুসে কফ জমতে পারে না, যা হাঁপানি রোগীদের আক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি কমায়। এছাড়া সবুজ শাকসবজি খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ভালো হয়।

ডাল:
আমরা সকলেই জানি, ডাল প্রোটিনের অন্যতম সমৃদ্ধ উৎস। এর জন্য কালো ছোলা, মুগ ডাল, সয়াবিন জাতীয় জিনিস খাওয়া যেতে পারে। এই ডালগুলি ফুসফুসকে শক্তিশালী করে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। এছাড়াও ডাল খেলে হজম শক্তিও মজবুত হয়।

তুলসী পাতা:
তুলসী পাতার উপকারিতা সম্পর্কে কমবেশি সকলেই জানি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাঁপানি রোগেও তুলসী পাতা উপকারী। তুলসীতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। এই জন্য চায়ে ৩-৪টি তুলসী পাতা মিশিয়ে পান করলে হাঁপানি রোগীদের আক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়া তুলসী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, যা মৌসুমি রোগ থেকে রক্ষা করে।

Story first published: Wednesday, July 31, 2024, 13:26 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion