HIV থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হলেন বিশ্বের প্রথম মহিলা! কীভাবে? জেনে নিন

এইচআইভি এমন এক সংক্রমণ, যা ধীরে ধীরে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। দেহের সবগুলো অঙ্গ ও তন্ত্রকেই অকেজো করে তোলে এবং শরীরে বিভিন্ন রোগের জন্ম নিতে সহায়তা করে। শরীরে কখন যে এই ভাইরাস বাসা বাঁধে, তা বোঝা মুশকিল। এমনকি এর উপসর্গগুলিও সহজে চিহ্নিত করা যায় না। তাই HIV নাম শুনলেই আঁতকে ওঠে মানুষ। একদিকে তো জীবন-মরণ সমস্যা, তার উপর রয়েছে নানা সামাজিক সংস্কার। ভারতীয় সমাজে এখনও পর্যন্ত HIV বা AIDS নিয়ে নানান ভুল ধারণা প্রচলিত।

First woman reported cured of HIV after stem cell transplant

এইচআইভি-র কোনও চিকিৎসা নেই, এমন মতামত এখনও পর্যন্ত লোকমুখে শোনা যায়৷ এরই মাঝে এল বিরাট সাফল্যের খবর৷ স্টেম সেল থেরাপির মাধ্যমে এইচআইভি থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন আমেরিকার এক মহিলা। এখনও পর্যন্ত গোটা বিশ্বে এইচআইভি-তে আক্রান্ত মোট তিনজন সুস্থ হয়েছেন৷

এইচআইভি আক্রান্ত ওই আমেরিকান মহিলার স্টেম সেল প্রতিস্থাপন করে রোগ সেরেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এই মহিলার চিকিৎসা করা হয়েছে। এমন এক ব্যক্তি স্টেম সেল দান করেছেন, যাঁর শরীরে এইচআইভির বিরুদ্ধে লড়ার জন্য প্রাকৃতিক ক্ষমতা আছে৷ এইচআইভি-তে আক্রান্ত এই রোগী আবার লিউকেমিয়াতেও আক্রান্ত ছিলেন। এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে আম্বিলিকাল কর্ড ব্লাড। এই পদ্ধতি একদমই নতুন। আম্বিলিকাল কর্ডের রক্ত প্রতিস্থাপনেই ওই মহিলার এইডস সেরেছে বলে দাবি চিকিৎসকদের।

লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত এই রোগীর কর্ড ব্লাড চিকিৎসা শুরু হয়। দেখা যায়, এতে মহিলার লিউকেমিয়া ও এইচআইভি দুই সমস্যাই কমেছে। মহিলাটি এখন দীর্ঘ ১৪ মাস ধরে ভাইরাস থেকে মুক্ত হয়েছেন এবং এইচআইভি অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি ছাড়াই তিনি জীবনযাপন করছেন।

এর আগেও দু'জন পুরুষ অ্যাডাল্ট স্টেম সেল থেরাপির মাধ্যমে সেরে উঠেছেন। অস্থিমজ্জা বা বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে এইডস থেকে সেরে উঠেছিলেন এই দু'জন। কিন্তু কর্ড ব্লাড প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এইডসের চিকিৎসা এই প্রথম। আন্তর্জাতিক এইডস সোসাইটির সভাপতি শ্যারন লিউইন জানিয়েছেন, এই নিয়ে তৃতীয়বার এই চিকিৎসার মধ্যমে এইচআইভি থেকে সেরে ওঠা সম্ভব হল। তবে মহিলাদের ক্ষেত্রে এটাই প্রথমবার। আম্বিলিকাল কর্ড বা নাভিরজ্জুর রক্ত প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এই প্রথমবার এইচআইভি চিকিৎসায় বড় সাফল্য এল।

২০১৩ সালে ওই মহিলার এইচআইভি ধরা পড়ে। তখন তিনি অ্যান্টিরেট্রোভিয়াল ওষুধের থেরাপিতে ছিলেন। এর চার বছর পরে তিনি লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হন৷ তাই অ্যান্টিরেট্রোভিয়াল থেরাপি চলার সময়েই কর্ড ব্লাড প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎকরা।

X
Desktop Bottom Promotion