এই খাবারগুলি ভুলেও ফ্রিজে রাখবেন না যেন?

By: Swaity Das
Subscribe to Boldsky

সুপার মার্কেটে প্যাকেটে রাখা ফ্রিজবন্দী খাবার আমরা সবাই কমবেশি কিনি। তবে সেক্ষেত্রে ঊহ্য থেকে যায় পুষ্টিগুণ। তেমনি রোজ আমরা যেসব খাবার খেয়ে থাকি, তার মধ্যে কিছু খাবার ভুলেও ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। কারণ ফ্রিজে রাখলেই যে খাদ্যবস্তু অবিকৃত এবং তাতে পুষ্টি বজায় থাকবে, এমন নয় কিন্তু! শুধু তাই নয়, এই প্রবন্ধে আলোচিত খাবারগুলি ফ্রিজে রাখলে শরীরের উপরও কু-প্রভাব পরে।

তাহলে এখন প্রশ্ন হল, কী কী ধরণের খাবার ফ্রিজে রাখা উচিত নয়?

১. ডিম:

১. ডিম:

আমরা প্রত্যেকেই ডিম কিনে ফ্রিজে রেখে দিই এবং প্রয়োজন মতো বের করে রান্না করি। তবে এমনও অনেকে আছেন, যারা সময় সাশ্রয় করতে ডিম সেদ্ধ করে ফ্রিজের ভিতরে রেখে দেন। সমস্যাটা ঠিক এখানেই। কারণ সেদ্ধ অবস্থায় ডিম ফ্রিজে রাখলে ডিমের সাদা অংশ শুকিয়ে যেতে শুরু করে এবং ডিমের গায়ে ফাটল ধরে। ফলে ডিমের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া ঢুকে যায়। এছাড়াও ডিমের স্বাদও বদলে যায় এবং ডিমের সাদা অংশটি রবার ব্যান্ডের মতো শক্ত হয়ে যায়। তাই তো শরীরকে সংক্রমণের হাত তেকে বাঁচাতে ফ্রিজে ডিম রাখা চলবে না।

২. দুগ্ধজাত উপাদান:

২. দুগ্ধজাত উপাদান:

দুধ দিয়ে বানানো কোনও কিছুই ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। যেমন ধরুন, ফ্রিজে দুধ রাখলে তা দইয়ের মতো হয়ে যায়। আবার, চিজ ফ্রিজে রাখলে তারও স্বাদ এবং আকারের পরিবর্তন হয়।

৩. ভাজাজাতীয় খাবার:

৩. ভাজাজাতীয় খাবার:

ভাজাভুজি খেতে ভালবাসেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তবে যে কোনওরকম ভাজা, তা সে চপ হোক বা ফ্রেঞ্চফ্রাই, চেষ্টা করুন গরম গরম খেয়ে নিতে। ভুলেও এই ধরণের খাবারগুলি ফ্রিজে রেখে পরে খাবেন না। কারণ এই ধরণের খাবারগুলি বাসি অবস্থায় খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ে।

৪. কার্বোনেটেড পানীয়:

৪. কার্বোনেটেড পানীয়:

ফ্রিজে থরে থরে সাজানো কোল্ড ড্রিঙ্ক। মনের ইচ্ছায় যখন খুশি পান করলেই হল। কিন্তু এমনটা রলে নিজের মৃত্যুকেই কাছে টেনে আনবেন। কারণ কোল্ড ড্রিঙ্ক বেশিদিন ফ্রিজে রেখে দিলে তাতে অ্যালুমিনিয়াম জাতীয় পদার্থ মিশে যায় এবং কোল্ড ড্রিঙ্কে উপস্থিত সোডা আরও বিষাক্ত হতে শুরু করে। তাই কোল্ড ড্রিঙ্ক পান করার ইচ্ছা হলে কেনার পরপরই খেয়ে নেবেন। খুব বেশিদিন ফ্রিজে রেখে পান করবেন না।

৫.রান্না করা পাস্তা:

৫.রান্না করা পাস্তা:

ব্যস্ত জীবনে রান্না করার সময় কই! তাইতো এক সপ্তাহের খাবার রান্না করে ফ্রিজে রেখে একটু একটু করে খেলেই হল। আর যদি বেশী পরিমাণে পাস্তা, নুডলস রান্না করে রাখা যায়, তাহলে তো কথাই নেই। সত্যি যদি আপনার জীবন এমন নিয়মের দাস হয়, তাহলে কিন্তু খুব মুশকিল। কারণ পাস্তা বা ময়দাজাত খাবার বেশীদিন ফ্রিজে রাখলে তার স্বাদ তো পরিবর্তন হয়েই যায়, সেই সঙ্গে তা খাওয়ার অযোগ্যও হয়ে যায়। ফলে এমন খাবার খেলে শরীরের নানারকম সমস্যা দেখা দেয়। তাই কোনও ভাবেই পাস্তা জাতীয় খাবার বেশি দিন ফ্রিজে রাখা উচিত নয়।

৬. যে সব ফল বা সব্জিতে জলের পরিমাণ বেশি:

৬. যে সব ফল বা সব্জিতে জলের পরিমাণ বেশি:

ফ্রিজে শসা, তরমুজ, খরমুজ, আপেল এগুলো তো রেখে দেওয়াই হয়, তাই না? এছাড়াও লেটুস, পালং এই ধরণের শাকও জায়গা করে নেয় ফ্রিজে। কিন্তু জানা আছে কি, এই ধরণের ফল বা সবজি একদমই ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। কারণ এই ধরণের খাবারে প্রচুর পরিমাণে জলীয় পদার্থ থাকে। তাই ফ্রিজে রাখার সঙ্গে সঙ্গে এগুলি বরফের মতো জমে যায়। আবার ফ্রিজ থেকে বার করে আনলে এগুলি নরম হতে শুরু করে। ফলে স্বাদ একেবারে নষ্ট হয়ে যায়।

৭. মাছ বা মাংস:

৭. মাছ বা মাংস:

সপ্তাহে একদিন বাজারে গিয়ে বেশী পরিমাণ মাছ মাংস কিনে আনা এখন রেওয়াজ। কারণ সারা সপ্তাহের ব্যস্ততায় কেউই আর প্রতিদিন বাজার যেতে পারে না। তবে কী জানেন, প্রতিদিন ফ্রিজে রাখা এই সব মাছ মাংস বারবার বের করে, বাকি থাকা পরিমাণ ফ্রিজে রাখতে রাখতে তাঁর খাদ্যগুন নষ্ট হয়ে যায়। আরও মারাত্মক বিষয় হল এই পদ্ধতির মাধ্যমে মাছ বা মাংসে প্রচুর পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধতে শুরু করে। ফলে এমন ধরনের খাবার খেলে শরীর খারাপ হতে কেউ আটকাতে পারে না।

৮. সবুজ শাক:

৮. সবুজ শাক:

ফ্রিজে কোনও দিন ধনেপাতা, পার্সলে পাতা রেখেছেন? দেখেছেন কি হয়? এমনটা করলে এক দুদিনের মধ্যে কেমন খয়েরি রঙের হয়ে যায় শাকগুলি। তাই তো এই ধরণের শাককে কখনও ফ্রিজে রাখা উচিত নয়।

English summary
There are some products that you must never refrigerate no matter what. Not all of your foods are freezer-friendly and it is important that you are aware of it in order to avoid the possible consequences.
Story first published: Wednesday, August 16, 2017, 12:40 [IST]
Please Wait while comments are loading...